লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাস হয়ে গেল প্রশ্নফাঁস-বিরোধী বিল, আগামীকাল রাজ্যসভায় পেশ

২৯ জুলাই, ২০২৬: হট্টগোলের মধ্যেই লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয়ে গেল প্রশ্নফাঁস-বিরোধী বিল। বুধবার দুপুরে হট্টগোল তুঙ্গে উঠলে বিরোধীরা ওয়াকআউট করে। এর পরেই ধ্বনিভোটে পাশ করানো হয় বিলটিকে। বৃহস্পতিবার এটি রাজ্যসভায় পেশ করা হবে। সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পাস হলে এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মিললে বিলটি আইনে পরিণত হবে। নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে আন্দোলনের মধ্যেই কঠোর আইন প্রণয়নের বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেইমতো ২০২৪ সালের এই সংক্রান্ত আইনে কিছু সংশোধনের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
বিল পাশের আগে এবং আলোচনার সময়ে সংসদে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে সরকার ও বিরোধী সাংসদদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। নিট ইস্যুতে স্লোগান দিতে থাকেন বিরোধী সাংসদরা। পরে তাঁরা ওয়াকআউট করেন। এর পরেই ধ্বনিভোটে বিলটি পাশ হয়। বিল পাশ হওয়ার পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা দিনের মতো অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। ওই সংশোধনী বিলে শাস্তি এবং জরিমানার অঙ্কটা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তাছাড়াও ২০২৪ সালের মূল আইনের থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংশোধনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে এই বিলে। রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির হাতে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের কার্যক্রমেও জোর দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানারও বিধান রয়েছে। সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে এই বিলে ন্যূনতম সাত বছরের জেল এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তদন্তপ্রক্রিয়া দু’মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। কোনও রায় বা নির্দেশের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চে আবেদন জানানোর সুযোগ থাকবে। আবেদনের তারিখ থেকে তিন মাসের মধ্যে তার নিষ্পত্তির বিধানও রয়েছে নতুন প্রস্তাবিত বিলে। মামলাগুলি পরিচালনার জন্য সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এক বা একাধিক বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে।
তবে বিলের প্রেক্ষিতে বিরোধীরা দাবি করেছেন, কীভাবে শাস্তি দেওয়া হবে, তার থেকে বেশি করে জোর দেওয়া উচিত প্রশ্নফাঁস রোখার উপরে। কিন্তু প্রশ্নফাঁস-বিরোধী বিলে তার ঠিক উলটোটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। বিরোধীদের অভিযোগ কিন্তু যুক্তিযুক্ত, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিভাবে প্রশ্নপত্র গঠিত এবং বন্টিত তথা পরীক্ষাপদ্ধতি কিভাবে আরও আঁটোসাঁটো করা যায়, সেই বিষয়েই জোর দেওয়া উচিত ছিল। যদিও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে, সেইমতো পরবর্তী নিট পরীক্ষা সংগঠিত হবে।









Comments