top of page

মার্চ থেকেই ইরাবতী নদীর অতিরিক্ত জল আর পাকিস্তানে প্রবাহিত হতে দেওয়া যাবে না



১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার কয়েক মাসের মধ্যেই আবার বিরাট পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত। জম্মু-কাশ্মীর সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল ইরাবতী নদীর অতিরিক্ত জল আর পাকিস্তানে প্রবাহিত হতে দেওয়া যাবে না। জম্মু ও কাশ্মীরের জল সম্পদমন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা জানিয়েছেন, ৩১ মার্চের মধ্যেই শাহপুর কান্দি বাঁধের কাজ শেষ হয়ে যাবে। বাঁধটি তৈরি হয়ে গেলেই ইরাবতীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে পাঠানো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন। জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু নিয়ে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি সংযোগের অভিযোগ ওঠে। তারপর থেকেই ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করার পরে কাশ্মীর-পাঞ্জাব সীমান্তে ইরাবতীর বাঁধ তৈরির বিষয়টি জানিয়েছিল ভারত। জম্মু ও কাশ্মীরের মন্ত্রী বলেন, ‘কাঠুয়া এবং সাম্বা জেলা খরা অধ্যুষিত। এই প্রকল্পকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এটা তৈরি হবে কান্দি এলাকাতেই।’ পহেলগাঁও হামলার পরেই জম্মু ও কাশ্মীরে চন্দ্রভাগা নদীর উপরে চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজের গতি বাড়ানো হয়। ২০২৭-২৮ সালে ওই প্রকল্প চালু হয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী, ভারতের অধিকারভুক্ত নদীর তালিকায় ছিল ইরাবতী, শতদ্রু এবং বিপাশা। আর পাকিস্তানের অংশীদারিত্বে ছিল সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং বিতস্তা। ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর শাহপুর কান্দি বাঁধ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। এই বাঁধ তৈরি হলে পাঞ্জাবে মোট ৫০০০ হেক্টর এবং জম্মু-কাশ্মীরের ৩২,১৭৩ হেক্টর জমিতে সেচের সুবিধা হবে বলেই খবর। প্রকল্প কার্যকর করতে সহায়তা করবে পঞ্জাব সরকারও। বাঁধ তৈরি হলে তারা ২০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সক্ষম হবে। এমনিতে মাধোপুর নালার মাধ্যমে ইরাবতীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে প্রবাহিত হয়। তবে এবার পড়শি দেশকে ইরাবতীর অতিরিক্ত জল না দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত তা যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে। ইরাবতী নদীর জল যাতে বেশি করে কাজে লাগানো যায়, তাই এই বাঁধ তৈরির প্রকল্পে জোর দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁরই হস্তক্ষেপে দীর্ঘ সময় পরে এই প্রকল্পের কাজ পর্যালোচনা করে শুরু করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ভারতের সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করার প্রতিবাদে হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে নালিশ ঠুকেছে পাকিস্তান। মাঝে শুনানির দিন ধার্য করে দিল্লির জবাব তলব করেছিল হেগের আদালত। যদিও দিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা সিওএ-র এই আইনি প্রক্রিয়ার বৈধতা স্বীকার করে না। ফলে শুনানিতে অংশও নেয়নি তারা।


 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page