নতুন নাম ও প্রতীক পেলেও নব্য রাজনীতির প্যাঁচ পয়জারে উপনির্বাচনে ধরাশায়ী মমতাপন্থী বা কালিঘাটপন্থী তৃণমূল

কলকাতা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের পরিচিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করার পর দুই শিবিরকেই নতুন নাম ও প্রতীক বেছে নিতে বলা হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের তরফে। সেই প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করেছে কমিশন। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির আগামী উপনির্বাচনে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে লড়বে। তাদের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ হয়েছে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ চিহ্ন। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক হল 'খাম'। নির্বাচন কমিশনের জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এবার প্রথম এমন উপনির্বাচন হতে চলেছে, যেখানে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক থাকবে না। ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের পথচলা শুরু হওয়ার পর থেকে জোড়াফুলই ছিল দলের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক পরিচয়। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে ২০২৬ সালের আসন্ন উপনির্বাচনে সেই পরিচিত প্রতীকের পরিবর্তে দুই শিবিরকে সম্পূর্ণ নতুন প্রতীকে ভোটে নামতে হবে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রের বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, প্রথমে শিবসেনা, তারপর এনসিপি এবং এখন তৃণমূল কংগ্রেস-প্রতিবার একই কায়দায় বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন এক হয়ে রাজনৈতিক দলকে ভাঙার কাজ করছে। রাহুল আরও বলেন, ভোট চুরি। সরকার চুরি। এখন পার্টি চুরি—এগুলি আমাদের গণতান্ত্রিক পতনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।' লোকসভার বিরোধী দলনেতা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, 'নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হল জনাদেশকে রক্ষা করা, কিন্তু উল্টে তারা সেই শক্তিগুলিকে সাহায্য করছে, যারা জনগণের রায়কেই উল্টে দেয়। এই লড়াই শুধু মমতা ব্যানার্জির নয়। এটি প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং প্রতিটি ভোটারের লড়াই, যারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়।' অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের খোঁচা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ঘাসফুল কেড়ে নিয়ে আসলে প্রধানমন্ত্রী জন্মদিনের উপহার দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশিকা জারি করে নির্বাচন কমিশন। সেখানে বলা হয়, নেতৃত্বের বিবাদ পুরোপুরি না মেটা পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের বিবদমান দুটি গোষ্ঠীর কেউই 'সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' নাম বা দলের 'জোড়া ঘাসফুল' প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। ফ্রিজ করে দেওয়া হয় নাম ও প্রতীক।
এদিকে দলীয় নাম-প্রতীক যাবার সঙ্গে সঙ্গে এ বার নন্দীগ্রামে নিজের প্রার্থীও খোয়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র দেখা করার একটি ছবি সামনে এসেছে। তখন থেকেই জল্পনা চলছিল। অবশেষে শুক্রবার লড়াই থেকে নাম তুলে নিলেন তিনি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবেন তিনি। তারপর পরই নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান গ্রেফতার হয়ে যান। শুক্রবার পুরোনো একটি খুনের মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। স্বাভাবিকভাবেই কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেফতারের ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। পাশাপাশি রেজিনগর কেন্দ্রের মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীও মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিতে পারেন বলে খবর। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেননি। আগামী কাল অর্থাৎ শনিবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। কাল মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিতে পারেন তিনি। রবিউল বলেন, 'ভোট করেন কর্মীরা। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে ভোটারদের কাছে প্রতীক চেনানোটা তাঁদের কাছে বড় প্রতিবন্ধকতা। ফলে তাঁরা ভোটে প্রার্থী না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের পরামর্শ মেনে ভোটে প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে দিদিকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) শ্রদ্ধা ও সম্মান করি। রাতে তাঁকে ফোন করে কর্মীদের কথা জানাব। এর পরে তিনি কী জানাচ্ছেন, সেই মতো পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।' শুরু জল্পনা।
প্রতীক-বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংশ্লিষ্ট মামলায় যুক্ত করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। শীর্ষ আদালত সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চেই এই মামলার শুনানি হতে পারে।









Comments