top of page

রাজ্যের নতুন আরও ১২টি ঐতিহ্যবাহী পণ্য জিআই রেজিস্টার্ড তালিকার অন্তর্ভুক্ত হল

কলকাতা, ২৭ জুন, ২০২৬:; জিআই বা ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃতি আদায়ের দৌড়ে গোটা দেশের মধ্যে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল পশ্চিমবঙ্গ। ভারত সরকারের জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (GI) রেজিস্ট্রির তালিকায় একসঙ্গে রাজ্যের ১২টি ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও শিল্পের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। শুক্রবার ভারত সরকারের জিওগ্রাফিক্যাল আইডেন্টিফিকেশন ওয়েবসাইটের রেজিস্ট্রার্ড তালিকায় রাজ্যের ১২টি নতুন ঐতিহ্যবাহী পণ্যের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

নতুন জিআই স্বীকৃতি প্রাপ্ত পণ্যের তালিকায় রয়েছে বীরভূমের শান্তিনিকেতনের বাটিক এবং শান্তিনিকেতনের একতারা। এছাড়া বাঁকুড়া থেকে বেলিয়াতোড়ের মেচা সন্দেশ, হটোগ্রামের শাঁখা শিল্প ও বিক্রমপুরের বেঙ্গল সিঙ্গিং বোল, হুগলি থেকে বলাগড়ের নৌকা ও জনাইয়ের মনোহরা, চন্দনগরের জলভরা, কলকাতার কলকাত্তি গয়না, পুরুলিয়ার লাক্ষা, মুর্শিদাবাদের সিল্ক, মালদহের আশাপুরের বেগুন এবং পূর্ব বর্ধমানের নতুন গ্রামের কাঠের পুতুল। দার্জিলিং চা দিয়ে ভারতের বুকে জিআই আন্দোলনের যে ইতিহাস এই রাজ্য শুরু করেছিল, আজ তা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেল। এই অভূতপূর্ব সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি বিভাগ (DSTBT)। বাংলার এই গৌরবময় যাত্রায় শুধু রাজ্য সরকারই নয়, কেন্দ্রীয় স্তরের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও আধিকারিকদের যৌথ সহযোগিতা এই সাফল্যকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

এই গোটা জিআই আবেদন প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস চেয়ার অধ্যাপক পিনাকী ঘোষ। তাঁর নেতৃত্বে গবেষক দল পশ্চিমবঙ্গের মোট ১৫টি ঐতিহ্যবাহী পণ্যের জন্য আবেদন করেছিল। তার মধ্যে ইতিমধ্যেই ১২টি সফলভাবে জিআই স্বীকৃতি অর্জন করেছে, যা রাজ্যের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। গবেষণা প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বীরভূমের গবেষক ও অধ্যাপক শুভদীপ মণ্ডল। তথ্য সংগ্রহ, ঐতিহাসিক নথি প্রস্তুত, সাংস্কৃতিক প্রমাণ উপস্থাপন এবং আবেদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

এই জিআই স্বীকৃতির প্রভাব শুধুমাত্র কিছু আইনি নথিপত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর আসল প্রতিফলন ঘটছে বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ অর্থনীতিতে। কোনও ভুয়ো বা নকল পণ্য যাতে বাংলার এই আদি শিল্পগুলোর নাম ভাঙিয়ে বাজার দখল করতে না পারে, তা নিশ্চিত করছে এই আইনি কবচ। এর ফলে একদিকে যেমন ক্রেতাদের মনে পণ্যের বিশুদ্ধতা নিয়ে আস্থা বাড়ছে, অন্যদিকে তেমনই গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, রপ্তানির সুযোগ এবং পর্যটন শিল্পের এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে।



 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page