রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়ল প্রথম দফায়

কলকাতা, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় কমিশন সূত্রে মেলা শেষ তথ্য অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ভোট পড়েছে ৯২.০৭ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান বদলাতে পারে। ফলে, অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই নির্বাচনের সর্বশেষ ভোটদানের হার সর্বকালীন রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুসারে তামিলনাড়ুতে ভোটর হার ৮৪.২৯ শতাংশ (পরিসংখ্যান গ্রহণের কাজ চলছে)। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুতে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে এ বার। দুই রাজ্যের ভোটারদের কুর্নিশ জানিয়েছেন তিনি। যে ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হয়েছে, সেগুলিতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল প্রায় ৮০ শতাংশ।
মোটামুটিভাবে শান্তিপূর্ণ ভোট হলেও একেবারে কিছুই যে ঘটেনি আজ তা নয়। নওদায় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর এলাকায় পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়, আর সেখান থেকেই দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একাধিকবার ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয় এলাকায়। গোলমালে আটক ৩। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে মারধর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিজেপি প্রার্থীকে কিল, চড়, ঘুষি মারার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশকে। বীরভূমের লাভপুরে আবার বিজেপির এজেন্টকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাতেও অভিযোগের আঙুল তৃণমূলের দিকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বীরভূমের লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভ্রমরকল অঞ্চলে ৬৮ নম্বর বুথে ঘটনাটি ঘটে। বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ। বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটে আসানসোলের রহমতনগর এলাকায় তাঁর গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। আরও একটি ঘটনা ঘটেছে। বুথ ছেড়ে ভোটকর্মীরা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে। বৃহস্পতিবার এমনই অভিযোগ উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা বিধানসভার ৯ নম্বর বুথে। সেখানে প্রিসাইডিং অফিসার-সহ সকল ভোটকর্মী মধ্যাহ্নভোজের জন্য একসঙ্গে বুথ ছেড়ে বেরিয়ে যান। বুথের প্রিসাইডিং অফিসার-সহ সদলবলে খেতে যাওয়া ভোটকর্মীদের সাসপেন্ড করে কমিশন। সেক্টর অফিসারও সেই সময়ে বাইরে ছিলেন বলে অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার হুগলির নির্বাচনী সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে আমিত শাহ দাবি করেন, প্রথম দফার গতিপ্রকৃতি বলে দিচ্ছে বাংলায় বিজেপি পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে। '২৯ তারিখ ভোটারদের স্পর্শ করলে বঙ্গোপসাগরে ফেলব।' হুগলির বলাগড়ের সভামঞ্চ থেকে এমনই হুঙ্কার দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন তিনি বলেন, ‘বাংলা মিডিয়ামে পড়া, বাংলা বলা, বাংলার মাটির লোক মুখ্যমন্ত্রী হবেন। অন্য কেউ হবেন না।’ এদিকে, এত বিপুল ভোট পড়ার ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। চৌরঙ্গীর এক প্রচার সভা থেকে বলেন,'জানেন এত কেন ভোট পড়ছে? ৬০ লক্ষের মধ্যে ৩২ লক্ষের নাম আমি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে তুলেছি। এরই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘তবে মানুষ জানেন এটা তাঁদের অধিকার রক্ষার লড়াই। তৃণমূলকে ভোট না-দিলে আমও যাবে, ছালাও যাবে। তার অধিকার, সম্পত্তি, ঠিকানা, ব্যবসা যাবে।' আজ রাজ্যে ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাও। কৃষ্ণনগরে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে জিটি রোড এমসিকেভি থেকে শালকিয়া পর্যন্ত কয়েক কিমি রোড শো'তে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। হুডখোলা গাড়িতে সঙ্গে ছিলেন রাজ্য কমিটির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পাশাপাশি বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে এসে বেলুড় মঠে যান এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ছিল মানুষের ঢল। বেলুড় মঠ চত্বর নিশ্চিদ্র সুরক্ষা বলয়ে ঘিরে রাখা হয়।
এ দিন বিকেলে ভোট পরবর্তী বেশ কিছু নির্দেশিকা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোট শেষের পরে বুথে ক্যামেরার এসডি কার্ড খোলা যাবে না। শুধুমাত্র ক্যামেরা খুলে সেক্টর অফিসারের-এর তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। এসডি কার্ড খোলা হবে ডিসিআরসি- তে, এআরও -র উপস্থিতিতে। সব ভিডিয়ো ডেটা সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। ক্যামেরা সম্পূর্ণ অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত পোলিং পার্টি বা বিএলও কেউ বুথ ছাড়তে পারবেন না।
শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের ওয়েব কাস্টিং-এ ট্রায়াল রান শুরু। তিনটে শিফটে এই ট্রায়াল রান হবে। ২৪ ঘণ্টা মনিটারিং করার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশ পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকেরা উপস্থিত থাকবেন। এই ট্রায়াল রান পর্যবেক্ষণ করা হবে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর দিল্লি থেকে। এমনটাই খবর নির্বাচন কমিশন সূত্রে।









Comments