রাত পোহালেই মকর সংক্রান্তি, গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীদের ঢল- রয়েছে সরকারি তরফে সুব্যবস্থা
- The Conveyor
- Jan 13
- 2 min read

কলকাতা, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬: রাত পোহালেই মকর সংক্রান্তি। এই উপলক্ষে গঙ্গাসাগর মেলায় ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। কলকাতার বাবুঘাট থেকে কাকদ্বীপের লট নম্বর আট, সাগরমেলা স্পেশাল বাসের দীর্ঘ লাইন ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কজুড়ে। কাকদ্বীপ এবং সাগরের কচুবেড়িয়া জেটিঘাটে মাথায় বোঁচকা, ব্যাগপত্র নিয়ে পুণ্যার্থীদের লম্বা লাইন। প্রবল শীতের সঙ্গে দীর্ঘ পথের ক্লান্তি উপেক্ষা করেই বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা দেহাতি মানুষ এগিয়ে চলেছেন পুণ্যস্নানের আশায়। পুণ্যস্নানের মাহেন্দ্রক্ষণ শুরু হচ্ছে বুধবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট থেকে, যা চলবে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত।
বিকেলে মেলা অফিসে সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, গত পয়লা জানুয়ারি থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লক্ষ পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগর মেলায় এসেছেন। ইতিমধ্যেই মেলায় পৌঁছেছেন মন্ত্রী সুজিত বসু, মানস ভূঁইয়া, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, পুলক রায় ও বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। রাজ্যে ও দেশের গণ্ডি পেরিয়ে গঙ্গাসাগর মেলা এখন গোটা বিশ্বের কাছে অন্যতম স্থান হয়ে উঠেছে। যত দিন যাচ্ছে গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে উৎসাহ বাড়ছে সাধারণ মানুষদের মধ্যে। সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত পরিষেবা, রাস্তা-ঘাট, কঠোর নজরদারি, সবটাতেই জোর দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার। আজ, মঙ্গলবার গঙ্গাসাগরে আগত সকল পুণ্যার্থীকে শুভেচ্ছ জানিয়ে, এমনটাই মনে করালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এ বারের মেলায় পুণ্যার্থীদের পারাপারের জন্য মোট ২১টি জেটি ব্যবহার করা হচ্ছে। বাবুঘাট থেকে লট নম্বর আট পর্যন্ত ৩৬০০টি বাস, কচুবেড়িয়া থেকে সাগর পর্যন্ত আরও ৩০০টি বাস চলাচল করছে। পাশাপাশি ১৩টি বার্জ, ৪৫টি ভেসেল এবং ১২০টি লঞ্চের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ৫৪টি ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সাতটি অ্যাডভান্স টিম, ১৫টি অ্যান্টি-ক্রাইম প্যাট্রলিং টিম, ১৩টি মিসিং পার্সন স্কোয়াড, দু'টি কুইক রেসপন্স টিম, ১৬টি রিভার প্যাট্রলিং টিম এবং ২৮টি কো-অর্ডিনেশন টিম দিনরাত নজরদারি চালাচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া পুণ্যার্থীদের খোঁজেও প্রশাসন তৎপর। এখনও পর্যন্ত মেলায় হারিয়ে যাওয়া ৮৪ জন তীর্থযাত্রীর মধ্যে ৮০ জনকে পরিজনদের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া গিয়েছে। সোমবার পর্যন্ত দু'জন গুরুতর অসুস্থ তীর্থযাত্রীকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে কলকাতার এমআর বাঙুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অনেকেই আগামীকাল ভোরে ঠান্ডা তথা ভিড় থেকে বাঁচতে আজকে বিকেলে স্নান সেরে ফিরে যাচ্ছেন।
ধুলোর থেকে রেহাই দেবার জন্য এ বছর অ্যান্টি স্মগ মেশিনের মাধ্যমে বাতাসে জল ছিটানো হচ্ছে। সাগরমেলায় এমন উদ্যোগ এই প্রথম। মেলার ২ নম্বর রাস্তায় যেখানে বেশি ভিড়, সেখানেই গাড়িতে এই মেশিন বসিয়ে চলছে কাজ। সুন্দরবন উন্নয়ন দফতর থেকে এই বিশেষ যন্ত্র আনা হয়েছে। মেলা চত্বরে খোলা আকাশের নীচে আগুন জ্বালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা আছে।
অপরদিকে নতুন বছরের শুরুতেই বাংলার অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাগম গঙ্গাসাগর মেলায় দেখা মিলল এক ব্যতিক্রমী সাধুর। গঙ্গাসাগর মেলায় ভাইরাল হয়ে উঠেছেন ‘লাইট বাবা’। তাঁর উপস্থিতি ঘিরে ইতিমধ্যেই কৌতূহল ও উৎসাহের পারদ চড়েছে তুঙ্গে। লাইট বাবার চেহারা ও আচরণ অন্য সাধুদের থেকে একেবারেই আলাদা। ডান হাত নেই তাঁর। চোখে চশমা, সারা গায়ে ভস্ম মাখানো, সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়, তাঁর সারা শরীরে জড়ানো রঙিন আলো। রাতের অন্ধকারে সেই আলোয় তাঁকে দেখলে অনেকেরই মনে পড়ে যায় কোনও রকস্টারের মঞ্চ উপস্থিতি। সাধুর এই অভিনব রূপ মুহূর্তের মধ্যেই ভক্তদের নজর কেড়েছে।
৬০ লাখ লোকের ভিড়ে গঙ্গাসাগরে বিরাট সাফল্য প্রশাসনের। প্রশানাসনিকভাবে জানানো হয়েছে, মেলায় এখনও পর্যন্ত ২৫টি পকেটমারির ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে ২০টি দ্রুত ধরে ফেলেছে পুলিশ। অপরাধমূলক কাজকর্মের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ১১২ জনকে।









Comments