top of page

নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করায় আটক সিজেপি নেতারা, কেন্দ্রের বিরোধী দলগুলিও এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করছে

1 day ago
2 min read



দিল্লি, ১৩ অক্টোবর ২০২৬: মঙ্গলবার সব ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার নির্দেশিকা জারির ঠিক পরের দিনই নিরাপত্তা বেষ্টনী ও তালা ভেঙে যন্তর মন্তরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন সিজেপি-র শীর্ষস্থানীয় নেতারা। এই ঘটনায় সিজেপি-র যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা আরও ১২ জনকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। যার জেরে এদিন সকালে উত্তাল হয়ে ওঠে দিল্লির ওই চত্বর। আইন অমান্য ও সরকারি নির্দেশিকা ভঙ্গের অভিযোগে ওই সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। অপরদিকে সিজেপি নেতাদের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না আইনজীবীদের। তাঁদের ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিজেপি-র এই আকস্মিক প্রতিবাদ এবং দফায় দফায় নেতাকর্মীদের আটকের ঘটনায় জাতীয় রাজধানীতে নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাহুলের বাসভবনে চা-চক্রের আয়োজন করা হয়। সেখানে যোগ দেন সনিয়া গাঁধী, আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা, কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর, কংগ্রেস নেতা সচিন পায়লট, সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস, সমাজসৈনিক যোগেন্দ্র যাদব, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। বৈঠকশেষে সাংবাদিক সম্মেলন করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে জানান, সম্ভবত এই প্রথম বার দিল্লিতে এত জন (বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠনের সদস্য) জড়ো হয়েছেন। আর তা ঘটেছে দেশবাসীকে বাঁচানোর জন্যই। বিরোধী দলনেতা রাহুল জানান যে, এই লড়াইয়ে ভারতের বিচারব্যবস্থা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিরও ভূমিকা রয়েছে। আর সেই ভূমিকা তাঁরা পালন করবেন বলেই ভরসা রাখছেন তিনি। রাহুল মঙ্গলবার আরও বলেন, ‘‘সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যন্তর মন্তরে আর গণতান্ত্রিক মতামত তুলে ধরা যাবে না। আমরা এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করব।’’ তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা এই কাজ করেছেন— নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, জ্ঞানেশ কুমার— তাঁদের এ বার বুঝতে হবে যে, তাঁদের ঘিরে জাল গুটিয়ে এসেছে। সংবিধান ধ্বংস করে পালিয়ে যাওয়া সহজ নয়।’’ সকলেই রাহুলের সঙ্গে একমত।

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর থেকেই দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তর এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। বিক্ষোভকারীদের সেখানে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ এক আদেশের মাধ্যমে যন্তর মন্তরের জায়গায় রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং শাহদারার সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভের বিকল্প স্থান হিসেবে ঘোষণা করে। এদিকে এই নির্দেশের পক্ষে সওয়াল করলেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার কিরণ বেদি। তিনি বলেছেন, সরু রাস্তাঘাট এবং একাধিক সরকারি দপ্তর কাছাকাছি থাকায় কারণে যন্তর মন্তর চত্বর মোটেও বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য উপযুক্ত ছিল না। ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে কুরণ বেদি বলেন, গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের জন্য প্রতিটি শহরেই নির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজন। তিনি যুক্তি দেন যে, প্রশাসন যন্তর মন্তরকে বেছে নিয়ে ভুল করেছিল। কিরণ বেদি লেখেন, 'দিল্লি শহরে পুলিশি দায়িত্ব পালনের সময় আমি দেখেছি প্রতিবাদস্থল কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও তিন মূর্তি মার্গ (তৎকালীন মিসেস গান্ধীর বাসভবন) থেকে সত্তরের দশকের শুরুর দিকে লুটিয়েন্স দিল্লির রাস্তায়, এরপর আশির দশকে ইন্ডিয়া গেটে এবং পরবর্তীতে যন্তর মন্তরে।' বেদি, নগর পরিকল্পনাবিদদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি যুক্তি দেন যে, সরু রাস্তাঘাট, সংবেদনশীল ভবন ও অফিসের সান্নিধ্য এবং প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ‘কনট প্লেস’-এর কাছাকাছি অবস্থানের কারণে প্রতিবাদস্থল হিসেবে যন্তর মন্তর ছিল সবচেয়ে অনুপযুক্ত জায়গা। তিনি লেখেন, 'আমার মনে হয়, তৎকালীন প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেছিল এবং এত দিন ধরে তা সংশোধন করেনি। আর তার ফলাফল এখন সবার চোখের সামনে।'





 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page