সংসদে 'বন্দে মাতরম' নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর ভুল! ভোটের রাজনীতি- বললেন প্রিয়াঙ্কা
- The Conveyor
- Dec 8, 2025
- 2 min read

৮ ডিসেম্বর, ২০২৫: ‘বাংলায় ভোট আসছে বলেই বিজেপি এখন বন্দে মাতরম বলছে।’ সোমবার লোকসভায় এমনই দাবি করে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র কটাক্ষে বিঁধালেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। উল্লেখ্য, বন্দে মাতরমের ১৫০তম বার্ষিকী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে লোকসভায়। সংসদে এই আলোচনার শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ইস্যুতে আলোচনার জন্য লোকসভায় ১০ ঘণ্টা সময় নির্ধারিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে আলোচনা হবে, যার সূচনা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বন্দে মাতরমের গুরুত্ব এবং প্রভাবের কথা বলতে গিয়ে ইতিহাস স্মরণ করালেন প্রধানমন্ত্রী। আর তা করাতে গিয়েই একাধিক বার হোঁচট খেতে হল প্রধানমন্ত্রীকে। কখনও বন্দে মাতরমের স্রষ্টা বঙ্কিমচন্দ্র ‘বঙ্কিমদা’ হলেন, কখনও মাস্টারদা সূর্য সেন হলেন ‘মাস্টার সূর্য সেন’। প্রধানমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে একাধিক বার ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করায় আপত্তি তোলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি মোদীর উদ্দেশে বলেন, 'অন্তত বাবু বলুন।' এরপর সৌগতকে 'দাদা' সম্বোধন করে ধন্যবাদ জানান মোদী। বলেন, 'বঙ্কিমবাবু বলছি।' এরপর বক্তৃতা যখন সবে ৩০ মিনিট অতিক্রম করেছে, সেই সময় বাঙালি তরুণদের আত্মবলিদানের ইতিহাস স্মরণ করাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সূত্রেই পুলিনবিহারী দাসের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে মোদীর মুখে পুলিনবিহারী নয়, শোনা যায় ‘পুলিনবিকাশ’-এর কথা। এ খানেই শেষ নয়, তার পরেই সূর্য সেনের বীরত্বের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তাঁকে মাস্টারদা-র পরিবর্তে ‘মাস্টার’ বলে সম্বোধন করে বসেন প্রধানমন্ত্রী।
পুরো ব্যাপারটায় বোঝা যাচ্ছিল হোমওয়ার্ক যথেষ্ট হয়নি। সেক্ষেত্রে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর যুক্তি কিন্তু একেবারেই ফেলে দেওয়ার নয়। যে বিষয়ে শ্রদ্ধা জানানোই মুখ্য উদ্দেশ্য হয়, সেখানে শ্রদ্ধামিশ্রিত গুরুত্ব অবশ্যই থাকা উচিত। তা না হয়ে যদি শুধুই অন্য দলকে আক্রমণ করা হয়, সেক্ষেত্রে ভোটের কথা উঠবে বৈ কি! বছর ঘুরলেই বাংলার বিধানসভা ভোট। তার আগে বন্দে মাতরমের সার্ধ শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে দেশ জুড়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে তার আগে থেকেই। কেন বন্দে মাতরমের স্রেফ দু’টি স্তবক গাওয়া হবে, সেই প্রশ্ন তুলে কংগ্রেসকে কোণঠাসা করতে শুরু করেছে বিজেপি।
তবে ভ্রান্তি সরিয়ে রাখলে মোদী অবশ্য দীর্ঘ সময় বন্দে মাতরম এবং সেই সূত্রে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন। বন্দে মাতরম নিয়ে নিজের অভিমতের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলার গলি থেকে বেরোনো এই আওয়াজ গোটা দেশের আওয়াজ হয়ে উঠেছিল।” এই প্রসঙ্গে বঙ্গভঙ্গের প্রসঙ্গও উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
কিছুক্ষণ পরে বক্তব্য রাখতে উঠেন প্রিয়াঙ্কা। আগাগোড়া প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করেন তিনি। ওয়ানাডের সাংসদের প্রশ্ন, ‘শীতকালীন অধিবেশনের মাঝে হঠাৎ বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনার মানে কী?’ উত্তরও দেন তিনি, ‘অন্য দিকে নজর ঘোরাতে। বাংলায় ভোট আসছে, তাই বন্দে মাতরম নিয়ে এত আলোচনা।’ ন্যাশনাল অ্যান্থেম নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। যাবতীয় বিতর্ক সরিয়ে বন্দে মাতরম গানকে সাহস এবং আত্মত্যাগের প্রতীক বলে বর্ণনা করেন প্রিয়াঙ্কা।









Comments