খবর
রণক্ষেত্র ধর্মতলা, নতুন বিল আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনড় সিজেপি
কলকাতা, ২৪ জুলাই, ২০২৬: রণক্ষেত্র ধর্মতলা। আন্দোলনকারী ও পুলিশের সংঘর্ষে তুলকালাম ধর্মতলা। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা রাস্তায় নেমেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ধর্মতলার মোড়ে বিক্ষোভরত আন্দোলনকারী এবং পুলিশের মধ্যে গন্ডগোল শুরু হয়। যদিও পুলিশের দাবি, মিছিলে ‘বাইরের কেউ ঢুকে পড়েছে’, এই সন্দেহ এবং অভিযোগে নিজেদের মধ্যেই মারপিট শুরু করেছিলেন বিক্ষোভকারীরা। যার ফলে কিছু ক্ষণের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
মেডিক্যাল প্রবেশিকার (নিট) মতো পরীক্ষাগুলোয় স্বচ্ছতা ফেরানো এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল শুরু করে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। শুক্রবার, ২৪ জুলাই শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলে হেঁটেছেন বহু পড়ুয়া। সঙ্গে ছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরাও। শিয়ালদহ থেকে দুপুর ৩টে ১০ মিনিটে মিছিল শুরু হয়। পতাকা, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন হাতে সেই আন্দোলনে অংশ নেন শহরের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও তরুণ-তরুণীরা। শুক্রবার রাত জাগো কর্মসূচিরও ডাক দিয়েছে ছাত্রদের সংগঠন।
শুক্রবার মিছিলের শুরুতেই দেখা যায় এসএফআই, এআইডিএসও, আইসা-র মতো বাম ছাত্র সংগঠনগুলির পতাকা। ডোরিনা ক্রসিংয়ে মিছিল পৌঁছোনোর পরই ধুন্ধুমার শুরু হয়। শোনা যায়, ‘বহিরাগত’দের ঢুকে পড়ার অভিযোগও। পুলিশের দাবি, লাঠিচার্জ করেনি তারা। বিবদমান দুই পক্ষকে থামাতে লাঠি নিয়ে তেড়ে যাওয়া হয়েছে শুধু। পাল্টা পুলিশকে জুতো, বোতল ছোড়ে আন্দোলনকারীরা। ওঠে 'চোর চোর' স্লোগানও। কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ধর্মতলা ডোরিনা ক্রসিং। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল সংখ্যক পুলিশ ফোর্স ও RAF মোতায়েন করা হয়েছে। বিকেল প্রায় ৪টে থেকে ধর্মতলার রাস্তাগুলো বন্ধ ছিল। সন্ধ্যা পৌনে ৭টা নাগাদ সমস্ত রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার রাতে মোদী ভিডিয়ো বার্তায় জানান, ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করে নিট-কাণ্ডের অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য খসড়া বিল তৈরি করছে সরকার। শুক্রবার এই বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে আগামী সপ্তাহে সেই বিল সংসদে পাশ করানোর চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি। তার পরেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী। সেখানে তিনি লেখেন, “মাননীয় মোদীজি, আমাদের ছাত্রেরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি করছেন। আপনি মধ্যরাতের করুণ ভিডিয়ো দিয়ে তাঁদের বুদ্ধিমত্তাকে অপমান করবেন না।” তবে প্রধানমন্ত্রীর সেই ভিডিওর পরে সোনম ওয়াংচুক নিজের অনশন ভেঙেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণা পরেই শুক্রবার এই সংক্রান্ত খসড়া বিলে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। আগামী সপ্তাহে সংসদে পেশ করা হতে পারে এই বিল। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দোষীদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। সঙ্গে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানাও করা হতে পারে।
এদিকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনড় ‘ককরোচ’ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রায় দু’ঘণ্টা আলোচনার পর দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে বেরিয়ে ‘ককরোচ’ দলের প্রতিনিধিরা দাবি করেন, শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে কেন্দ্র। শনিবার তাদের সঙ্গে কেন্দ্রের আরও একটি বৈঠক হতে পারে। পাশাপাশি ‘ককরোচ জনতা’ দলের (সিজেপি) সংসদ অভিযানে ‘পুলিশি জুলুম’-এর অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া মামলা শুনতে রাজি সুপ্রিম কোর্ট। শুধু সংসদ অভিযান নয়, তার পরে ধারাবাহিক ভাবে নিট-কেলেঙ্কারি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হওয়া বিক্ষোভে পুলিশের ‘অত্যাচারের’ কথাও উল্লেখ রয়েছে আবেদনে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী সোমবার মামলাগুলি শোনা হবে।









