top of page

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশিত হয়েছে ২৭ মে, বিভিন্ন খুঁটিনাটি জানালেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা


কলকাতা, ২৮ মে, ২০২৬: অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশিত হয়েছে গতকাল। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বড় আপডেট দিলেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। জানালেন, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম অফলাইনে বিডিও অফিস, ডিএম অফিস, পুরসভা, ওয়ার্ড অফিস থেকে পাওয়া যাবে। পুরসভার কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পৌঁছে দেবেন। ফর্ম ফিলআপ করে কাছাকাছি সরকারি অফিসে জমা দেওয়া যাবে। সকলকে পূর্ণ তথ্য দিয়ে ফর্ম ফিল আপ করার পরামর্শ দেন অগ্নিমিত্রা। মন্ত্রী বলেন,"DBT মাধ্যমে টাকা পৌঁছে যাবে। ৩ জুন নবান্ন থেকে অফিশিয়ালি পাঁচ ছয় জনকে আমরা প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে শুরু করব।’’

কেন তথ্য নিচ্ছে সরকার, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার করে দেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, ‘‘আপাতত আয়করের বিষয়টা আমরা দেখছি, আর বাকি ডেটা গুলি আমরা দেখে নিতে চাইছি ভবিষ্যতের জন্য। একবারে সব ডেটা আমরা দেখে নিতে চাইছি। আমি মা-বোনদের অনুরোধ করব আপনারা অসত্য কথা লিখবেন না। তাহলে আপনারা চিহ্নিত হয়ে যেতে পারেন। কারণ, এই তথ্যের উপরেই যাচাই প্রক্রিয়া চলবে। গরিব মা বোনেরা টাকা পান সেটা আমরা চাইছি। যার কোনও ইনকাম ট্যাক্স ফাইল নেই তিনি অবশ্যই টাকা পাবেন। যিনি আবেদন করছেন তাঁর ক্ষেত্রটাই আমরা যাচাই করব।’’ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য সব সরকারি অফিসে ক্যাম্প করা হবে। মন্ত্রী জানান, "যারা আইটি ফাইল করেন কিন্তু ইনকাম ট্যাক্স দিতে হয় না তারাও পাবেন। যারা দেশের নাগরিক নয় তারা পাবেন না। তা বাদে যারা সিএএ এর জন্য আবেদন করেছেন, ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।’’

যদিও প্রায় ১২ পাতার আবেদন পত্র নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের শেষ নেই। সঙ্গে এত ডকুমেন্টস জমা দিতে হবে জেনেও অনেকেই চিন্তায় পড়েছেন। সর্বত্র আলোচনা চলছে, এই ফর্ম নির্ভুল ভাবে একা ফিল আপ করা বেশ কঠিন। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘সবই সরলীকরণ হবে। যাকে ইচ্ছে দিয়ে দিল, বাংলাদেশিরা নিয়ে গেল, এমন হবে না। আগে জিএসটি নিয়ে জটিলতা ছিল। এখন ভালো হয়েছে।’ জানা গিয়েছে, জেলায় সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে গ্রাম পঞ্চায়েত (GP) স্তরে সহায়তা শিবির করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগকে সফলভাবে পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যেই GP কর্মীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রতিটি ব্লকের BDO-দের নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো, ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে সুষ্ঠুভাবে পরিষেবা প্রদান করা, যাতে কোনও ধরনের স্ট্যাম্পেড বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয়। ধাপে ধাপে আবেদন সংগ্রহ ও পরিষেবা বণ্টনের ব্যবস্থা করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। জেলায় জেলায় যে বাংলা সহয়তা কেন্দ্র রয়েছে, সেখান থেকেও এই ফর্ম ফিলআপের কাজে সহায়তা করা হবে বলে একাধিক বিডিও জানিয়েছেন।

১২ পাতার ফর্মে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্যের খুঁটিনাটি চাওয়া হয়েছে। জমির কাগজ থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি— যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। তবেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা মিলবে। ভবিষ্যতে অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনার জন্যেও এই ফর্মের নথি এবং তথ্য বিবেচনা করা হবে। পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করা থাকতে হবে। প্রথমেই আবেদনকারীর পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, আধার নম্বর, আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়েছে। এর পর পরিবারের বাকি সদস্যদের এই সমস্ত তথ্য এবং গৃহকর্তা বা গৃহকর্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। আবেদনকারীর পরিবারের প্রধান-সহ প্রত্যেক সদস্যের ভোটার কার্ডের নম্বর, বিধানসভা এবং পার্ট নম্বরও লিখতে হবে। ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলে সেই সংক্রান্ত তথ্য বিশদে উল্লেখ করতে হবে। আবেদনকারীকে তাঁর সম্পত্তির খতিয়ান দিতে হবে। পাকা বাড়ি আছে কি না, আবেদনকারীর পরিবার কতটা জমির মালিক, মিউটেশন এবং রেজিস্ট্রেশনের নথি-সহ তা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের কারও চার চাকার গাড়ি আছে কি না, তা-ও জানাতে হবে।আবেদনকারীকে তাঁর সম্পত্তির খতিয়ান দিতে হবে। পাকা বাড়ি আছে কি না, আবেদনকারীর পরিবার কতটা জমির মালিক, মিউটেশন এবং রেজিস্ট্রেশনের নথি-সহ তা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের কারও চার চাকার গাড়ি আছে কি না, তা-ও জানাতে হবে। আবেদনকারী ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারি কোনও প্রকল্পের সুবিধা পান কি না, কোনও স্বাস্থ্যবিমা আছে কি না তা জানাতে হবে। পরিবারের সকল সদস্যের প্যান কার্ডের নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। এ ছাড়া, পরিবারের প্রত্যেকের পেশা ফর্মে লিখতে হবে। বক্তব্যের সপক্ষে উপযুক্ত কাগজও জমা দিতে হবে।

শিক্ষিত সদস্যদের প্রত্যেককে তাঁদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত নথি বা শংসাপত্র জমা দিতে হবে। জানাতে হবে পরিবারের মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণ। এ ছাড়া, কেউ সিএএ-তে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন কি না, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড বা অন্য কোনও সরকারি কার্ডের সুবিধা নিয়েছেন কি না, এসআইআর-এ নাম বাদ পড়েছে কি না, পড়লে ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন কি না, এই ফর্মে জানতে চেয়েছে সরকার। চাওয়া হয়েছে পরিবারের সকল শিশুর স্কুলের নাম এবং টীকাকরণের তথ্যও।



 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page