দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদান দেওয়া হবে, তবে আর্থিক সামর্থ্য থাকলে না নেওয়ার আর্জি

কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদান দেওয়া হবে। তবে যে পুজো কমিটিগুলির আর্থিক সামর্থ্য আছে, তাদের সেই টাকা না নেওয়ার আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার রাজ্যের পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেল ৪টে থেকে মিলনমেলা প্রাঙ্গনে মুখ্যমন্ত্রীর পুজো-বৈঠক শুরু হয়। মিলনমেলা প্রাঙ্গণে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি এবং সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিজেপি সরকারের আমলে প্রথম দুর্গাপুজোয় কমিটিগুলিকে এক লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে। যে কমিটিগুলি আবেদন করবে, তারাই পাবে আর্থিক সহায়তা।
তবে বড় পুজো কমিটিগুলি যাতে সেই আবেদন না করে, মুখ্যমন্ত্রী সেই আর্জি জানান। যে পুজো কমিটিগুলি অনুদান নেবে না, তাদের তিনি সাধুবাদ জানাবেন। থানা পর্যায়ে আবেদন করতে হবে। সেখানেই যাচাই করে মুখ্যসচিবের কাছে পাঠানো হবে। মুখ্যসচিব অর্থ দপ্তরে পাঠিয়ে দেবে। ষষ্ঠীর আগে টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। সব পুজো কমিটির ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের খরচ ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও কোনও টাকা লাগবে না। পুজোর অনুমতির জন্য উদ্যোক্তাদের যাতে আদালতের দ্বারস্থ হতে না হয়, তা নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে পুজো পরিচালনায় প্রশাসন ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পুজোর অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে সহজ পোর্টাল চালুর কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রবীণ, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি, বৃদ্ধাশ্রম ও বিভিন্ন আশ্রমের আবাসিকদের পুজো পরিক্রমার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতে আন্তঃদফতরীয় টিম গঠন করা হবে। শারদসম্মান পুরস্কার দেওয়া হবে নিরপেক্ষভাবে। সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় বিষয় জানেন, এমন মানুষকেই বিচারকদের রাখা হবে। সেরা প্রতিমা, মণ্ডপ, পরিবেশবান্ধব পুজো, জনসমাগম ও ভিড় ব্যবস্থাপনা, মৃৎশিল্পী-সহ বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মহালয়ার আগে দেবীপক্ষ শুরু হওয়ার পূর্বে পুজো বা উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজয়া দশমীর বিসর্জনের ক্ষেত্রে পঞ্জিকা মেনে চলার পাশাপাশি ঘাট ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার কথা মাথায় রেখে একটি নির্দিষ্ট ‘কাট-অফ’ তারিখ রাখা হবে। মহাষ্টমীর দিন রাজ্যে সমস্ত মদের দোকান বন্ধ থাকবে। বারেও মদ বিক্রি করা যাবে না। পুজোয় শহরজুড়ে রোড শো হবে। ব্যবস্থা থাকছে ব্র্যান্ডিংয়ের। সাংস্কৃতিক মহোৎসব করা হবে। স্বচ্ছতা থেকে আলোকসজ্জা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হবে।
শহরের কোন ১৩টি রাস্তা বন্ধ করে পুজো কিছুতেই নয়। পুজোকে কেন্দ্র করে যান চলাচল ও জননিরাপত্তার বিষয়েও একাধিক নির্দেশ দিলেন সোমবার। রেড রোড, জওহরলাল নেহেরু রোড, স্ট্র্যান্ড রোড, খিদিরপুর রোড, বর্ধমান রোড, ডি এল খান রোড, হসপিটাল রোড, ক্যাথিড্রাল রোড, নির্মল চন্দ্র রোড, লেনিন সরণি, বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, পার্ক সার্কাস কানেক্টর, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড- এই কয়েকটা রোডে রাস্তা বন্ধ করে পুজো করা যাবেনা। দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে CRPF, BSF, SSB-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনকে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ডিজে বাজানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। পুজোতেও নিষিদ্ধ। নিরঞ্জনে নিষিদ্ধ। ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নিরঞ্জন শেষ করতে হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে দুর্গাপুজোর সময়ে বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে সম্প্রতি নানা মন্তব্য হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যে একটি অনুষ্ঠানে এসে বাগেশ্বর বাবা পুজোর সময়ে নিরামিষ খাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। রীতিমতো বাঙালিকে নিন্দার সুরে তিনি আসল হিন্দুত্বের ডাক দেন নিরামিষাশী ভোজন করার মাধ্যমে! কিছু দিন আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদও (ভিএইচপি) দুর্গাপুজো সংক্রান্ত একগুচ্ছ নির্দেশিকা দিয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, পুজোমণ্ডপের ভিতরে সাত্ত্বিক আচার মেনে নিরামিষ ভোগ দিতে হবে। সেখানে আমিষ খাদ্যদ্রব্যের প্রবেশ নিষেধ। তবে মণ্ডপের বাইরে আমিষ খাবারের স্টল দেওয়া যাবে। ভিএইচপি-র এই নির্দেশিকা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সোমবার জানান, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা কে কী খাবেন, কে কী পরবেন, তা নিয়ে বিজেপির তরফে আলাদা করে কোনও বক্তব্য নেই। শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাঙালি যে সংস্কৃতি ও অভ্যাসে অভ্যস্ত সেই অনুযায়ীই চলবে। তাঁর মতে, কে মাছ-মাংস খাবেন, কে নিরামিষ খাবেন—এটি ব্যক্তিগত পছন্দ-অছন্দের ব্যাপার। কাউকে কী খেতে হবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া বিজেপির দলগত অবস্থান নয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যালও এই বাগেশ্বর বাবা-র দেওয়া নিদান নিয়ে মুখ খুলেছেন। সোমবার সমাজমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য, ‘‘মাংস হিন্দুধর্মের শাক্তমতে অপরিহার্য। প্রাচীন রীতি মেনে মা দুর্গা এবং মা কালীকে মাংসভোগ নিবেদন করা হয়। দুর্গাপুজোর নবমী বা দশমীতে ভক্তেরা প্রসাদ হিসেবেই মাংস গ্রহণ করে থাকেন। এই পবিত্র রীতিতে কোনও হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা যায় না।’’









Comments