মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদের দুই কক্ষে লিখিত প্রস্তাব জমা

১৩ মার্চ, ২০২৬: পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদের দুই কক্ষে লিখিত প্রস্তাব জমা দিলেন বিরোধী সাংসদেরা। ইতিমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে নোটিসের সপক্ষে ১৯৩ জন বিরোধী সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন। লোকসভায় ১৩০ জন সাংসদ এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সাংসদের সই সংবলিত নোটিস জমা পড়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সাংসদদের অধিকাংশ ‘ইন্ডিয়া’-র সদস্য। তবে ওই বিরোধী শিবিরের অংশ না হয়েও আম আদমি পার্টির সাংসদেরা জ্ঞানেশের অপসারণ চেয়ে সই করেছেন। বেশ কয়েক জন নির্দল সাংসদও নোটিসে সই করেছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে তৃণমূল সহ বিরোধী শিবির। এই প্রথম কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে সংসদের দুই কক্ষে প্রস্তাব জমা পড়ল। সূত্রের খবর, তাঁকে অপসারণের জন্য সংসদে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট বা বৈষম্যমূলক আচরণ। এছাড়া, নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যার ভোটারদের ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করারও অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে। প্রশ্ন উঠছে তবে কি বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বিদায় ঘন্টা বাজবে জ্ঞানেশ কুমারের?
উল্লেখ্য, দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে অপসারণের পদ্ধতি সুপ্রিম কোর্ট বা হাই কোর্টের বিচারপতিকে অপসারণের মতোই। আসলে ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের কোনও বিচারপতিকে যে কারণে ও যে প্রক্রিয়ায় সরানো যায়, সেই একই প্রক্রিয়ায় কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে হয়। সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রপতির অর্ডার দরকার। অসদাচরণ বা অক্ষমতা প্রমাণ করতে পারলে ইমপিচমেন্ট সম্ভব। প্রথমে অপসারণের প্রস্তাব লোকসভা এবং রাজ্যসভায় পেশ করতে হয়। সেই প্রস্তাবই শুক্রবার সংসদের দুই কক্ষে জমা দেওয়া হল। এরপর রাষ্ট্রপতি কী পদক্ষেপ নেন, সেটাই দেখার।









Comments