খবর
কলকাতায় ৪০ টি খাবারের দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড!
কলকাতা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: কলকাতা পুরসভার তরফে এখনও পর্যন্ত ৪০টি খাবারের দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। গত ১ সপ্তাহ ধরে কলকাতায় ১৭০টি রেস্তঁরা এবং খাদ্য বিপণিতে অভিযান চালাচ্ছে কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দফতর। অভিযানে প্রচুর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। অভিযান চলেছে বিভিন্ন রেস্তরাঁয়, এমনকি বিভিন্ন নামী শপিং মলের ফুড কোর্টেও। সব মিলিয়ে ৫৯২টি রেস্তঁরা এবং খাদ্যবিপণিতে (মিষ্টির দোকান, বেকারি-সহ) অভিযান চালানোর পরে প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ বলে দাবি কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডের।
কলকাতা পুরসভার কমিশনার জানিয়েছেন, এই অভিযানে ১২২৪ কেজি খাবার নষ্ট করা হয়েছে। বহু খাবারের নমুনা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, রেস্তোরাঁর পরিচ্ছন্নতা, কী কী উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, হাইজিন মেনে চলা হচ্ছে কি না এগুলিই দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা হয়নি বলেই রেস্তোরাঁগুলির লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রের খবর। রেস্তোরাঁগুলির রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করা হচ্ছে। ইঁদুর, আরশোলার উপদ্রব দেখা গিয়েছে। পচা মাংস, মাছ দেখা গিয়েছে। কোথাও কোথাও ছত্রাক ধরা মাংস-মাছ দেখা গিয়েছে। কোনওটিতে আবার বিরিয়ানির মশলায় পাওয়া গিয়েছে দেওয়ালের রং। পুর প্রশাসক স্মিতা আরও বলেন, 'সব জায়গায় ব্যাপকভাবে অভিযান চালানো হয়েছে। পচা খাবার বন্ধ করতে পুরো টিম কাজ করেছে। স্বাস্থ্যকর পরিবেশ না থাকায় অনেকের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। আগে এত লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হত না। এবার ফ্রি হ্যান্ড নিয়েছি।' স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, তালিকায় রয়েছে করিম’স, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক, মিষ্টিমুখ, আরসালান, শিমলা ফুড-সহ একাধিক মিষ্টির দোকান এবং বেশ কয়েকটি নামী রেস্তরাঁ ও খাদ্যবিপণির নাম।
লাইসেন্স সাসপেন্ড করলেও দুই সপ্তাহ মতো সময় দেওয়া হবে। তার মধ্যে সমস্ত শর্ত মানবে রেস্তোরাঁ। তারপরে ছবি তুলে পুরসভাতে পাঠানো হবে। তারপরে পুরসভার তরফে আবার ফুড সেফটি অফিসারকে পাঠানো হবে। তিনি সব খতিয়ে দেখে আবার রেস্তোরাঁ চালুর অনুমতি দেওয়া হতে পারে। পুজোর আগে যেন সমস্ত খাবারের দোকানে নিয়ম মেনে পরিচ্ছন্ন ভাবে খাবার তৈরি করা হয়, সেই ব্যাপারেই নিশ্চিত করতে চাইছে পুরসভা।









