গ্যাসের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে জারি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৫, পাইপলাইন দিয়ে ৫০০০ টন ডিজেল যাবে বাংলাদেশে
- The Conveyor
- 6 minutes ago
- 2 min read

১০ মার্চ, ২০২৬: ভারতে রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে টান পড়েছে জোগানেও। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে কার্যকর করা হলো অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৫ (Essential Commodities Act)। রান্নার গ্যাসের সরবরাহ অব্যাহত রাখতেই এই পদক্ষেপ।
দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বইয়ের ২০ শতাংশ হোটেল এবং রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিক-সংগঠন ‘আহার’। দেশের আরও কয়েকটি শহরেও এমনটা ঘটতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে ইতিমধ্যেই। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি) মঙ্গলবার জানিয়েছে, এলপিজির ঘরোয়া (গৃহস্থালি ক্ষেত্র) ব্যবহারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অগ্রাধিকার পাবে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো সংস্থাগুলিও। এ ছাড়া কোন কোন প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রকে এলপিজি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা পর্যালোচনার জন্য তিন সদস্যের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির একটি কমিটি গড়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আইওসি কর্তৃপক্ষ। ওই কমিটি হোটেল, রেস্তরাঁ এবং অন্যান্য শিল্পের আবেদন পর্যালোচনা করবে এবং যোগ্যতা, প্রয়োজনীয়তা এবং পণ্যের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে গ্যাস বিতরণ করবে। তেল এবং গ্যাস বিকল্প পথে আমদানির দিকে নজর দিচ্ছে দেশীয় সংস্থাগুলি। বাড়ানো হচ্ছে উৎপাদনও।
গ্যাসের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে আইন জারি করা হল। কোনও সঙ্কট বা ঘাটতির সময়ে সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হস্তক্ষেপ করতে পারে সরকার। অবৈধ মজুত রোধ করতে এবং কালোবাজারি রোখার জন্যেও পদক্ষেপ করতে পারে কর্তৃপক্ষ। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে দেশে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর অগ্রাধিকার থাকবে লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির। এ দিন কেন্দ্রের নির্দেশের পরে নতুন নিয়মের আওতায়, দেশে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাস আগে পাঠানো হবে এলপিজি, সিএনজি এবং পাইপ্ড কুকিং গ্যাস প্রস্তুতকেন্দ্রগুলিকে।
পশ্চিম এশিয়াজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল আটকে দিয়েছে। ফলে আটকে পড়েছে ভারতে জ্বালানি সরবরাহকারী বহু ট্যাঙ্কার। তার ফলে সার্বিক ভাবে তেল ও গ্যাস আমদানিতে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রান্নার গ্যাসের জোগানে যাতে কোনও ঘাটতি না পড়ে তাই প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত করতে চাইছে কেন্দ্র।
এদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় তেলের জাহাজ পৌঁছোতে পারছে না বিভিন্ন দেশে, আর তাতেই বেড়েছে সমস্যা। সেই আবহে এ বার প্রতিবেশী বাংলাদেশের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। পাইপলাইন দিয়ে পাঁচ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অসমের নুমালিগড় তৈলশোধনাগার থেকে পাঁচ হাজার টন পর্বতপুরী সীমান্ত দিয়ে ডিজেল যাবে বাংলাদেশে। উল্লেখ্য, মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণে ডিজেল রফতানি বন্ধ রেখেছিল নয়াদিল্লি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দু’দেশের সম্পর্কে গতি এসেছে। তার পরেই আবার বাংলাদেশে ডিজেল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।









Comments