সনাতনীদের প্রতিমা ছোঁওয়া নিয়ে সিপি বললেন, এক্ষেত্রে পুলিশের কোনও ভূমিকা নেই

কলকাতা, ২৩ অক্টোবর ২০২৬: দুর্গাপুজোর বিসর্জন নিয়ে সরগরম রাজ্য। বিসর্জনের সময় কেবল সনাতনীরাই প্রতিমা ছুঁতে পারবেন। দশমীর সকালে বাজে কদমতলা ঘাটে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এসে এমনটাই বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সে প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিল কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “মাকে যাঁরা নিয়ে যাবেন, তাঁদের নাম পরিচয়ও আমি সিপি-কে বলে গেলাম, ওটাও আইডেন্টিফাই করে দিতে হবে। যাঁরা সনাতন ধর্ম মানেন, তাঁরাই প্রতিমাতে হাত দেবেন। এটার মধ্যে কোনও সাম্প্রদায়িকতা নেই।” কিন্তু কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে এই চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া পুলিশ কী ভাবে করছে, তা জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি জানান, প্রতিমা বিসর্জন মূলত পুজো কমিটিগুলোই পরিচালনা করে। এখানে পুুলিশের সরাসরি কোনও ভূমিকা নেই।
কলকাতার নগরপাল জানান, পুজো কমিটির বিসর্জনের যে প্রক্রিয়া, তাতে পুলিশের কোনও ভূমিকা নেই। পুলিশ শুধু আইনশৃঙ্খলার দিকই দেখে। তবে মুখ্যমন্ত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা মেনেই যে পুজো কমিটিগুলিকে চলতে বলা হয়েছে, তা-ও পরিষ্কার জানান অজয় নন্দ। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সিপি অজয় নন্দকে প্রশ্ন করা হয়েছিল,বিসর্জনের ক্ষেত্রে প্রচলিত সনাতন বা ধর্মীয় রীতিনীতির বাইরে অন্য কোনও বিশেষ নিয়ম বা সমস্যা ছিল কি না তার উত্তরেই তিনি উপরিল্লিখিত মতামত দেন। কথা প্রসঙ্গেই তিনি আরও একবার স্পষ্ট করে দেন, পুলিশের কাজ কেবল আইনশৃঙ্খলাই দেখা। সিপি জানান, বিসর্জনের সময় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা বা আইনগত ত্রুটি ঘটে থাকলে এবং পরবর্তীতে নির্দিষ্ট ধারায় অভিযোগ দায়ের হলে পুলিশ নিয়ম অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নগরপাল জানান যে, মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশ মেনেই কাজ করার জন্য পুজো কমিটিগুলিকে বলা হয়েছে এবং তারা সেই অনুযায়ীই সবটা পরিচালনা করছে। পুলিশ কমিশনারের মতে, প্রতিমা বিসর্জন দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব নিয়ম ও সনাতন পদ্ধতি মেনেই হয়ে আসছে এবং ঘাটের কুলিদের সঙ্গে কথা বলেই পুজো কমিটিগুলি তা সম্পন্ন করে। শুক্র এবং শনিবার কলকাতার নির্দিষ্ট ঘাটগুলিতে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মাইকে ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে চোরবাগান বিপর্যয়ের তদন্তে যে ঘোষণার কথা উঠে এসেছে, তাতে মূল অভিযুক্ত দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রথম জন সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু। দ্বিতীয় জন কুশল মজুমদার। আগেই সন্দেহভাজন দুই ঘোষককে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এক জনকে গ্রেফতার করা হলেও অপর জনকে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে সেই দ্বিতীয় ব্যক্তিও গ্রেফতার হন শুক্রবার সকালে। এদিকে কুশল মজুমদারের ফেসবুক পেজ থেকে একের পর এক পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে হাতে লেখা নোটে জানানো হয়েছে, সপ্তমীর সন্ধ্যায় কী ঘটেছিল চোরবাগানের মণ্ডপে। কেন তিনি ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে ঘোষণা করেছিলেন! প্রশ্ন উঠছে, গ্রেফতারির পরেও কী ভাবে ধৃতের ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের একটি সূত্র যদিও দাবি করেছে, গ্রেফতারের পরে কুশলের সমাজমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার কোনও সুযোগই নেই।









Comments