স্বামীজীর অপমান মানতে পারছেন না আমাদের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এবং পঞ্চায়েতমন্ত্রী!

কলকাতা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: স্বামীজির অপমান মানা যাবে না। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। কাউকে ছাড়া হবে না! বলছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী। ঘটনার কড়া ভাষায় সমালোচনা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ‘যারাই করে থাকুক, এটা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ। এটা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’ রবিবারের গোলমালের ঘটনায় পঞ্চসায়র থানায় তিনটি পৃথক এফআইআর দায়ের হয়েছে। একটি অভিযোগ করেছে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতি। দ্বিতীয় এফআইআর দায়ের হয়েছে পড়ুয়াদের একাংশের তরফে। তৃতীয় অভিযোগটি পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে করেছে।
সোমবার ক্যাম্পাসে মৌনী প্রতিবাদ করেন পড়ুয়ারা। প্রাক্তনী সংসদের সহ সভাপতি অনির্বাণ দত্ত এ দিন ক্যাম্পাসের সামনে দাঁড়িয়ে দাবি করেন, লাঠিতে পেরেক ছিল। অর্থাৎ, যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরা কিছু করার জন্য প্রস্তুত হয়েই এসেছিলেন। সেই লাঠির আঘাতে পড়ুয়ারা আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালেও ভর্তি করানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার দুপুরে। অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছিল এসআরএফটিআইয়ের অডিটোরিয়ামে। অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন সেখানে হাজির হন এসএফআইয়ের সদস্যরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে কেন একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের অনুষ্ঠান হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। আয়োজকদের অভিযোগ, এর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখানোর পরেই এবিজিপি-র সদস্যেরা তাঁদের উপর চড়াও হন। বেধড়ক মারধর করা হয় পড়ুয়াদের। পড়ুয়াদের বাঁচাতে গিয়ে কয়েক জন অধ্যাপকও আহত হন বলে জানা গিয়েছে। এর পরেই কার্যত ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। রাত পর্যন্ত পড়ুয়াদের সঙ্গে ওই সংস্থার দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ওই অডিটোরিয়ামে প্র্যাকটিক্যাল হয় বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠনের এক পড়ুয়া। অনুষ্ঠানের প্রতিবাদে পোস্টার লাগানো হয়। তারপরেই আয়োজকেরা এসে পড়ুয়াদের ওপর চড়াও হয়। হাতাহাতিতে ছাত্রদের রক্তপাতও ঘটে। এবিজিপি-র রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ রায় বলেছেন, “১৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমরা সভা করছিলাম। আমাদের সংগঠন মূলত ক্রেতাসুরক্ষা, ক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে। কিন্তু আমাদের সভা বানচাল করার চেষ্টা করা হয়। ভারতমাতা, স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়।”
এই প্রেক্ষিতেই এ দিন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ বলেন, ‘‘কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে কোনও ধরনের হিংসাই নিন্দনীয়। অভিপ্রেত নয়। কিন্তু আমি যা ছবি দেখলাম, তাতে দুই পক্ষের গন্ডগোলে যদি স্বামী বিবেকানন্দের ছবি বা ভারতমাতার ছবিতে লাথি পড়ে, তা হলে বুঝতে হবে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই সংস্কৃতি আমরা বদলাব। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। কাউকে ছাড়া হবে না।’’ দিলীপ ঘোষ বলেন, "বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং দেশবিরোধী শক্তি এতদিন ধরে বাংলায় সক্রিয় ছিল। প্রাক্তন সরকারের ছত্রছায়ায় তারা বেঁচে ছিল। তারা একে একে এক্সপোজ় হয়ে যাচ্ছে। দেশের সংস্কৃতি এবং পরম্পরা বিরোধী এই সব কার্যকলাপ মানুষ আর মানবে না। নকশাল আমলে মহাপুরুষদের মূর্তি ভেঙে দেওয়া হতো, কালি লাগিয়ে দেওয়া হতো। সেই সব দিন চলে গেছে। তাদের কিছু উত্তরসূরি এখনও বেঁচে আছে। সেই অভ্যাস ওরা ছাড়তে পারছে না।" এই ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রশ্ন হল, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রেতা সুরক্ষা সংক্রান্ত কোনও সভার অনুমতি দেওয়া হল কেন? শিক্ষা সংক্রান্ত কোনও সভা তো নয়। এটা কী কাম্য? শিক্ষামন্ত্রী, পঞ্চায়েতমন্ত্রী একটু বলবেন কি? শহরের নাগরিক হিসেবে এবং চলচ্চিত্রপ্রেমী হিসেবে এই বিষয়ে জানার অধিকার সকলের আছে। স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছিঁড়লেই বেপরোয়া প্রমাণিত হয়না। নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে আগলে রাখতে বাইরের নামগোত্রহীন একটি বিষয়কে আটকাতে উত্তেজনার বশে প্রতিবাদ স্বরূপ এই ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার কোনও বিষয় নিয়ে আপনারা কথা বলুন। বর্তমান সরকার শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ম ঢোকাতে এত উদ্যোগী কেন? শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটান, বুঝবো রাজ্যের জন্য কিছু করছেন। পাশাপাশি ছাত্রদেরও বলব, সরকার বদল হয়েছে, এই ঘটনাগুলো ঘটবেই। এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে করে কোনওভাবে কেউ আঙুল তুলতে পারে।









Comments