top of page

নেতাজির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করলে কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ, গ্রেফতারও করা হতে পারে

Aug 12
2 min read

কলকাতা, ১২ অগস্ট, ২০২৬: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার করা হলে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ দমন আইনের আওতায় পুলিশি পদক্ষেপ করা হবে। এই ভাষাতেই কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে এই বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "যাঁরা দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তা ভাল নয়, এটা ভাল ভাবে নিচ্ছি না। অবিলম্বে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট করুন, ডিলিট করলেও ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। সাইবার সেলকে এব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি। উত্তরবঙ্গের বিধায়করা এনিয়ে আমার কাছে দাবি জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে থেকে এসব চলবে না, প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হবে বলে নির্দেশ দিলেন তিনি। এক্ষেত্রে পুলিশ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে। কেউ হস্তক্ষেপ করবে না। নেতাজিকে অসম্মানে কঠোর এবং কঠিন ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে পাশে বসিয়ে এমন নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নবান্নের সভাঘর থেকে শুভেন্দু বলেন, "উত্তরবঙ্গ বিধায়করা প্রত্যেকে চান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিক। যেখানে যেখানে অভিযোগ, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় মামলা হবে। ফেসবুকে এবং সোশ্য়াল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির যে সিস্টেম রয়েছে, রাজ্য সরকারের তরফে পদক্ষেপ করার ব্যবস্থা করছি। নির্দিষ্ট ধারায় গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে পুলিশকে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সাইবার ক্রাইম, সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম এবং পুলিশের এক্তিয়ারে যা আছে...সোশ্যাল মিডিয়ায় যা আছে, তা ডিজিপি দেখে নেবেন। এসটিএফ, সাইবার সেল, সিআইডি, আইবি, সবার সাহায্য় নেওয়া হবে। অন্য কোনও সংযোগ আছে কি না, কারা লাইক-শেয়ার করেছেন, কারা কমেন্ট করেছেন, তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক কি না, তা দেখে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে গ্রেফতারও করতে। বিষয়টি নিয়ে ‘মেটা’ কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আইন সবার জন্য সমান। মন্ত্রী, সাংসদ, বা বিধায়ক- তিনি যে দলেরই হোন, যেই হোন, সরকারি কর্মী, পুলিশকর্মী হলেও আইন সমান ভাবে প্রয়োগ করা হবে।

এই ঘোষণার আগে আজ বিধানসভাতেও বিধায়কদের নেতাজীর নামে 'সেবাকেন্দ্র' খোলার পরামর্শ দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রত্যেক বিধায়ককে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে নেতাজির নামাঙ্কিত সেবাকেন্দ্র চালু করতে হবে। প্রতিটি সেবাকেন্দ্রে নেতাজির ঐতিহ্যবাহী ধুতি ও পাঞ্জাবি পরিহিত বিশেষ ছবি রাখা বাধ্যতামূলক। দু’টি শর্তপূরণ করলে ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।



উল্লেখ্য, সম্প্রতি নেতাজিকে নিয়ে গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন নেতা তথা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের কয়েকটি মন্তব্য নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন অনন্ত মহারাজ। তিনি বলেন, “শুধু মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে, এই ধারণা সঠিক নয়। কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন। জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদে র নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়। নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন। ব্রিটিশ আমলেও আইন ছিল। কোচবিহারের মহারাজাকে যদি স্বাধীন ভারতের সম্রাট করা হত, তবে দেশভাগ হত না। ভারত ও পাকিস্তান এক থাকত।” রবিবার জলপাইগুড়ির ফুলবাড়ির একটি সভায় অনন্ত দাবি করেন, ভারতকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে নেতাজির কোনও অবদান নেই। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। মঙ্গলবার শ্যামবাজারে নেতাজি মূর্তিতে মাল্যদান করে বিজেপি সাংসদের এই মন্তব্যের চরম বিরোধিতা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

আশা করব এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে। যেভাবে, যে ভঙ্গিতে ক্রমাগত অনন্ত এই ধরনের নোংরা মন্তব্য করে যাচ্ছেন, একান্তভাবে তার গ্রেফতারির দাবি জানায় পশ্চিমবঙ্গবাসী। পাশাপাশি কোচবিহার অঞ্চলের বেশ কিছু মানুষ এতে প্রশ্রয় পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যা নয় তাই ভিডিও বানাচ্ছে। তাদেরও উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক। নইলে এই রোগ বাড়তে থাকবে।



 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page