জলপাইগুড়িতে শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় ১ ছাত্র আটক, ঘটনায় জড়িতদের টিসি

কলকাতা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: শুক্রবার সকালে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের উপরে হামলার ঘটনায় এক ছাত্রকে আটক করল কোতয়ালি থানার পুলিশ। শনিবার ওই ছাত্রকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে হাজির করানো হবে। ওই ঘটনার আর যারা যুক্ত তাদের চিহ্নিত করে শনিবারের মধ্যেই ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (TC) দেওয়ার নির্দেশ দিলেন শিক্ষামন্ত্রী।
উল্লেখ্য, শিক্ষক দিবসের খাওয়াদাওয়াকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল। দশম শ্রেণির ছাত্রদের হাতে রক্তাক্ত হন ওই স্কুলের প্রধানশিক্ষক ধর্মচাদ বারুই। শিক্ষক দিবসে খাওয়ারদাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। দশম শ্রেণির একদল ছাত্র অভিযোগ তোলে, এই খাওয়াদাওয়ায় তাদের হিসেবের মধ্যেই রাখা হয়নি। এই অভিযোগ নিয়ে প্রথমে তারা শিক্ষকদের কাছে ক্ষোভ দেখায়। সুরাহা না-মেলায় প্রধানশিক্ষকরের কাছে যায় তারা। অভিযোগ, ছাত্রদের মারে প্রধানশিক্ষকের কপাল ফেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিন্দার ঝড় বয়ে যায় সর্বত্র। ঘটনার পর শোরগোল পড়ে যায়। নবান্নের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয় এই ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। তদন্তের ভিত্তিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই মতোই এদিন অভিযুক্ত পড়ুয়াদের টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নিন্দনীয় ঘটনা। একটা বার্তা দেওয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেবল তাই নয়, বাকি কোন ছাত্র যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করতে চার সদস্যের একটি টিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আছে, সেটা জেলা প্রশাসন দেখবে।’ তাঁর সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক থেকে শিক্ষাজগতের অনেকেই ছিলেন। স্কুল পরিদর্শনের পর তিনি ছাত্রদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। সমস্যার কথা জানেন। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া জলপাইগুড়ির ওই স্কুলে জেলা প্রশাসন, জলপাইগুড়ি শহর এবং শহরতলি এলাকার ২২টি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। বৈঠকে জানানো হয়েছে, যে সমস্ত ছাত্রদের টিসি দেওয়া হবে, তারা অন্য স্কুলে ভর্তি হতে পারবে। তিনি জানান, সবাই মিলে যা আলোচনা হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে সেই ছাত্র কয়েকজনকে আমরা এই স্কুল থেকে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু তারা অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনিমেশ অধিকারী বলেন, ‘মন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছে ওই ছাত্রদের চিহ্নিত করতে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগবে। কারণ যে জায়গায় ঘটনা, সেখানে সিসি ক্যামেরা অ্যাক্টিভ আছে কি না জানা নেই।’ ঘটনার দিন স্কুলে একটি অনুষ্ঠান চলছিল, সুতরাং ওই ঘটনার সঙ্গে বহিরাগত যুক্ত কি না সেটাও দেখা হবে।









Comments