রাজ্যের ভোটপর্ব সম্পন্ন, রেকর্ড ভোটদান, চ্যাম্পিয়ন কমিশন
- The Conveyor
- 2 days ago
- 3 min read

কলকাতা, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬: সব রেকর্ড চুরমার। প্রথম দফাকে ছাপিয়ে গেল দ্বিতীয় দফার ভোটদানের হার। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী দ্বিতীয় দফার ভোটদানের হার ৯২.৪৭ শতাংশ। স্বাভাবিকভাবেই এই সংখ্যা আরও বাড়বে। প্রথম দফায় আমি করেছিলাম ৯২.০৭ শতাংশ ভোটদান অব্দি। এদিন সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে পূর্ব বর্ধমানে। সবচেয়ে কম কলকাতা দক্ষিণে।
বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট চলাকালীন বিকেল ৩টে বাজতেই রাজ্যবাসী বিগত কয়েক দশকের রেকর্ড ধুলিসাৎ করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ৩টে পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনে ভোট পড়েছে ৭৮.৬৮ শতাংশ। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে বিকেল তিনটেতেই ভোটদানের হার ৮৬.৩৫ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে। ভোটের এই পরিসংখ্যান বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিশেষ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এর আগে ২০১১ সালের ঐতিহাসিক ‘পরিবর্তনের’ নির্বাচনে রাজ্যে সর্বোচ্চ ৮৪.৩৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
২০২৬ সালে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর পর দ্বিতীয় দফার এই ১৪২টি আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ২১ লক্ষ ৭৫ হাজার ২৯৯। তার মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৬৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ৩০৬ এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৪০ হাজার ২১৬২ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭৯২ জন। আবার আসনের দিক দিয়ে দেখতে গেলে দ্বিতীয় দফার ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে তফসিলি জাতি (এসসি)-র জন্য সংরক্ষিত রয়েছে ৩৪টি আসন এবং তফসিলি জনজাতি (এসটি)-র জন্য সংরক্ষিত রয়েছে একটি আসন। আয়তনে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র জোড়াসাঁকো, সবচেয়ে বড় কল্যাণী। তবে ভোটারের সংখ্যার ভিত্তিতে সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হুগলি জেলার চুঁচুড়া। সেখানে ২.৭৫ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। ভোটারের সংখ্যার নিরিখে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া। এই কেন্দ্রে ১.১৭ লক্ষ ভোটার রয়েছেন।
দ্বিতীয় দফার ভোটে সকলেরই নজর ছিল ভবানীপুরের দিকে। এই কেন্দ্রে লড়াই মমতা বনাম শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। সাধারণত ভোটের দিন সকালের দিকে বাড়িতেই থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাড়ি থেকেই ভোট সংক্রান্ত খবরাখবর রাখেন। কিন্তু এবারে রেওয়াজ ভেঙে ভোটের দিন সকাল থেকেই বুথ পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়েন মমতা। এদিকে প্রতিপক্ষ শুভেন্দুও সকাল থেকেই ভবানীপুরের বিভিন্ন বুথে বুথে ঘুরে বেড়ান। কালীঘাটে তিনি গেলে স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে সেখানে তৃণমূল সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। অশান্তির সৃষ্টি হলে শুভেন্দু সেন্ট্রাল ফোর্স ডেকে আনেন। কিছুক্ষন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এদিন ভোটের মাঝেই কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে জগদ্দলের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিশ্বজিৎ পাত্রকে সাসপেন্ড করা হলো। ফলতায় এক বুথে ইভিএম-এ বিজেপির বোতামে টেপ লাগিয়ে রাখার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য। এর পরেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল জানালেন, ইভিএম- এ কালো বা সাদা টেপ লাগানো থাকলেই সেই বুথে পুনর্নির্বাচন হবে। যদি কোনও বিধানসভা কেন্দ্রে যদি বেশি সংখ্যক বুথের ক্ষেত্রে টেপ লাগানোর ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে পুরো বিধানসভাতেই পুনর্নির্বাচন হবে।
দ্বিতীয় দফার ভোটের শেষবেলায় বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে ফোন করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার । বিশেষ পর্যবেক্ষককে বিশেষ নির্দেশ দেন সিইসি । জানিয়ে দেন, সন্ধে ৬টার পরও ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের লাইন থাকলে ভোটগ্রহণ অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের পরও যদি ভোটের লাইনে কেউ দাঁড়িয়ে থাকেন, তিনি ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। কমিশনের বক্তব্য, সন্ধে ৬টার পর ভোট দেওয়া যাবে না বলে অনেকে ভুয়ো খবর রটাচ্ছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ পর্যবেক্ষককে ফোন করে বিশেষ এই নির্দেশ দিলেন সিইসি।
এই দফাতেও ভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি হয়েছে। ক্ষোভ- বিক্ষোভ- গাড়ি ভাঙচুর প্রভৃতি হলেও উল্লেখযোগ্য কিছু অশান্তির খবর ছিল না। তার পর এই রায়দানের হার কিন্তু যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য একটি বিষয়। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত এক্সিট পোল অনুযায়ী বিজেপির এবারে ক্ষমতায় আসার সমূহ সম্ভাবনা। তবে আসল কথা বলবে আগামী ৪ মে, ফলপ্রকাশের দিন। প্রতিটি বুথে মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে ভোট দিয়েছেন একথা তো ঠিক, কাজেই যাই ফলাফল হোক না কেন, তা মানুষের মত, সেটাই মেনে নিতে হবে। যদি না ফলাফলের দিন গণনাকেন্দ্রে কোনও কারচুপি হয়। যদিও সেই ব্যাপারেও নির্বাচন কমিশন সকলকে আশ্বস্ত করেছে আগে থেকেই। দুই দফা মিলিয়ে যে ভোট সম্পন্ন হল এবার রাজ্যে, সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কৃতিত্ব সর্বাগ্রে স্বীকার করতে হবে। আমি আগের লেখায় বলেছিলাম তেমন তেমন অশান্তি না হলে নির্বাচন কমিশনকে ৯৫% মার্কস দেওয়া যেতেই পারে। এবং সেটাই হল। ফলে এবারের নির্বাচনে চ্যাম্পিয়ন কিন্তু নির্বাচন কমিশন।









Comments