পুজোর আগেই শিল্পনীতি ঘোষণা করবে রাজ্য সরকার, শিল্পায়নের লক্ষ্যে জমি বিতরণের অনুষ্ঠান থেকে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: রাজ্য সরকার পুজোর আগেই শিল্পনীতি ঘোষণা করবে। বুধবার মিলন মেলা প্রাঙ্গনে শিল্পায়নের লক্ষ্যে জমি বিতরণের অনুষ্ঠান থেকে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন শিল্পের জন্য জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির উপর জোর দিয়ে বলেন, ‘জলে, হাওয়ায় শিল্প হয় না। পুজোর আগেই নিউ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি আসছে।’ একইসঙ্গে শিল্পপতিদের বাংলায় বিনিয়োগ করার বার্তা দিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, ১৫৫-৩৩৫ টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে। যদি কোথাও কেউ হুমকি দেয় বা তোলাবাজি করতে আসে, তাহলে এই নম্বরে জানালেই সরকার পদক্ষেপ করবে।
বিগত তৃণমূল সরকারের শিল্পনীতির তীব্র নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, 'আগের সরকারে আমি কিছুদিন ছিলাম। সবকিছুই ছিল নেগেটিভ। তাঁর জন্যই টাটাকে চলে যেতে হয়েছে।’ গোটা ভারত যখন আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে এগোচ্ছে, তখন মমতা ৫০০ টাকা দিয়ে ভাতার রাজনীতি করছিলেন বলেও তোপ দাগেন তিনি। তিনি মনে করিয়ে দেন, আগের সরকার শিল্প স্থাপনে 'ইনসেন্টিভ' শব্দটিকেই মুছে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ৫ হাজার কোটি টাকার একটা ছোট তহবিল করেছে ইনসেন্টিভের জন্য। পাশাপাশি তিনি আক্রমণ শানান বাম আমলকেও। রাজ্যকে শিল্পের বধ্যভূমি করার পিছনে কমিউনিস্টদের অবদান রয়েছে বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘কমিউনিস্টরা সব শেষ করে দিয়েছে। শুধু ইনকিলাব জিন্দাবাদ। হরতাল করে কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।’ তাদের জন্যই আসানসোল, চিত্তরঞ্জনও ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী এও জানান, রাজ্যে আম্বানিরা পাঁচ থেকে ছটি সেক্টরে কাজ করতে চান, খুব তাড়াতাড়ি তাঁদের একটি দলও আসবে বাংলায়। পাশাপাশি, বৃহস্পতিবার গৌতম আদানির হাসপাতালের ভূমিপুজো হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের 'উড়ান' স্কিমেও সই করা হবে সামনের সপ্তাহে। কলাইকুন্ডা, বালুরঘাট, পুরুলিয়া সহ মোট পাঁচটি বিমানবন্দর করা হবে পশ্চিমবঙ্গে। নতুন সরকারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমাদের সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করবে না, পুলিশের অপব্যবহার করবে না। ডাবল ইঞ্জিন সরকার, আসুন এখানে বিনিয়োগ করুন। এখানে আর তোলাবাজি হবে না। কেন্দ্রের কড়া নির্দেশ রয়েছে। হেল্পলাইন নম্বর চালু আছে। কোনও সমস্যা হলে এখানে জানান। আমাদের সচিবালয় ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে।” শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "যত বিনিয়োগ করবেন, আপনারা তার উপর ইনসেনটিভ পাবেন। যত কর্মসংস্থান করবেন, তার উপর ইনসেনটিভ পাবেন। পুজোর আগেই নতুন জমি নীতি ঘোষণা হবে। ১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগ করলে মিউটেশন, বিল্ডিং প্ল্যানের জন্য কোথাও যেতে হবে না। সব একজায়গায় হবে। একসঙ্গে আমরা কাজ করব। নিরাপত্তা দেব। প্লিজ আসুন।” তিনি আরও বলেন, “ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইনচার্জ বলেছিলেন, জুনপুটে মিসাইল কেন্দ্র হবে। আমি লেটার পাঠিয়ে দিয়েছি। আপনাদের কেউ ডিস্টার্ব করলে, আমাদের জানান। আপনাদের সঙ্গে মাসে দুবার ওয়ান টু ওয়ান মিট করব। আদানি হাসপাতালে আগামিকাল ভূমিপুজো। সবাই আসবেন। জিন্দাব, হর্ষ নেওটিয়ারা সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন আমার সঙ্গে। অনেক খনিজ সম্পদ আছে আমাদের, সুন্দরবন, মা গঙ্গা আছে, দার্জিলিং আছে।” এ দিন মিলনমেলা প্রাঙ্গণ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আসলে পশ্চিমবঙ্গে কীসের অভাব ছিল জানেন? সদিচ্ছার অভাব ছিল। অ্যালটমেন্ট লেটার পাওয়ার পরই কাজ শুরু করুন, যাতে মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে উদ্বোধন করতে পারেন। ছেলেমেয়েরা শুধু চাকরি করবে না, উদ্যোগপতি হবে। পশ্চিমবঙ্গ আগামিদিনে ঘুরে দাঁড়াবে। আত্মনির্ভর হবে পশ্চিমবঙ্গ।” মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “পশ্চিমবঙ্গে সংস্কার ফিরে এসেছে। ২৬ তারিখের আগে কাজ শুরু করুন, কারণ তারপর পিতৃপক্ষ শুরু হচ্ছে।"
বুধবারের এই অনুষ্ঠানে মোট ৩৩টি শিল্প সংস্থাকে জমি বিতরণ করা হয় যেখানে মোট প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং প্রায় ৬২ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে দাবি সরকারের। সেমিকন্ডাক্টর, ডিফেন্স ও অ্যামুনেশন, সোলার, ইলেক্ট্রিক্যাল ভেহিক্যালস, ফার্মা, স্টিল, ফুড প্রসেসিং, এমএসএমই, বস্ত্রশিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং - শিল্পের জন্য জমি দেওয়া হয়।









Comments