top of page

সরকারি আধিকারিকদের সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলা সংক্রান্ত নির্দেশিকার সামান্য পরিমার্জন


কলকাতা, ২১ মে, ২০২৬: বুধবার জারি হওয়া সরকারি আধিকারিকদের সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলা সংক্রান্ত নির্দেশিকার ব্যাখ্যা দিল নবান্ন। বৃহস্পতিবার কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর একটি নতুন ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, আগের নির্দেশিকার প্রয়োগক্ষেত্র সীমিত করা হচ্ছে।

নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের নিয়মিত (রেগুলার) দফতরগুলির আধিকারিক ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রেই ওই নির্দেশিকা প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি সরকার নিয়ন্ত্রিত বোর্ড, পুরসভা, পুরনিগম, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং অন্য ‘প্যারাস্ট্যাটল’ সংস্থার কর্মীরাও এই নির্দেশিকার আওতায় থাকবেন। ফলে প্রথমে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে সমস্ত সরকারি বা সরকার-পোষিত কর্মীদের উপর সংবাদমাধ্যমে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চাপানো হচ্ছে, তা অনেকটাই বদলে গেল। ছাড় দেওয়া হল শিক্ষাক্ষেত্রে।





বিরোধী রাজনৈতিক দল, আইনজীবী মহল এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশ অভিযোগ তোলে, এই নির্দেশিকা কার্যত সরকারি কর্মীদের বাক্‌স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করছে। আইনি মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওই নির্দেশিকার প্রয়োগক্ষেত্র সীমিত করা হল। তবে মূল নির্দেশিকা প্রত্যাহার করা হয়নি। অর্থাৎ আইএএস, ডব্লিউবিসিএস, ডব্লিউবিপিএস-সহ রাজ্য সরকারের স্থায়ী আধিকারিক ও কর্মীদের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদানের উপর কড়াকড়ি এখনও বহালই রয়েছে।



প্রসঙ্গত ১৯শে মে জারি করা এক নির্দেশিকায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরকারি কর্মচারীদের গণমাধ্যমের কাছে বিবৃতি প্রদান এবং তথ্য প্রকাশের বিষয়ে একটি কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। মুখ্যসচিবের এই নির্দেশনামাটি সমস্ত দপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে।


এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, সর্বভারতীয় পরিষেবা (All India Services), রাজ্য সিভিল সার্ভিস, পুলিশ পরিষেবা এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মচারীরা সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো প্রকার গণমাধ্যম কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।


গণমাধ্যমের কাছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো নথিপত্র বা তথ্য প্রকাশ করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।


এ ছাড়াও, সংবাদপত্রে লেখালেখি করা, টেলিভিশন বা রেডিওর আলোচনায় অংশগ্রহণ করা এবং সরকার কিংবা সরকারের নীতিমালার সমালোচনা করে কোনো মন্তব্য করার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।


কর্মচারীদের এমন কোনো মন্তব্য বা তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা কেন্দ্র সরকার বা অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে।


ওই নির্দেশিকায় সরকারি কর্মচারীদের ওপর একটি "সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা" আরোপ করা হয়েছে, যার আওতায় প্রকাশনা, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতা, সম্প্রচার, বিবৃতি কিংবা যোগাযোগের অন্য যেকোনো মাধ্যমের সাহায্যে রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি বা সিদ্ধান্তের কোনো প্রকার বিরূপ সমালোচনা করা থেকে তাঁদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে।


'সর্বভারতীয় পরিষেবা (আচরণবিধি) বিধিমালা, ১৯৬৮', 'পশ্চিমবঙ্গ পরিষেবা (সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য, অধিকার ও দায়বদ্ধতা) বিধিমালা, ১৯৮০' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি, ১৯৫৯'-এর উল্লেখ করে ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, এই আদেশটি রাজ্য সরকার, স্বশাসিত সংস্থা, বোর্ড, নিগম, সরকারি উদ্যোগ, সরকার কর্তৃক উল্লেখযোগ্যভাবে অর্থায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মচারী এবং রাজ্যের প্রশাসনিক কার্যাবলির সঙ্গে যুক্ত থেকে কর্মরত AIS সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কোনও বক্তব্য বা প্রকাশনা যদি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক বা বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবে তা শাস্তিযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আচরণবিধি কঠোর ভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এছাড়াও কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে রাজ্যের সমস্ত দফতরে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশন (সিভিসি)-এর নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক করল সরকার। চলতি সপ্তাহে অর্থ দফতরের তরফে জারি হওয়া একটি নির্দেশিকায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এত দিন সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে মূলত রাজ্যের নিজস্ব ‘ফিনান্সিয়াল রুলস’ অনুসরণ করা হত। কিন্তু সেই প্রক্রিয়াকে ঘিরে অতীতে একাধিক বার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের দাবি।


আগামী ৩০ মে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই নবান্নে বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা ও ডিএ নিয়ে আলোচনা হবে।



 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page