বিদেশের অঘোষিত সম্পদ প্রকাশ করার স্বেচ্ছামূলক প্রকল্প কেন্দ্রীয় সরকারের

সম্প্রতি একটি উদ্যোগ এমনিই পরিকল্পিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদি তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। বিদেশে থাকা অঘোষিত সম্পদ বা আয়ের তথ্য প্রকাশ করতে ছোট করদাতাদের জন্য নতুন স্বেচ্ছামূলক প্রকল্প চালু করল কেন্দ্রীয় সরকার। বিদেশে থাকা গোপন সম্পত্তি এবং অর্থের খতিয়ান না-দিলে আইন মোতাবেক শাস্তি পাওয়ার কথা। কিন্তু তুলনায় ছোট করদাতাদের আইনি ঝক্কি এড়িয়ে ওই সমস্ত কালো টাকা বা গোপন সম্পত্তি জানানোর সুযোগ দিচ্ছে কেন্দ্র। রবিবার অর্থাৎ ১৬ অগস্ট থেকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ এবং সম্পত্তির খতিয়ান দেওয়া যাবে। আয়কর দফতর ‘ফরেন অ্যাসেটস অফ স্মল ট্যাক্সপেয়ার্স ডিসক্লোজার স্কিম’ নামে এই প্রকল্পের নিয়ম বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটেই এই প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল।
প্রকল্পটি মূলত দুই ধরনের সম্পদ বা আয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এক, ভারতের বাইরে থাকা ১ কোটি টাকা পর্যন্ত মূল্যের বিদেশি আয় বা সম্পদের ক্ষেত্রে। দুই, ভারতের বাইরে থাকা ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত মূল্যের এমন সম্পদের ক্ষেত্রে, যা কোনও করদাতা অনাবাসী থাকাকালীন সময়ে অর্জন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভারতের নাগরিক হওয়ার পর তা উল্লেখ করেননি। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য এমন করদাতাদের সুযোগ দেওয়া, যাঁরা বিদেশে থাকা নির্দিষ্ট সম্পদ বা আয় আয়কর রিটার্নে ঘোষণা করতে ভুল করেছেন। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী, তরুণ পেশাজীবী, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তি এবং বিদেশে গিয়ে পরে ভারতে ফিরে আসা অনাবাসী ভারতীয়দের কথা মাথায় রেখে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম ক্ষেত্রে এমন করদাতাদের অঘোষিত বিদেশি সম্পদ বা আয়ের মূল্যের উপর ৩০ শতাংশ কর দিতে হবে। এর সঙ্গে সমপরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। ফলে কার্যকর মোট করের হার দাঁড়াবে ৬০ শতাংশ। ঘোষিত সম্পদের ন্যায্য বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হবে ৩১ মার্চ ২০২৬-এর ভিত্তিতে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে, ১ লাখ টাকা ফি দিয়ে জরিমানা এবং আইনি পদক্ষেপ—উভয় থেকেই অব্যাহতি পাওয়া যাবে।
আয়কর বিভাগ জানিয়েছে, বৈধভাবে সম্পত্তি ঘোষণা করলে সংশ্লিষ্ট সম্পদ বা আয়ের ক্ষেত্রে ‘ব্ল্যাক মানি অ্যাক্ট, ২০১৫’-এর অধীনে যো কোনও অতিরিক্ত কর, জরিমানা বা আইনি পদক্ষেপ (প্রসিকিউশন) থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে। তা ছাড়া, এই প্রকল্পের আওতায় ঘোষিত আয় বা বিনিয়োগের অর্থ ‘ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট’ বা ‘ব্ল্যাক মানি অ্যাক্ট’-এর অধীনে করদাতার মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। তবে প্রকল্পটি সকলের জন্য প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করেই এই সুবিধা নেওয়া যাবে।









Comments