২৬ হাজার চাকরি বাতিল! SSC মামলায় বহাল রায়, রাজ্য-সহ বিভিন্ন পক্ষের করা পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ

কলকাতা, ১৯ অগস্ট, ২০২৫: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রায় ২৬,০০০ প্রার্থীর চাকরি বাতিলের রায় বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। চাকরি বাতিল নিয়ে যত পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা পড়েছিল, তার সব ক’টি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। খারিজ রাজ্য এবং এসএসসির রিভিউ পিটিশনও। ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর চাকরিতে ফের বহাল হওয়ার রাস্তা প্রায় বন্ধ, দাবি করছে অভিজ্ঞ মহল।
২০২৫ সালের ৩ এপ্রিলের রায়ে যে বক্তব্য ছিল, তা পুনরায় উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা জানান, গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গেই আপস করা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার পবিত্রতা বজায় রাখতেই পুরো প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ পরীক্ষার আসল ওএমআর শিট পাওয়া যাচ্ছে না। বাগ কমিটি এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে পরিষ্কার যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে আদালতে শুনানির প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আগে রায়ে বদল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। তাদের আবেদন ছিল, এত শিক্ষকের চাকরি বাতিল হলে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। অনেক স্কুলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক শূন্য হয়ে যাবে। ফলে ক্ষতি হবে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের। গত ১৭ এপ্রিল পর্ষদের ওই আবেদন মেনে নেয় সুপ্রিম কোর্ট। শর্তসাপেক্ষে তৎকালীন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, দাগি অযোগ্যদের বাদ রেখে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকেরা স্কুলে যেতে পারবেন। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তাঁদের চাকরি বহাল থাকবে। তবে ৩১ মে-র মধ্যে রাজ্যকে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। যা দিয়ে দিয়েছে রাজ্য।
আর সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়ের পরে আন্দোলনরত চাকরিহারা শিক্ষকদের অন্যতম 'মুখ' চিন্ময় মণ্ডল বলেন, 'আমরা প্রচণ্ড হতাশ। চোরেরা আজ হাততালি দিচ্ছে। জীবন বিপন্ন হওয়ার মতো অবস্থা। সরকার কি এখনও খেলা দিবস পালন করবে? আমাদের জীবন নিয়ে খেলল সরকার। এসএসসিকে অবিলম্বে যোগ্য প্রার্থীদের জন্য পদক্ষেপ করতে হবে।' রাজ্য সরকার এবং এসএসসির সমালোচনা করে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেছেন, ‘এসএসসি ২০১ সালের রিভিউ পিটিশন বাতিল হয়ে গেল! নিরাপরাধ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা প্রকৃত বিচার পেল না! তাঁদের প্রত্যেকের সম্পূর্ণ দায়ভার রাজ্য সরকারকে নিতে হবে। এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ আরও তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠবে।’









Comments