top of page

ভোটের শেষ লগ্নে এসে

কলকাতা, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬: আজই ছিল ভোট প্রচারের শেষ লগ্ন। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন দলীয় নেতারা তাঁদের শেষটুকু দিয়ে প্রচার সারলেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেষবেলায় বলেন, ৪ মে-র পরে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এই রাজ্যে আমাকে আসতেই হবে।’ দ্বিতীয় দফা ভোটে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মনোবল আরও চাঙ্গা করতে ইঙ্গিতবাহী বার্তা দিলেন তিনি। এর পরেই এআই সহায়তায় প্রণীত এক অডিয়োবার্তায় পশ্চিমবঙ্গবাসীর উদ্দেশে তিনি বললেন— ‘‘গণতন্ত্রের মন্দিরে বিজয়পতাকা ওড়ানোর এক অসাধারণ সুযোগ আপনাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়েছে।’’ ৭ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের সেই অডিয়োর সূচনায় মোদী পশ্চিমবঙ্গের যুবসমাজের ‘উন্নয়নের রোডম্যাপ’ তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, বাংলায় ভোটপ্রচারে তিনি অন্য ধরনের শক্তি অনুভব করেছেন। মনে হয়েছে যেন তীর্থযাত্রায় রয়েছেন।

সোমবার সকাল সকাল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের সাত বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের হয়ে শেষ জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সিপাই বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত জায়গায় দাঁড়িয়ে মঙ্গল পাণ্ডে আবেগে শান দিলেন তিনি। এদিন ব্যারাকপুর, ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, জগদ্দল-সহ একাধিক প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সভায়। প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মঙ্গল পাণ্ডে এবং নৈহাটির বড়মার ছবি তুলে দেন তাঁরা। তাতে আরও আপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।

ভোটের আগে শেষ প্রচার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এদিন সুলেখা মোড় থেকে মিছিল শুরু করেন মমতা। ভোটারদের উদ্দেশ্য়ে দেন বিশেষ সাবধানবাণী। তিনি বলেন, ‘ভোটের লাইনে সকাল সকাল ভোট দেবেন। ওরা অনেক লাইনে দাঁড় করিয়েছে। না হয় আর একটা লাইন দাঁড়িয়ে যাবেন। ভোট দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে আসবেন না। ভিভি প্যাড দেখবেন, যাকে ভোট দিলেন সেটাই পড়ল কিনা।' এদিকে রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কুরুচিকর মিমের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় পুলিশকে পদক্ষেপ করতে বলল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, ওই ‘মিম’টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে। তা নিয়ে কেউ কোনও অভিযোগ করেননি। তবে সেটি নজরে পড়তেই পুলিশকে পদক্ষেপ করতে বলেছে কমিশন। সূত্রের খবর, ওই ভিডিয়ো নিয়ে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা রুজু হতে পারে।

পাশাপাশি গত ২৩ মার্চ প্রচার শুরু করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ করলেন ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায়। এই ৩৬ দিনে কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত ১০০টি বিধানসভা কেন্দ্র ছুঁয়েছেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’।

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার বিধানসভা ভোটের আগেই লোক ভবনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছিলেন রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। এ বার সেই হেল্পলাইনের মেয়াদ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিল লোক ভবন। দ্বিতীয় দফার ভোটে তো বটেই, ভোটপরবর্তী পর্যায়েও পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য খোলা থাকবে লোক ভবনের হেল্পলাইন নম্বর। সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে লোক ভবনের তরফে জানানো হয়, আগামী ১০ মে পর্যন্ত নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে একটি ২৪x৭ হেল্পলাইন পরিষেবা চালু থাকবে। এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে যে কোনও ভোটার বা নাগরিক তাঁর অভিযোগ, আশঙ্কা বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিটি অভিযোগ সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

সামনের বুধবারই দ্বিতীয় দফার ভোট. তার আগে আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে আবারও নিজেদের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেদিল নির্বাচন কমিশন৷ জানিয়ে দিল, ‘দ্বিতীয় দফার ভোটে যে যত মস্তান থাকুক, যেই হোক কেউ কিছু করতে পারবে না। কমিশন এর কাছে সব কিছুর ওষুধ আছে।’ নির্বাচনের আবহে গোটা রাজ্যে চলছে কড়া তল্লাশি। রাস্তার মোড়ে মোড়ে গাড়ি-বাইকে চলছে নাকা তল্লাশি। সব মিলিয়ে উদ্ধার হয়েছে ৫১০.১০ কোটি টাকার সামগ্রী। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যে ২৭২৮টি ফ্লাইং স্কোয়াড রয়েছে। যে কোনও অভিযোগ পাওয়ার পরে ১০০ মিনিটের মধ্যে পদক্ষেপ করবে ফ্লাইং স্কোয়াডগুলি। এছাড়াও নাকা তল্লাশির জন্য ৩১৪২টি স্ট্যাটিক সার্ভেল্যান্স টিম রয়েছে।

দ্বিতীয় দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ উভয়েই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য মোটরবাইক ব্যবহার করবে বলে জানানো হয়েছে কমিশনের তরফে।

প্রতিটা দল এতদিন ধরে তাদের নিজের নিজের মত করে ভোটের প্রচার করেছে। মূলত তৃণমূল বনাম বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও বাং দল এবারে অনেকখানি মুসলিম ভোট কাটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আশা রাখছি সিপিএম ব্রিগেডের তরুণ তুর্কি কিছু খেল দেখাবে। কংগ্রেসও প্রথম দফায় কয়েকটা জায়গায় বেশ ভালো ফল করতে পারে বলে মনে হচ্ছে। সিট্ ও পেয়ে গেলে আশ্চর্য হওয়ার মত কিছু হবেনা। তবে যেভাবে ভোটে মানুষের অংশগ্ৰহণ ছিল প্রথম দফায়, তেমনই যদি দ্বিতীয় দফাতেও হয়, সেক্ষেত্রে কুর্সি বদলের সম্ভাবনা প্রবল। এসআইআর আতঙ্ক থাকলেও সবটাই যে সেই দিকেই টানবে, তা কিন্তু মোটেও নয়, কাজেই দ্বিতীয় দফায় মালুম পড়বে কেমন ভোট পড়ছে, তার পাশাপাশি রাজ্যের গতি- প্রকৃতি কোন দিকে বাঁক নিতে চলেছে।

এবারে দেখার, শেষ পর্বের ভোট কেমন কাটে, মানুষ আগের বারের অর্থাৎ প্রথম দফার মত স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারেন কি না। এবারেও যদি রেকর্ড সংখ্যক ,মানুষ ভোট দিতে পারেন, তবে নির্বাচন কমিশন কিন্তু লেটার মার্ক্স্ নিয়ে পাশ করে যাবে তা বলাই বাহুল্য। তেমন তেমন অশান্তিও যদি রুখে দিতে পারে তাহলে ৯৫% পার্সেন্ট মার্ক্স্ নিয়ে পাশ করে যেতেও পারে।



 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page