ব্রিগেডে আজ বেশ কিছু প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি তৃণমূলকে চড়া সুরে আক্রমণ শানালেন নরেন্দ্র মোদী
- The Conveyor
- 3 minutes ago
- 2 min read

কলকাতা, ১৪ মার্চ, ২০২৬: 'তৃণমূলের নির্মম সরকার যতই চেষ্টা করুক, বাংলায় পরিবর্তনের ঝড় আটকাতে পারবে না।' ব্রিগেডের সভা থেকে এমনই হুঙ্কার নরেন্দ্র মোদির। একদিকে দুর্নীতির বিরোধিতা, অন্যদিকে উন্নয়ন-সুশাসনের বার্তা। বিধানসভা ভোটের আবহে শনিবার ব্রিগেডের সভা থেকে দুই অস্ত্রে তৃণমূলকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির জয়ের ব্যাপারে প্রবল আশা শোনা গেল নরেন্দ্র মোদীর গলায়।
১৪ মার্চ শনিবার, কলকাতায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ২টি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। একটি প্রশাসনিক সভা, অন্যটি রাজনৈতিক। প্রশাসনিক সভা থেকে ১৮,৭০০ কোটি টাকার নানা প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন মোদী। রেল থেকে সড়ক, বন্দর থেকে স্থানীয় যোগাযোগ, উন্নয়নের একগুচ্ছ অঙ্গীকার শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে। এদিন মোদীর সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রেলের আধুনিকীকরণ। দেশের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলার ছয়টি অমৃত ভারত স্টেশনের শিলান্যাস করেন তিনি। এর পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের সংযোগ বৃদ্ধিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সবুজ পতাকা নেড়ে পুরুলিয়া-আনন্দ বিহারগামী একটি নতুন ট্রেনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বীরভূমের অন্যতম যানজটপ্রবণ এলাকা দুবরাজপুরে তৈরি হবে বাইপাস। কলকাতার সভা থেকে মোদী স্পষ্ট করে দেন যে, তাঁর সরকারের লক্ষ্য রাজ্যের সড়ক, বন্দর ও রেল পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করে পূর্ব ভারতকে ভারতের উন্নয়নের নতুন শক্তিকেন্দ্রে পরিণত করা। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রীর এই বিপুল অংকের প্রকল্পের শিলান্যাস রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী এদিন ডাক দিয়েছেন বাংলার মসনদ পরিবর্তনের। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। বাংলার প্রশাসনকে ‘মহা জঙ্গলরাজ’ বলেও আক্রমণ করেছেন তিনি। এ দিন ফের বাংলার বাসিন্দাদের কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলেছেন তিনি। সূর্যঘর প্রকল্পে সৌর বিদ্যুৎ, বিশ্বকর্মা প্রকল্পের মতো সুবিধা থেকে বাংলার নাগরিকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি তাঁর। চা শ্রমিকরাও কেন্দ্রের প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, আবাস যোজনা, আয়ুষ্মান প্রকল্পের থেকে বাংলার বাসিন্দারা সুযোগ পাচ্ছেন না বলেও আক্রমণ শানিয়েছেন মোদী। এসআইআর ও সিএএ নিয়ে তৃণমূলের বিরোধিতার পিছনে অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর তাগিদ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজ্যের নারী সুরক্ষা নিয়েও তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি। আরজি কর, সন্দেশখালি থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকে কড়া আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যুব সমাজ প্রসঙ্গে তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, যুব সমাজ না ডিগ্রি পাচ্ছে, না চাকরি পাচ্ছে। কাজের জন্য বাইরের রাজ্যে যেতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী এদিন তাঁর ভাষণে বলেন, "কিছু লোক ভাবছেন, পরিবর্তন সম্ভব নয়। কিন্তু মানুষ যখন চেয়েছে, সেটা আটকানোর ক্ষমতা কারও নেই। বাংলার মানুষ যখন জেগে উঠেছে, তখন ইতিহাস বদলেছে। এ বার সেই আত্মবিশ্বাস আমি দেখতে পাচ্ছি।" ব্রিগেডে দীর্ঘ বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, এ বার পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদল কেউ রুখতে পারবে না।
এদিকে আজ গিরিশ পার্কে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠল। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় যাওয়ার সময় বিজেপি কর্মীরা এ সব করেছেন। মন্ত্রীর অভিযোগ, তিনিও আক্রান্ত হয়েছেন। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, গিরিশ পার্ক দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের কর্মীদের বাস লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে তৃণমূল। ঘটনায় আহত হয়েছেন বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর।
শনিবার ব্রিগেডে বিজেপির সভায় খাবারের মেনু নিয়েও উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। তৃণমূল বারবার অভিযোগ করে, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আমিষ খাওয়া বন্ধ করে দেবে। এই অবস্থায় এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় আসা কর্মী-সমর্থকদের খাবারের মেনুতে ছিল মুরগির মাংস আর ভাত। মোদীর বক্তব্য শোনার আগে রাস্তার ধারে লাইন দিয়ে বসে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা মুরগির মাংস আর ভাত খেলেন।









Comments