ব্রিকস সম্মেলনে সব দেশকে নিয়ে জোটবদ্ধ ভারত, বন্ধু দেশ রাশিয়া- চিন

দিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: দিল্লিতে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। এতে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী যোগ দিয়েছে। শনিবার ভারত মণ্ডপমে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদী জানান, ব্রিকসের সভাপতিত্বে ভারত মানুষের কল্যাণ ও মানবিকতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে আরও বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিকে। দিল্লিতে ব্রিক্স সম্মেলন থেকে এই বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
শনিবার বিকেলে দিল্লি সম্মেলনের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে ব্রিক্স। সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ওই ঘোষণাপত্রে একতরফা ভাবে বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক চাপানোর নিন্দা করা হয়েছে। ব্রিক্সের ঘোষণাপত্র একতরফা শুল্কের প্রসঙ্গে কোনও দেশের নামোল্লেখ না করলেও নিশানায় যে মার্কিন শুল্কনীতিই, তা স্পষ্ট। বিভিন্ন দেশের উপরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোরও বিরোধিতা করেছে ব্রিক্স। এই ধরনের কোনও পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশের উন্নয়ন, খাদ্যসুরক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মানবাধিকারের উপরে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্ব সফল করার জন্য সমস্ত অংশীদার দেশকে ধন্যবাদ জানান মোদী। তাঁর মতে, ব্রিকস ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। বিভিন্ন বিষয়ে তৈরি হওয়া ঐক্যমতকে এবারে বাস্তব ফলাফলে পরিণত করার সময় এসেছে বলে জানান তিনি। নিরাপত্তা পরিষদে অবিলম্বে সংস্কারেরও ডাক দিলেন।
নয়াদিল্লি ব্রিকসের ঘোষণাপত্রে অস্বস্তি বাড়ল ইসলামাবাদের। শনিবার ভারতের সভাপতিত্বে রাশিয়া, চিন, সৌদি আরব, ইরান-সহ ১১টি দেশ যে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করল, তাতে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার কড়া ভাষায় নিন্দা করা হল। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে যে জঙ্গি হামলা চলেছে, তার তীব্র নিন্দা করছে ব্রিকস। পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য অর্থের জোগান, সন্ত্রাসমূলক যে কোনও কার্যকলাপ, সন্ত্রাসমূলক কাজকর্মে মদত দেওয়া কাজকর্ম-সহ সবধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রেও জোটবদ্ধ হওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে ব্রিকসের মঞ্চ থেকে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়েও ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে ব্রিকস। ব্রিকসের যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, আমরা প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইন মেনে বিশ্ববাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি প্রবাহ সচল রাখার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার উপরে গুরুত্ব আরোপ করছি। পাশাপাশি আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমে এমন একটি দীর্ঘমেয়াদী বোঝাপড়ার পথে যাওয়ার আহ্বান জানাই, যা এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অবদান রাখবে।
উল্লেখ্য, এই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করা নিয়ে যথেষ্ট চাপ ছিল ভারতের ওপর। শনিবার (ইংরেজি মত অনুযায়ী) ভোর চারটে পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে সব দেশকে ব্রিকসের নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে রাজি করিয়েছে ভারত। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে থাকা ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে একমঞ্চে নিয়ে আসার কাজটা সবথেকে কঠিন ছিল। ভারত যে কাজটা করেছে, সেটা অভূতপূর্ব বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তবে এবারও ব্রিকস কোনও একক বা অভিন্ন মুদ্রা চালুর প্রস্তাব আনেনি। এর পরিবর্তে, এই জোট ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক’ (NDB)-কে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণদান কার্যক্রম সম্প্রসারণে উৎসাহিত করেছে। ব্রিকস নেতারা ব্যাঙ্কটিকে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়ন বৃদ্ধি, তহবিলের উৎস বহুমুখী করা, অধিক সম্পদ সংগ্রহ এবং পোক্ত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক একীকরণ-সহায়ক প্রকল্পগুলোতে সহায়তা প্রদানের জন্য উৎসাহিত করেছেন। ভারতের সভাপতিত্বকালে এনডিবি-র সহযোগিতায় ‘ব্রিকস-এনডিবি নলেজ পোর্টাল’ চালু করার বিষয়টিকেও ব্রিকস নেতারা স্বাগত জানিয়েছেন।









Comments