সংবিধানের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ, ট্রাইবুনাল নির্বাচনের দু'দিন আগেও কাউকে ছাড়পত্র দিলে দেওয়া যাবে ভোট। ভোটদান বাধ্যতামূলক নয়
- The Conveyor
- 20 minutes ago
- 2 min read

১৬ এপ্রিল, ২০২৬: সুপ্রিম কোর্ট, প্রয়োগ করল সংবিধানের ‘বিশেষ ক্ষমতা’। ট্রাইবুনাল যদি নির্বাচনের দু'দিন আগেও কাউকে ছাড়পত্র দেয়, তাহলে তিনি বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। SIR সংক্রান্ত মামলায় অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল ২১ এপ্রিল এবং ২৭ এপ্রিল তারিখের মধ্যে যাঁদের আবেদনের নিষ্পত্তি করবে তাঁদের নাম সংযুক্ত করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ‘‘অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য যাঁদের আবেদনকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁদের বৈধ বলে জানাবে। ‘ইনক্লুশন’ এবং ‘এক্সক্লুশন’ দু’ক্ষেত্রেই লাগু হবে এই নির্দেশ, জানাল শীর্ষ আদালত। সেই মোতাবেক ‘কাট-অফ’ হচ্ছে আগামী ২১ এপ্রিল এবং ২৭ এপ্রিল। তবে যাঁরা ট্রাইবুনালের ছাড়পত্র পাবেন না, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি কমিশনের আইনজীবীকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভোটাধিকার শুধুমাত্র একজন ভোটারের সাংবিধানিক অধিকারই নয়, এর সঙ্গে মানুষের ভাবাবেগও জড়িয়ে রয়েছে। এছাড়াও, বিচারপতি বাগচি প্রশ্ন করেছেন, অন্য কোনও রাজ্যে এসআইআর-এ লজিক্যাল ডিস্ক্রিপ্যান্সি বিষয়টি রাখা না হলেও শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে কেন এসআইআর-এ এই ব্যবস্থা রাখা হল? ভারতীয় সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারা হল ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একটি বিশেষ ক্ষমতা। এটি মূলত সুপ্রিম কোর্টকে 'পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার' নিশ্চিত করার অধিকার দেয়। সুপ্রিম কোর্ট যদি মনে করে যে কোনো একটি বিবাদে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার প্রদানের জন্য একটি বিশেষ ডিক্রি বা আদেশ প্রয়োজন, তবে তারা তা জারি করতে পারে। অতীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার ক্ষেত্রে এই বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে এসআইআর পর্বে ৬০ লক্ষাধিক নাম বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল। কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের স্ক্রুটিনির পর প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়ে যায়। এরপর নিয়ম মেনে ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা স্থির করে দেওয়ায় সংশয় তৈরি হয়েছিল যে, ট্রাইবুনাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও ওই ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন কিনা। সুপ্রিম কোর্ট এদিন সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের মাত্র ২ দিন আগে ছাড়পত্র পেলেও তাঁদের ভোটাধিকার বজায় থাকবে।
এর পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে এদিন সুপ্রিম কোর্ট। প্রত্যেকের ভোটদান বাধ্যতামূলক করা এবং কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে ভোট না দিলে শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। ইচ্ছাকৃত ভাবে ভোট না দেওয়া ব্যক্তিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা অনুদানও সীমিত করার জন্যও নির্দেশিকা জারির আবেদন জানান মামলাকারী। এক্ষেত্রে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়েছে, ভোটদানের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়। কিন্তু ভোট দেওয়ার জন্য কাউকে বাধ্য করতে পারে না আদালত। এ বিষয়ে সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের প্রশ্ন, “যদি সমাজের দরিদ্র বা নিম্নবিত্ত কোনও মানুষ বলেন, ‘আমাকে তো দিনমজুরি করে পেট চালাতে হয়। ভোট দিতে গেলে আমার একদিনের মজুরি পাব না। এ অবস্থায় আমি কী ভাবে ভোট দিতে যাব?’— আমরা তাঁদের কী উত্তর দেব!” আদালত জানায়, ভোটের দিনগুলিতে বিচারপতিদের এবং অন্য অনেক নাগরিককেই নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয়। সেই দিনগুলি যে ওই নাগরিকদের পেশাগত জীবনে কর্মদিবস হিসেবেই গণ্য হয়। শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি জানান, আইনি জোরজবরদস্তির চেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই গণতন্ত্রের সঠিক বিকাশ হয়।






Comments