বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসাবে শপথগ্রহণ করলেন আর এন রবি
- The Conveyor
- 4 minutes ago
- 2 min read

কলকাতা, ১২ মার্চ, ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গের ২২ তম রাজ্যপাল হিসাবে শপথগ্রহণ করলেন আর এন রবি। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা নাগাদ পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী লোকভবন (সাবেক রাজভবনে) তাঁকে বিশেষ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে শপথবাক্য পাঠ করান কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুজয় পাল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম- সহ রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্য, শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বেরা। যদিও বিরোধী দল বিজেপির তরফ থেকে কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না এদিনের অনুষ্ঠানে। তবে বিজেপি-র তরফে অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন। যদিও তিনি রাজ্যপালের ব্যাক্তিগত আমন্ত্রণে গিয়েছিলেন সেখানে।
শপথ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী-সহ অতিথিদের সঙ্গে আলাপ করেন নতুন রাজ্যপাল। সূত্রের খবর, উনি চা চক্রে যোগ দিয়েছিলেন, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন। তখন মুখ্যমন্ত্রী চা চক্র এর দিকে যেতে চাইলে রাজ্যপালই চলে আসেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। সূত্রের খবর, নতুন রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবিকে মমতা বলেন, ‘‘আমি আপনাকে ও আপনার পরিবারকে জানি। বাংলাকে দেখুন। বাংলার সংস্কৃতি কে দেখুন।’’ উত্তরীয় পরিয়ে রাজ্যপাল কে স্বাগত জানান মমতা৷
পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব নেওয়ার আগে, রবি নাগাল্যান্ড, মেঘালয় এবং তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আর এন রবি। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের ডেপুটি হিসাবে কাজ করেছেন৷ নাগাল্যান্ডেও তাঁর কাজে খুশি হয়েছিল কেন্দ্র৷ সামলেছেন ইন্টালিজেন্স ব্যুরোর প্রধানের দায়িত্ব৷ তবে তামিলনাড়ুর স্টালিন সরকারের সঙ্গে তাঁর সংঘাতের খবর প্রায়ই এসেছে শিরোনামে।
শপথগ্রহণের পরেই রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে একটি বার্তা প্রকাশ করেন নবনিযুক্ত রাজ্যপাল। সেই বার্তায় তিনি পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক এবং বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘‘এই রাজ্যের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে অত্যন্ত ধন্য ও বিনম্র বোধ করছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সেই ভূমি যেখানে, বহু সহস্র বছর আগে বেদের চিরন্তন জ্ঞান বিকশিত হয়েছিল। একই সঙ্গে গৌতম বুদ্ধের শিক্ষাও এখানে নতুন রূপে প্রকাশ পেয়েছিল এবং ভক্তি আন্দোলনের মহান ধারাও এই ভূখণ্ডে বিকশিত হয়েছিল’। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বিদেশি আক্রমণ ও শাসনের কঠিন সময়ে যখন দেশের সংস্কৃতি ও পরিচয় ধ্বংসের মুখে পড়েছিল, তখনও এই মাটিতে জন্ম নিয়েছেন বহু মহান ব্যক্তিত্ব ও সাধক’। তাঁদের মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন চৈতন্য, রামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দ এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম্’ যে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ‘যুদ্ধধ্বনি’ হয়ে উঠেছিল, সেই কথাও স্মরণ করেন তিনি। বার্তার শেষাংশে রবি বলেন, তিনি মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করছেন যাতে তিনি জ্ঞান ও শক্তি লাভ করেন। পূর্ণ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেবা করতে পারেন।









Comments