হাওড়ায় গড়ে উঠবে 'কলকাতা আই', ৬০ ফুট উচ্চতার দুর্গা মূর্তি
- The Conveyor
- 22 hours ago
- 2 min read

কলকাতা, ১৩ জুন, ২০২৬: হাওড়া স্টেশনের কাছে লন্ডন আইয়ের ধাঁচে এবার গড়ে উঠবে ‘কলকাতা আই’। সরকার পরিবর্তনের পরই আলোর মুখ দেখতে চলেছে ‘কলকাতা আই’ প্রকল্প। তৃণমূল জমানায় প্রথমে গঙ্গার (হুগলি নদী) পশ্চিম পাড়ে শিবপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেন্সে গড়ার কথা হলেও পড়ে গঙ্গার পূর্ব তীরে মিলেনিয়াম পার্কে এটি গড়ে তোলার প্রস্তাব গৃহীত হয়। জমি জটের জন্য তা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে হাওড়ার গঙ্গাপাড়ের রামকৃষ্ণপুর ঘাটে সাড়ে চার একর জমিতে শুরু হতে চলেছে এই মেগা প্রজেক্টের কাজ, যা পূর্ব ভারতের পর্যটনের সংজ্ঞা বদলে দেবে। এর জন্য প্রায় সাড়ে ৪ একর জমি দিয়েছে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
টেমস নদীর দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে বিশাল নাগরদোলা। লন্ডনের পরিচয়। দুবাই বা বিশ্বের অন্যান্য বেশ কয়েকটি শহরেও রয়েছে এই ‘আই’ ৷ টেমস পাড়ের এই বিশাল নাগরদোলা এবার তৈরি হচ্ছে গঙ্গাপারে, হাওড়ায়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ (শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর)। হাওড়া স্টেশনের কাছে রামকৃষ্ণপুর ঘাটের সংলগ্ন নিজেদের সাড়ে ৪ একর জমি বাণিজ্যিক কারণে একটি বেসরকারি সংস্থাকে হস্তান্তর করেছে তারা। কয়েকশো কোটি টাকা ব্যয়ে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে এই বেসরকারি সংস্থাই এবার মস্ত বড় নাগরদোলাটি নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে। নকশা অনুযায়ী, এই জায়ান্ট হুইলটি হবে প্রায় ১৩৫ মিটার বা ৪৩০ ফুট উঁচু। এতে সাধারণ নাগরদোলার মতো খোলা আসন থাকবে না, বরং থাকবে সম্পূর্ণ বাতানুকূল (AC) আধুনিক কাঁচের ক্যাপসুল বা কেবিন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সেই ক্যাপসুল কেবিন থেকেই গোটা কলকাতা ও হাওড়া শহরের সৌন্দর্যের দেখা মিলবে। চাকাটি এতই ধীরগতিতে ঘুরবে যে, পুরো একপাক সম্পূর্ণ করতে সময় লাগবে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট। এই দীর্ঘ সময়ে কেবিনের ভেতরে বসে গঙ্গার জলরাশি, হাওড়া ব্রিজের স্থাপত্য এবং কলকাতার আকাশছোঁয়া অট্টালিকাগুলোর এক অভূতপূর্ব 'বার্ডস আই ভিউ' বা আকাশ-দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, নির্মাণকাজ শেষ হলে বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে কলকাতার আকর্ষণ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে এই ‘কলকাতা আই’।
এছাড়াও হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটে গড়ে উঠতে চলেছে প্রায় ৬০ মিটার উঁচু বিশাল মেটালের দুর্গামূর্তি। গঙ্গার তীরবর্তী উন্নয়ন প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে এই মূর্তি নির্মাণ হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। উমেশের দাবি, এই দুর্গামূর্তি শুধু ধর্মীয় ভাবাবেগের প্রতীক হবে না, বরং হাওড়ার পরিচয়ের নতুন নিদর্শন হয়ে উঠবে। মূর্তির চারপাশে আধুনিক আলোকসজ্জা, সৌন্দর্যায়ন এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি, মেটাল স্ট্রাকচারের মাধ্যমে একটি বিশেষ নকশা তৈরি করা হবে, যার দুই পাশে থাকবে বড় আকারের ধুনুচি। সন্ধ্যার আলোয় পুরো এলাকা এক নতুন রূপ নেবে বলে আশা প্রশাসনের। সৌন্দর্যায়নের মধ্যে দিয়ে দুর্গা মায়ের শক্তিকে দেখানোর জন্যই দুর্গামূর্তি করা হচ্ছে। খুব দ্রুত এই কাজ শেষ হবে। পুজোর সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যে এলে তিনিও এই দুর্গামূর্তি দর্শন করতে পারেন। এ ছাড়াও রামকৃষ্ণপুর ঘাটের কাছে একটি বড় হাসপাতাল করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।









Comments