top of page

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি ছাত্রদের সব দাবিই মেনে নিল কেন্দ্র। আন্দোলন প্রত্যাহার

২৫ জুলাই, ২০২৬: শুধু শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ই নয়, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। তাই দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে ধর্না কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিল ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরে সিজেপি নেতৃত্ব বিক্ষোভ প্রত্যাহারের কথা বলেন। পাশাপাশি যন্তর মন্তর থেকে আন্দোলনকারীদের এ বার বাড়ি ফিরে যাওয়ারও বার্তা দেওয়া হয়।

শনিবার দুপুর ২ টো ১৮ মিনিটে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ইস্তফাপত্র পোস্ট করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী জানান, গত ১০ দিন যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে তিনি দুঃখিত। সেই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নিয়ম অনুযায়ী তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান। রাষ্ট্রপতি সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, গত ৩ মে হওয়া সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পর থেকে দায়ভার এড়িয়ে যাননি তিনি। কখনও পরিস্থিতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। বরং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে সুচারুভাবে ২১ জুন পুনরায় নিট পরীক্ষা নেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, '(নতুন করে যে নিট পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল, তাতে সবকিছু ঠিকঠাক হলেও) ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্ত করার জন্য দায়িত্ববান পদে আসীন লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। যে কারণে আমি অত্যন্ত ব্যথিত।' তিনি জানান, 'যন্তর মন্তর ও সারাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে যাতে কোনও দেশবিরোধী শক্তি ফায়দা লুটতে না পারে, জাতীয় ঐক্য অটুট থাকে, কোনও ভারতীয় পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ যাতে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যাতে পড়াশোনায় সময় দিয়ে নিজেদের কেরিয়ার গঠনে মনোযোগ দিতে পারে- সেই লক্ষ্যেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে- যে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের জেরে আন্দোলনের চাপে ধর্মেন্দ্র ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন সেই একই আন্দোলনের হাত ধরেই রাজনীতিতে উত্থান হয়েছিল তাঁর। প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে পথে নেমেছিলেন সদ্যপ্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীও। ১৯৯৭ সালে প্রায় ৩০ বছর আগে ওড়িশায় তখন ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জানকীবল্লভ পট্টনায়ক। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে ভুবনেশ্বরে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি প্রায় ১,৫০০ ছাত্রছাত্রী ধর্নায় বসেন। সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। আরএসএসের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) নেতৃত্বে তিনি প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন। কিন্তু ২০২১ সালে ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশ জুড়ে প্রচুর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। ফলে ধর্মেন্দ্রকে তাঁর মন্ত্রক সামলাতে গিয়ে বহু বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। আন্দোলনের চাপের মুখে পড়ে শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেওয়ার পরেই সিজেপি নেতৃত্ব জানিয়ে দেন, তাঁদের বাকি দু’টি দাবিও সরকারকে মানতে হবে। এক, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়ার মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে যাতে কোনও আইনি পদক্ষেপ না হয়, তার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। দুই, নিটের প্রশ্ন ফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পরে যে ক’জন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শনিবার বিকেল এই দাবিকে সামনে রেখেই কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন সিজেপি নেতৃত্ব। সব দাবিই মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দেওয়া নিয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়া দিলেন সোনম ওয়াংচুক। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘এটা গণতন্ত্রের জয়। এটা শান্তি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের জয়। অভিনন্দন সিজেপি, জেন জ়ি এবং ভয় ঝেড়ে ফেরে দেশের প্রতিটি কোণা থেকে উঠে এসে আন্দোলনে যোগ দেওয়া নাগরিককে ধন্যবাদ। দায়বদ্ধতা থেকে এ বার যাত্রা সংস্কারের দিকে।’



 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page