বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ২০ বছর পর বাংলাদেশের মসনদে বিএনপি, নতুন সরকারের নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান
- The Conveyor
- 1 day ago
- 2 min read

কলকাতা, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ২০ বছর পর ফের ঢাকার মসনদে ফিরছে প্রয়াত খালেদা জিয়ার দল। শেষ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে খালেদা এবং হাসিনাকে কেন্দ্র করেই। সেই ‘অক্ষ’ থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিকে বার করে আনার ডাক দিয়েছিলেন জামাত এবং এনসিপি-র নেতারা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৮৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীরা ২১০টি আসনে জয় পেয়েছেন। ফলে বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত হতে যাচ্ছে আগামী সরকার। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলাদেশে সরকার গড়ার পথে এগিয়ে চলেছে বিএনপি। এই নতুন সরকারের নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। কিন্তু দেখা গেল, বাংলাদেশের জনগণ এখনও অচেনা বা অল্প চেনাদের হাতে দেশের শাসনভার তুলে দিতে স্বচ্ছন্দ নন। হাসিনার আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসাবে তাঁরা এখনও বিএনপি-কেই চান।
উল্লেখ্য, ২০ বছর পরে ফের বাংলাদেশে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। আর এই জয়ের অন্যতম কারিগর তাঁর ছেলে তারেক রহমান। ২৯৯টি আসনে লড়া হয়েছিল নির্বাচন। ভোট শেষেই শুরু হয় গণনা। ঢাকা-১৭ আসন এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে ভোটে লড়েছিলেন তারেক। দুই আসনেই জয়ী হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বিএনপি-র প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একচেটিয়া দাপট দেখিয়েছে বিএনপি। কিন্তু, তার পরেও কোনও বিজয় মিছিল করা হবে না দলের তরফে, নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি-র চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। পরিবর্তে শুক্রবার জুম্মার নমাজের পরে প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দলের তরফে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ী বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) সেদেশে বিচারের জন্য ভারতে আশ্রিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরপরই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য তাঁর দল বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের প্রতি আহ্বান জানাবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে অনুঘটক করে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভের জেরে ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট পতন হয়েছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। তার পরেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি-র প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল। তারেকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল খালেদাকে। ২০২৪-এর অগস্টের পর বহু ক্ষেত্রেই ‘অচেনা’ বাংলাদেশে ‘চেনা’ দল বিএনপি ফেরায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিএনপি-র জয়ে স্বস্তি ফিরবে নয়াদিল্লিতেও।
শুক্রবারই তারেককে অভিনন্দন জানিয়ে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে প্রথমে ইংরেজি এবং পরে বাংলায় একটি পোস্ট করে তারেককে ‘আন্তরিক অভিনন্দন’ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই দুই পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি-র নির্ণায়ক জয়ে নেতৃত্বে দেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।” ‘ঐতিহাসিক বিজয়ে’র জন্য তারেককে ধন্যবাদ জানিয়েছে আমেরিকাও। তারেকের সঙ্গে কাজ করার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। বিএনপি প্রধান তারেক রহমানের জয়ের জন্য অভিনন্দন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ও। বার্তায় ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের ওপর জোর দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “বাংলাদেশের সকল ভাইবোনকে, জনগণকে, জানাই আমার শুভনন্দন, আমার আগাম রমজান মোবারক। বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেকভাইকে, তাঁর দলকে ও অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন। আমাদের সঙ্গে সব সময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, এটাই আমরা কামনা করি।”













Comments