২ জুলাই ‘ইউসিসি বিল ২০২৬’-এর খসড়া পেশ, বিধানসভায় পাস গুন্ডাদমন আইন
- The Conveyor
- 13 minutes ago
- 2 min read

কলকাতা, ২৯ জুন, ২০২৬: আগামী ২ জুলাই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ইউসিসি বিল ২০২৬’-এর খসড়া পেশ হবে। সোমবার বিধানসভার অধিবেশনে ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইউসিসি প্রণয়নের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী অগস্ট মাসেই সেই সুপারিশের ভিত্তিতে বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশ করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি চার সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশ জমা দেবে। সেই কমিটির সুপারিশ মেনেই এই বিল আনা হবে।
তবে আদিবাসী, কুড়মি-সহ যাঁরা প্রাচীন জনজাতি সম্প্রদায়ের, তাঁরা এই আইনের বাইরে থাকবেন। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, উত্তরাখণ্ড ও গুজরাতের মডেল অনুসরণ করেই এই ব্যতিক্রম রাখা হচ্ছে। বিশেষ এই কমিটির সদস্য থাকবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার, আইন বিশেষজ্ঞ, একজন শিক্ষাবিদ, একজন সমাজসেবী ও একজন অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি জেনারেল। বিল তৈরির ক্ষেত্রে গুজরাতের ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিল-২০২৬, অসমের ইউসিসি আইন এবং উত্তরাখণ্ডের ইউনিফর্ম সিভিল কোড আইন-২০২৪-কে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা ব্যক্তিগত আইন চালু থাকার পরিবর্তে গোটা রাজ্যে একটিই আইন কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েই এই বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন নিয়ে বিস্তৃত সমীক্ষা চালাবে কমিটি। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ, লিভ-ইন সম্পর্ক-সহ একাধিক বিষয়ে বিদ্যমান আইন ও বিধানের পর্যালোচনা করবে তারা। এ ছাড়াও সামাজিক ও আইনি প্রভাব, সাংবিধানিক প্রশ্ন এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা নিয়েও সুপারিশ করবে কমিটি।
মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতির সময় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল বিধায়কেরা ইউসিসি বিলের বিরোধিতা করেন। সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিল নিয়ে আপত্তি বা কোনও মতামত থাকলে তা সরাসরি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন কমিটির কাছে জমা দেওয়া যাবে। সমস্ত মতামত বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি হবে।

পাশাপাশি আজ বিধানসভায় রাজ্যে গুন্ডাদমন ও তোলাবাজি বন্ধ করার লক্ষ্যে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেনেন্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬ এবং বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি বিল ২০২৬ পাস হল। বিধানসভায় উত্থাপিত দুটি বিলের পক্ষে ১৭৬ জন সদস্য ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট পড়ে ৪১টি এবং ২০ জন সদস্য ভোটাভুটিতে অনুপস্থিত ছিলেন। ভোটদানে বিরত ছিল ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবির। এদিন কেন গুন্ডাদমন আইন প্রয়োজন, তার স্বপক্ষে বলতে গিয়ে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পূর্বতন সরকারের আমলে ‘সন্ত্রাসের’ বিবরণ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, এই বিলের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তদন্তকারী সংস্থা ও পুলিশকে এই বিলে দেওয়া হয়েছে ‘ব্যাপক’ ক্ষমতা, যাতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ করা যায়। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বা মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারে, এমন সব কাজই সমাজবিরোধী কাজের সংজ্ঞার মধ্যে আনা যাবে। যদিও বিরোধীদের তরফে বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি উঠেছে, তবে সরকার বিলটি দ্রুত পাস করিয়ে রাজ্যে কঠোর আইনের শাসন কায়েম করতে বদ্ধপরিকর।









Comments