মাঠে রইলেন মমতাপন্থী তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী

কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে উপনির্বাচনে লড়ছেন মমতাপন্থী তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। শনিবার সকালে তিনি রেজিনগরের উপনির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন। বেলা গড়াতেই মমতা শিবিরের প্রার্থী রবিউল ঘুরে দাঁড়ালেন। দুপুর নাগাদ জানিয়েছেন তিনি প্রার্থী পদের মনোনয়ন তুলে নিচ্ছেন না। ফলত, রেজিনগরে উপনির্বাচনের মহারণে মমতা শিবিরের তরফে প্রার্থী রয়েছেন।
উপনির্বাচনের প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের সময় ছিল শনিবার বিকেল ৩টে পর্যন্ত। রবিউল জানিয়েছেন, মমতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তার পরেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছেন। সূত্রের খবর, রবিউলের প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের খবর জানার পরেই দলনেত্রী ফোন করেন তাঁকে। ভোটের ময়দান না ছাড়ার অনুরোধ করেন মমতা। ফোনে দীর্ঘক্ষণ তাঁদের কথা হয়। শেষ পর্যন্ত প্রার্থিপদ না ছাড়ার জন্য রবিউলকে রাজি করান মমতাই। এই ঘটনা ঘিরে ফের একবার টানাটান উত্তেজনার মধ্যে রেজিনগরের ভোট। শনিবার বেলা গড়াতে রবিউল বলেন,‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো লড়াই করব। আমরা আগেও অনেক নির্বাচন করেছি। অল্পকর্মী নিয়ে হলেও লড়াই করব। কর্মীরা সামলে নেবে।’
রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন রয়েছে ৬ অক্টোবর। ফলঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর। তৃণমূলের দুই শিবিরই উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী দিয়েছে। শুক্রবারই নন্দীগ্রামের মমতা তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখাও করেছিলেন। সেই ঘটনার পর মমতা কংগ্রেসকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কংগ্রেস প্রার্থী তারপরই গ্রেফতার হয়ে যান। বিধানসভার উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস টিকিট দিয়েছিল মিলন প্রধানকে। শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করতেই মিলনকে গ্রেফতার করে চণ্ডীপুর থানার পুলিশ। ১৯ বছরের পুরোনো মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। পুলিশ সূত্রে খবর, মোট চারটি খুনের অভিযোগ ছিল। তার মধ্যে দু’টিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই শুক্রবার তাঁকে ধরেছে পুলিশ। এ ছাড়া, মিলনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, অস্ত্র আইনেও মামলা রয়েছে।
শনিবারই তাঁকে হলদিয়া মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানান, তাঁদের প্রার্থী লড়াইয়ের ময়দান ছাড়বেন না। কালীঘাট তৃণমূল এবং কংগ্রেসের তরফে মিলনের গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হল। শুভঙ্করের মতে 'এগুলো সাজানো মামলা। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর বাবার বিরুদ্ধেও তো অনেক অভিযোগ আছে। তারও তো তা হলে বিচার দরকার। নন্দীগ্রামের মানুষ জানে এগুলো সাজানো ঘটনা।'









Comments