রেকর্ড সংখ্যক আসন নিয়ে বিহারে জেডিইউ- বিজেপি জোট
- The Conveyor
- Nov 14, 2025
- 2 min read

কলকাতা, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫: শুক্রবার সকালে বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হতেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছিল রাজনৈতিক সমীকরণের নতুন রেখাচিত্র। সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু হওয়ার পর পোস্টাল ব্যালটেই ভাগ্যের দরজা খুলে যায় নীতীশ কুমার নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র জন্য। সময় যত গড়িয়েছে, ততই তা স্পষ্ট হয়েছে। বিহার বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৪৩। ম্যাজিক ফিগার ১২২। শুক্রবার সন্ধ্যায় পর্যন্ত জয় বা এগিয়ে থাকার নিরিখে এনডিএ-র ঝুলিতে ২০৭টি আসন, যা সরকার গঠনের জন্য দরকারি সংখ্যা (১২২)-র চেয়ে অনেক বেশি। এর মধ্যে নীতীশের দল জেডিইউ পেয়েছে ৮৪টি আসন। বিজেপি ৯৪টি। ফলাফল দেখে মনে করা হচ্ছে, জনসংখ্যার বিচারে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজ্য বিহারে এসআইআর-এর কোনও প্রভাব পড়েনি। সেই কারণেই এনডিএ সেখানে সফল।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে বিহারে প্রথম দফায় ভোট দিয়েছেন ৬৫.০৮ শতাংশ এবং দ্বিতীয় দফায় ভোট দিয়েছেন ৬৮.৭৬ শতাংশ। দু’দফা মিলিয়ে বিহারে মোট ভোটদানের হার ৬৬.৯১ শতাংশ। যা গতবারের তুলনায় ৯.৬২ শতাংশ বেশি। মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। বেশ কিছু কেন্দ্রে পুরুষের তুলনায় মহিলা ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখজনক হারে বেশি ছিল। অতীতে কখনই এই হারে বিহারের মানুষ ভোট দেননি। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এবারই বিহারে বিধানসভা ভোটে সবথেকে বেশি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি এবং এনডিএ৷ ১০১টি আসনে লড়ে বিজেপি একক ভাবে ৯০টির বেশি আসনে জয় কার্যত নিশ্চিত করে ফেলেছে৷ সামগ্রিক ভাবে এনডিএ জোট এগিয়ে দুশোর বেশি আসনে৷
ভোটের আগে নীতীশের অসুস্থতা নিয়ে নানা খবর ছড়িয়েছিল। বার্ধক্যজনিত কারণে নীতীশ আর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন কি না, সেই প্রশ্নও বিহারের হাওয়ায় ভাসছিল। প্রশ্ন যে শুধু বিরোধী আরজেডি বা কংগ্রেসই তুলেছিল, তা নয়। এনডিএ-র অন্দরেও বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। কিন্তু ৭৪ বছর বয়সি নীতীশ কুমার বুঝিয়ে দিলেন, এখনও বিহারের রাজনীতির অন্যতম ভরকেন্দ্র তিনিই।মাঝের কয়েক মাস বাদ দিলে ২০০৫ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত পটনার কুর্সি নীতীশের হাতেই থেকেছে। ২০ বছরে বহু রাজনৈতিক অদলবদল ঘটেছে, একাধিক বার জোট বদলে ভিন্ন ভিন্ন দল বা জোটের হাত ধরেছেন নীতীশ। তার জন্য তাঁকে ‘পল্টুরাম’ বা ‘পল্টুচাচা’ বলেও বিদ্রুপ করা হয়েছে। তবে তাতে নীতীশের রাজনৈতিক গুরুত্ব কমেনি। বিহারের শাসকজোটের দুই প্রধান দল দর কষাকষির পথে হাঁটে কি না, সে দিকেই এখন নজর দেশের। তবে সবমিলিয়ে নীতীশ ‘সুবিধাজনক’ অবস্থাতেই রয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ, আরজেডি আমলের ‘জঙ্গলরাজ’-এর বিপরীতে নীতীশের ‘স্বচ্ছ ভাবমূর্তি’ বরাবরই এনডিএ-র বড় অস্ত্র।
বিহারে ভোটপ্রচারের শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রীর মুখে ছিল ‘জঙ্গলরাজ’-এর কথা। মূলত, লালু জমানার কথা মনে করিয়ে দিয়ে আরজেডি-কে আক্রমণ করেছেন মোদী। এ বার পশ্চিমবঙ্গে ‘জঙ্গলরাজ’ খতম করার বার্তা শোনা গেল মোদীর মুখে। তাঁর সংযোজন, ‘গঙ্গা বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলায় পৌঁছেছে। বিহারই বাংলায় বিজেপির জয়ের পথ সুগম করেছে। আমি বাংলার ভাইবোনদেরও অভিনন্দন জানাই। এখন, আপনাদের সঙ্গে মিলে, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ থেকেও জঙ্গলরাজকে উপড়ে ফেলবে।’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংবললেন, বিজেপির পরবর্তী লক্ষ্য বাংলা। আজ তিনি বলেন, 'বিহার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে অরাজকতার সরকার গঠন করা হবে না। বিহারের যুবকরা বুদ্ধিমান। এটি উন্নয়নের জয়। আমরা বিহার জিতেছি। এখন বাংলার পালা।'









Comments