সরকারি উদাসীনতায় ধুঁকছে শিল্পাঞ্চলের একাধিক টোল

একটা সময় ব্যারাকপুর মহকুমা অঞ্চলে টোল শিক্ষার জোয়ার ছিল। বরানগর, ব্যারাকপুর ও ভাটপাড়ায় টোল শিক্ষার প্রসার ঘটেছিল। টোলগুলোতে সংস্কৃত, আয়ুর্বেদ, ন্যায়, স্মৃতি, দর্শন, জ্যোতিষ, কাব্য, ব্যকরণ চর্চা হত। ভাটপাড়া তো সংস্কৃত চর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল। বহু পন্ডিতদের বসবাস ছিল এই ভাটপাড়ায়। তবে আজ সবই বিস্মৃতির অতলে। অভিযোগ, সরকারি উদাসীনতায় শিল্পাঞ্চল থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে একের পর এক টোল। আর যেগুলো টিকে রয়েছে, সেগুলোর অবস্থা বড় করুণ। ভাটপাড়ার রেল রাস্তায় একটি শতাব্দী প্রাচীন টোলের ধ্বংসাবশেষ পড়ে রয়েছে। তাছাড়া শ্যামনগর রাহুতার উত্তর প্রান্তিক সংস্কৃত শিক্ষা প্রচার সমস্থান নামক ২৪ বছরের প্রাচীন টোলটি-ও ধুঁকছে। টোলের কর্ণধার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় শাস্ত্রী জানান, একটা সময় ভাটপাড়ায় ২০ থেকে ২৫ টি টোল ছিল।
আজ সমস্ত টোল নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বরানগরে এবং ব্যারাকপুরে থাকা দুটি টোল কোনওরকমে টিকে রয়েছে। তাদের উত্তর প্রান্তিক টোল আবার ধুঁকছে। তবে টোলগুলোর পুনরুজ্জীবনে সম্প্রতি রাজ্য সরকারি উদ্যোগ নিয়েছে। সোমনাথ বাবু জানান, বঙ্গীয় সংস্কৃত শিক্ষা পরিষদের অধীনস্থ কিছু টোলের স্বীকৃতি এখনও রয়েছে। সেই টোলগুলোকে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। দু'তিনটে কিংবা তিন-চারটে টোলকে একত্রীকরন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা বাস্তবায়িত হলে আশা করা যাচ্ছে, টোল শিক্ষাকেন্দ্রগুলো ফের চাঙ্গা হয়ে উঠবে।









Comments