গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে তৈরি হচ্ছে প্যানিক, তবে সরকারি তরফে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে
- The Conveyor
- 8 minutes ago
- 2 min read

কলকাতা, ১১ মার্চ, ২০২৬: যুদ্ধের ফলে ভারতে এলপিজি আমদানিতে ধাক্কা লেগেছে। তার ফলে জোগানে টান পড়ায় রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার সঙ্গে জুড়েছে ‘প্যানিক বায়িং’। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে তারা ১০০ শতাংশ অভ্যন্তরীন এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করবে বলে জানাল কেন্দ্র। কেন্দ্রের পেট্রলিয়াম মন্ত্রক বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছে, গ্যাস বুক করার দুই থেকে আড়াই দিনের মধ্যেই সিলিন্ডার পাওয়া যাবে। ফলে অযথা ‘প্যানিক’ করার কারণ নেই। ভয় পেয়ে বাড়তি গ্যাস সিলিন্ডার বুক করে রাখারও প্রয়োজন নেই।
সঙ্কট আঁচ করে বাড়তি গ্যাস যাতে কেউ বুক করে না-রাখেন, তা নিশ্চিত করতে দু’টি গ্যাস বুকিংয়ের মধ্যেকার ন্যূনতম ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। খনিজ তেলের সরবরাহও নিয়ন্ত্রণে। ভারতে ঘরোয়া এলপিজি উৎপাদন ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ঘরোয়া নয়, এমন এলপিজি (নন-ডোমেস্টিক)-র ক্ষেত্রে হাসপাতাল এবং অন্য জরুরি পরিষেবাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এমনই জানিয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। তবে গ্যাসের অপচয় বন্ধ করার আর্জিও জানানো হয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে। বলা হয়েছে, ‘‘সম্ভব হলে গ্যাস সংরক্ষণ করুন।’’
রাজ্যেও এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে যাতে গ্যাসের কালোবাজারি না হয় তার জন্য কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর। জেলাশাসকদের সেই সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে মজুতদারদের থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আগামিকাল রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে গ্যাস সঙ্কটের পরিস্থিতি ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ করার ভাবনা রয়েছে তাঁর। কী ভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে তার জন্য পরিকল্পনা করা হবে বৈঠকে। রাজ্যে গ্যাসের সাপ্লাই চেন যেন বন্ধ না হয়, নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর।
দেশব্যাপী গ্যাস সঙ্কটের প্রভাব এ বার পড়তে শুরু করল কলকাতার রেস্তোরাঁগুলিতেও। কোথাও বন্ধ হয়েছে পরোটা। কোথাও চাইনিজ খাবার। কোথাও ভাবনাচিন্তা চলছে মাছের পাতুরি বন্ধ করার। কোথাও কোথাও পান্তুয়া, সরভাজা, কালোজাম, ছানার জিলিপির মতো ভাজা মিষ্টিগুলির বিক্রি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা।
পাশাপাশি গ্যাসের আকাল হতে পারে এই আতঙ্কে কেওয়াইসি আপডেট করার দীর্ঘ লাইন পড়তে দেখা যাচ্ছে গ্যাসের অফিসগুলির সামনে।









Comments