top of page

বাইক রালি বা মিছিল বন্ধ, ‘সায়লেন্স পিরিয়ড’ শুরু, ২৪x৭ হেল্পলাইন পরিষেবা চালু করল লোকভবন

কলকাতা, ২১ এপ্রিল, ২০২৬: ভোটের দুদিন আগে থেকে কোনও ধরনের বাইক রালি বা মিছিল করা যাবে না। নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের। মঙ্গলবার কমিশনের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, ভোটের দু’দিন আগে থেকে সন্ধে ছ’টা থেকে পর দিন সকাল ছ’টা পর্যন্ত কোনও বাইক চালানো যাবে না। বাইকের পিছনে কাউকে বসিয়েও নিয়ে যাওয়া যাবে না। তবে মেডিকেল এমার্জেন্সি বা বাড়ির কোন অনুষ্ঠান ক্ষেত্রে, অথবা স্কুলে শিশুদের নিয়ে যাওয়া- আসার ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যাবে। এমনটাই জানাল কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, র‌্যাপিডো কিংবা অন্যান্য অ্যাপভিত্তিক পরিষেবার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না। এর বাইরে কেউ বিধিনিষেধ থেকে ছাড় পেতে চাইলে তাঁকে স্থানীয় থানার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন হবে। প্রথম দফার ভোটের আগে মঙ্গলবার থেকেই ওই এলাকায় বাইক সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর হচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ২৭ এপ্রিল থেকেই ওই সমস্ত এলাকায় ওই বিধিনিষেধ জারি হবে। কমিশনের নির্দেশের পরেই এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কলকাতা পুলিশ।

‘সায়লেন্স পিরিয়ডে’ আইন মেনে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো কাজ করতে হবে। এই মর্মে সব থানার ওসি-কে সার্টিফিকেট দিতে বলল নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবারই রাত ৯টার মধ্যে সব জেলার পুলিশ সুপারকে ওই বিষয়ে সিইও দফতরে রিপোর্ট দিতে হবে। জানাতে হবে, ওসিরা সার্টিফিকেট দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, ভোট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে শুরু হয়, ‘সায়লেন্স পিরিয়ড’। জন প্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-র ১২৬ ধারায় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করার অধিকার রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এই আইন মোতাবেক, যাঁরা নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার নন এবং বাইরে থেকে এসেছেন, তাঁদের প্রচার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে (ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে) এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে। বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মীদের শনাক্ত করার জন্য এলাকার হোটেল, লজ, গেস্ট হাউস, ধর্মশালায় চেকিং করতে হবে। চেকপোস্টে নজরদারি বাড়াতে হবে। উদ্দেশ্য, জেলা ও রাজ্যের সীমানা দিয়ে যাতে কেউ বেআইনি ভাবে ঢুকতে না পারেন।

এই মর্মে সোমবার রাত থেকে দিঘা, দিঘা মোহনা এবং মন্দারমনি উপকূল থানার পক্ষ থেকে মাইকে প্রচার শুরু হয়েছে। সাফ বলা হয়েছে, বাইরের জেলার পর্যটকদের আজই দিঘা ছাড়তে হবে। পর্যটকদের বিকেল ৫টার মধ্যে এসব স্থান ছেড়ে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। ভোট চলাকালীন এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যেও কমিশনের এই নির্দেশ বলে জানানো হয়েছে।

কমিশন স্পষ্ট করেছে, এই সময় টিভি চ্যানেল বা রেডিয়োতে আলোচনায় অংশ নেওয়া অতিথি বা প্যানেলিস্টদের মন্তব্যও যেন কোনওভাবে ভোটারদের প্রভাবিত না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি, কোনও মতামত সমীক্ষা বা রাজনৈতিক বার্তাও এই সময় প্রচার করা যাবে না। একই সঙ্গে কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছে, ৯ এপ্রিল সকাল ৭টা থেকে ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ‘বুথফেরত সমীক্ষা’ (এক্সিট পোল) প্রকাশ নিষিদ্ধ। এই নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ দু’বছর পর্যন্ত জেল বা জরিমানা, অথবা উভয় শাস্তিই হতে পারে।

‘অবাধ ভয়মুক্ত বিধানসভা ভোট নিশ্চিত করতে’ হেল্পলাইন চালু করলেন রাজ্যপাল আরএন রবি। লোকভবনের তরফে নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে একটি ২৪x৭ হেল্পলাইন পরিষেবা চালু করার কথা জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য হিংসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও তার প্রতিকারের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে যে কোনও ভোটার বা নাগরিক তাদের অভিযোগ, আশঙ্কা বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিটি অভিযোগ সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের দিকেও নজর দেওয়া হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের উদ্দেশে আবেদন জানানো হয়েছে, 'গণতন্ত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে সক্রিয় ভাবে যোগ দিন এবং নির্ভয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।'



 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page