অযোধ্যার রামমন্দিরে দানের টাকা ও অলঙ্কার চুরির ঘটনায় ৮ জন গ্রেফতার, ইস্তফা ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাইয়ের
- The Conveyor
- 1 day ago
- 2 min read

২৬ জুন, ২০২৬: উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দানের কোটি কোটি টাকা নগদ ও মূল্যবান সামগ্রী (অলঙ্কার ও রত্ন) চুরির ঘটনায় আট জন অভিযুক্ত গ্রেফতার। অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদান চুরির অভিযোগের তদন্ত করছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT। তদন্তকারীদের একটি সূত্রের দাবি, রামমন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্ক্যানারে ছিলেন শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। এবারে আট জন অভিযুক্তের গ্রেফতারির পরেই ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চম্পৎ রাই। সেই সঙ্গে তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য (ট্রাস্টি) পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অনিল মিশ্র।
উল্লেখ্য, ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এ জমা পড়া প্রণামী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের তদন্তপর্ব শেষে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। তার পরে ‘সিট’-এর সুপারিশ মেনে বৃহস্পতিবার ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর তরফে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে আট জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন অন্যতম ট্রাস্টি কৃষ্ণ মোহন। তার ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে রাতেই আট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শুক্রবার আট অভিযুক্তের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘ভক্তদের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বরদাস্ত করা হবে না। সনাতন ধর্মের মূল্যবোধে আঘাত হানার বিরুদ্ধে শূন্য-সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণে আমরা বদ্ধপরিকর।’’
সূত্রের খবর, ‘সিট’-এর প্রাথমিক রিপোর্টে ১৭ জন ব্যক্তিকে ‘দোষী’ চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও রামমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত প্রায় দেড়শো সেবাদারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, রামমন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরে এঁদের অনেকেরই সম্পদ কয়েক গুণ বেড়েছে। মন্দিরে টাকা গোনার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের একাংশই এই চক্রে জড়িত ছিলেন। প্রণামী বাবদ যে টাকা জমা পড়ে, তা ব্যাঙ্কে জমা করেন রাম মন্দির কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ব্যাঙ্কে জমা পড়া টাকার হিসেব খতিয়ে দেখতে গিয়েই সম্প্রতি তাদের সন্দেহ হয়। সেই সন্দেহের বশেই দৈনিক প্রণামী বাক্স খালি করে জমা পড়া টাকা সংগ্রহের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। তখনই টাকা সংগ্রহের সময় বেশ কিছু গরমিল ধরা পড়ে। সাধারণত এক একটি প্রণামী বাক্সে ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা জমা পড়ে। কিন্তু পর পর কয়েকটি সপ্তাহে ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলের হিসেব মিলছিল না। এর পরই যে ঘরে টাকা গোনা হয়, সেখানে চুপচাপ কয়েকটি গোপন ক্যামেরা লাগানো হয়। তাতে টাকা সরানোর বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। পর পর কয়েক সপ্তাহের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, গণনার কাজে যুক্ত একজন কর্মী ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে পড়তেন। তখনই অন্য আর একজন নোটের বান্ডিল সরিয়ে নিয়ে জামাকাপড়ের ভিতরে লুকিয়ে ফেলতেন। চুরির টাকা মন্দির চত্বরের বাথরুমের ভিতরে লুকিয়ে রাখত অভিযুক্তরা৷ পরে সুযোগ মতো সেই টাকা মন্দির চত্বরের বাইরে নিয়ে গিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিত! সূত্রের খবর, ২০২৪ সালে রাম মন্দির খোলার সময় থেকেই এই চক্র সক্রিয় হয়েছিল। বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুনের মধ্যেই সিসিটিভি ক্যামেরায় ৭০টি চুরির ঘটনা ধরা পড়েছে। তদন্তকারীরা বেশ কয়েকজন ব্যাঙ্ক কর্মীরও নাম পেয়েছেন৷ ওই সন্দেহভাজন ব্যাঙ্ক কর্মীরা এবং আরও কয়েকজন সরকারি আধিকারিকদেরও কয়েকদিনের মধ্যে গ্রেফতার করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই বিতর্কের মাঝেই নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিলেন শিবসেনা (UBT) সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তাঁর দাবি, রাম মন্দির নির্মাণের জন্য শিবসেনার পক্ষ থেকে দেওয়া ৪ কেজির রুপোর ইট এবং ১ কোটি টাকার অনুদানের কোনও সরকারি রসিদ এখনও পাওয়া যায়নি। এমনকী সেই ইঁট বা টাকার স্ট্যাটাস এখনও অজানা। তিনি এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত দাবি করেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত মন্দির ট্রাস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে রাউতের অভিযোগের জবাব দেয়নি। পাশাপাশি, ৪ কেজির রুপোর ইট নিখোঁজ হয়েছে— এমন অভিযোগও এখনও প্রমাণিত হয়নি।









Comments