রাজ্যের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতনের তদন্তে কমিটি গঠন, স্বমহিমায় ফিরছেন দময়ন্তী সেন
- The Conveyor
- 14 minutes ago
- 2 min read

কলকাতা, ১৮ মে, ২০২৬: প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তের জন্য কমিটি তৈরির কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার সঙ্গে মহিলাদের উপর অত্যাচারের একাধিক ঘটনার তদন্তের জন্যও তৈরি করা হয়েছে আলাদা একটি কমিশন। ১ জুন থেকে কাজ শুরু করবে দু'টি কমিটিই।
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার চেয়ারপার্সন হচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। ওই কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি হচ্ছেন আইপিএস কে জয়রামন। যেখানে যেখানে নারীদের উপর অত্যাচারের ঘটনার ঘটেছে তার তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই কমিটির মাথায় বসেছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। ওই কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি হয়েছেন আইপিএস দময়ন্তী সেন। প্রসঙ্গত এককালে বাংলার 'সুপার কপ' দময়ন্তী সেন ছিলেন ২০১২ সালের চাঞ্চল্যকর পার্কস্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডের তদন্তকারী অফিসার। পার্কস্ট্রিট মামলার পর থেকে সেভাবে আর বড় কোনও মামলায় দেখা যায়নি দময়ন্তী সেনকে। কলকাতার সেন্ট্রাল ও নর্থ, দুটি জোনেই ডেপুটি কমিশনারের পদ সামলেছেন দময়ন্তী। কলকাতা পুলিশের প্রথম মহিলা জয়েন্ট কমিশনার হিসাবে পদে ছিলেন। বহু দিন কলকাতার ডিটেক্টিভ ডিপার্টমেন্টেও দায়িত্বভার সামলেছেন দময়ন্তী সেন। সাধুবাদ জানাই মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে। একজন দাপুটে মহিলা আইপিএস অফিসারকে যেভাবে অন্তরালে চলে যেতে হয়েছিল, তা কখনোই কাম্য ছিল না।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে যা যা দুর্নীতি হয়েছে, সেই সবকিছু নিয়ে তদন্ত করবে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্ত কমিটি। মিড-ডে মিল থেকে শুরু করে, আবাস প্রকল্প, একশো দিনের কাজ-সহ আর যা যা প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সবকিছুর তদন্ত করবে এই কমিটি। এছাড়াও সরকারি প্রকল্পের অধীনে যে যে কাজ নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে, তার তদন্ত করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মেম্বার সেক্রেটারি যাঁরা হয়েছেন, তাঁরা সরকারের পক্ষে সহযোগিতা করবেন। ২টি কমিটির কাছেই যাতে সবাই অভিযোগ জানাতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন থানা ও জেলায় স্পট ভিজিট করবেন দুই কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি। প্রয়োজনে জন শুনানির ব্যবস্থাও করা হবে। অভিযোগ কোথায়, কী ভাবে নথিভুক্ত করা হবে তা জানিয়ে দেওয়া হবে জনগণকে। হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে যে যে মামলা চলছে সেগুলি ছাড়া, বাকি মামলাগুলি দেখবে এই ২টি কমিটি। যে যে তথ্য ও নথি চাইবে কমিটি, সরকার সব দেবে। মুখ্যমন্ত্রী আশা করেছেন, ৩০ দিনের মধ্যে প্রস্তাব দেবে কমিটি ২টি। তার ভিত্তিতে বিএনএস-এর ধারা মেনে এফআইআর দায়ের করা হবে।
এর পাশাপাশি এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পার্ক সার্কাসে যান। আন্দোলন, বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে পুলিশকে আক্রমণ, আইনের রক্ষকদের উপর হামলা আর বরদাস্ত করা হবে না। সোমবার পার্ক সার্কাস থেকে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এর পর কোনও পুলিশকর্মীর গায়ে আঘাত হানলে আইন অনুযায়ী যত দূর যেতে হয়, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে তিনি যাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘যে কোনও রাজনৈতিক সংগঠন, ধর্মীয় সংগঠন পুলিশকে জানিয়ে তাদের কর্মসূচি করতে পারে। কিন্তু মানুষ জড়ো করে ধর্মীয় স্লোগান দেওয়া, পাথর ছোড়া... কাশ্মীরে, শ্রীনগরে পুলিশকে পাথর ছোড়া বন্ধ হয়েছে, আমার মনে হয় পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতাতেও এ বার বন্ধ হবে।’’ তিনি বলেন, "শুধু অ্যারেস্ট (গ্রেফতার) নয়, কনভিকশন (দণ্ড) করানো পর্যন্ত ক্লোজ মনিটরিংয়ের দায়িত্ব আমাদের হাতে থাকবে। আর পুলিশ বন্ধুদের বলব, আপনাদের প্রশিক্ষণের সময় যা বলা হয়েছে, বিএনএস যা বলে, আপনাদের ঊর্ধ্বতন যে নির্দেশ দেবেন, সেই অনুযায়ী ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করবেন।’’ তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ওসি, আইসি-র কাছে জানান। ওসি, আইসি-র বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ডিসি-র সঙ্গে দেখা করুন। ডিসি-র বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে লালবাজারে যান। না হলে মেল করুন। সিপি-র বিরুদ্ধে কিছু বলার থাকলে নবান্নে চিঠি পাঠান। আমরা দেখব। কিন্তু হাতে পাথর তুলে নেওয়া, ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে গন্ডগোল করা পশ্চিমবঙ্গে আর চলবে না।’’









Comments