বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যু, ঘনাচ্ছে রহস্য

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬: বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যু। ঘনাচ্ছে রহস্য। বুধবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বই থেকে রওনা দেয় পাওয়ারের ফ্লাইট। সামনেই জেলা পরিষদের নির্বাচন। তারই প্রচারে বারামতী যাচ্ছিলেন অজিত। পাওয়ারের ফ্লাইটের পাইলট সম্ভাবী পাঠক পুনে বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সকাল ৮টা ১১মিনিটে। মুম্বই থেকে বারামতীর দূরত্ব ২৫৬ কিলোমিটার। ফ্লাইটে ৪৫ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়ার কথা। লিয়ারজেট-৪৫ সংস্থার ছোট আকারের ব্যক্তিগত ওই বিমানে (প্রাইভেট জেট) আট থেকে ন’জনের বসার জায়গা রয়েছে। বিমানটি ভেঙে পড়ে ৮টা ৪৩ মিনিট নাগাদ, ওড়ার ঠিক ৩৩ মিনিট পর। দুর্ঘটনায় অজিত-সহ বিমানে থাকা পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়েছে।
ওড়ার ২৪ মিনিটের মাথায় অজিতের বিমানটি আচমকা সঙ্কেত পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল। অজিতের বিমানটি প্রথম বারের চেষ্টায় বারামতীর রানওয়েতে নামতে পারেনি। এর পর এক বার চক্কর কেটে ফের অবতরণের চেষ্টা করেছিল। ৮টা ৪৩ মিনিট থেকে ওই বিমান পুরোপুরি নিশ্চুপ হয়ে যায়। আর কোনও সঙ্কেত সেখান থেকে আসেনি। এই সময়েই বিমানটি ভেঙে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০ কিলোমিটার দূরে দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিমানটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
পুনে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল পাইলটকে আবহাওয়া, বাতাসের গতি এবং দৃশ্যমানতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়। সেই সময়ে ৩০০০ মিটার অর্থাৎ তিন কিলোমিটার পর্যন্ত রানওয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। সোজা কথায়, অবতরণে কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু অবতরণের প্রস্তুতি শুরু করার পরেই পাইলট বলেন, ‘রানওয়ে দেখতে পাচ্ছি না।’ সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ‘গো অ্যারাউন্ড’ করতে বলা হয়। অর্থাৎ অবতরণ না করে আকাশেই চক্কর কাটতে শুরু করেন তিনি। এটাই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর। গো অ্যারাউন্ডের পরে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে ফের বিমানের অবস্থান জানতে চাওয়া হয় সম্ভাবীর কাছে। সেই সময়ে ফের তিনি অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান। বলেন, এ বার রানওয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। কোনও অসুবিধা নেই। ঘড়িতে তখন ৮টা ৩৪ মিনিট। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয় পাইলটকে। কিন্তু আচমকাই চুপ করে যান পাইলট। ল্যান্ডিং ক্লিয়ারেন্সের কোনও রিডব্যাক দেননি তিনি। বিমান থেকে আর কোনও সিগন্যালও পাঠানো হয়নি বলে জানিয়েছে ডিজিসিএ। অজিত ছাড়াও মৃতদের তালিকায় রয়েছেন এনসিপি নেতার দুই নিরাপত্তাকর্মী, দু’জন বিমানকর্মী (এক জন পাইলট, অপর জন ফার্স্ট অফিসার)।
পাওয়ারের ফ্লাইট তখন বারামতী বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। এক কিলোমিটারের একটু বেশি উচ্চতা দিয়ে উড়ে চলেছে। গতি ঘণ্টায় ২৩৭ কিলোমিটার। ফ্লাইটের সব সিগন্যাল আচমকাই বন্ধ হয়ে গেল। এখানেই ঘনাচ্ছে রহস্য। পাইলট হঠাৎ চুপ করে গেলেন কেন? এই দুর্ঘটনায় সব দেহই মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে—অজিত পওয়ারের দেহ কীভাবে শনাক্ত করা হল? ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনই বা পড়ল না কেন? কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁর কবজির ঘড়ি থেকেই অজিত পওয়ারের দেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আরও একটু গুরুত্ব দেওয়া কী উচিত ছিল না? দুর্ঘটনার পরে খবরে জানা গিয়েছিল, মে ডে কল করেছিলেন পাইলট। পাইলট ল্যান্ডিং ক্লিয়ারেন্সের রিডব্যাক দেননি বলেও জানানো হয়েছে। এই নিয়েই বেঁধেছে গন্ডগোল। এমন কেন হবে? পাইলট হঠাৎ চুপ করে গেলেন কেন?









Comments