স্কুলের বেতন পোর্টালে চাকরিহারাদের নাম থাকলেও তারা আদৌ বেতন পাবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা

কলকাতা, ১০ এপ্রিল, ২০২৫: চলতি মাসে স্কুলগুলির বেতন পোর্টাল খুলে গিয়েছে। তাতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি যাওয়া সকলেরই, অর্থাৎ প্রায় ২৬ হাজার জনেরই নাম রয়েছে। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, চলতি মাসে কি বেতন পাবেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা? কী বলছে রাজ্য? নিয়মমাফিক স্যালারি রিকুইজিশন পোর্টালে চাকরিহারাদের নাম থাকলেও তাঁদের বেতন দিলে কনটেম্পট অফ কোর্ট অর্থাৎ, আদালত অবমাননা হতে পারে বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞেরা। তাই আশঙ্কায় রয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর।
রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, চাকরিহারাদের এ মাসের বেতন দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আইনি মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বেতন পোর্টাল আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত খোলা থাকার কথা। শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, তার আগেই আইনি পরামর্শ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে চায় তারা। বেতনের পাশাপাশি বর্ধিত চার শতাংশ মহার্ঘ ভাতাও দেওয়া হবে কি না, তা খতিয়ে দেখছে শিক্ষা দফতর। পুলিশ সূত্রের খবর, রাজ্যের লিগাল সেকশনের থেকে আইনি মতামত নিচ্ছে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর।
রাজ্য সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে রিভিউ পিটিশন করতে যাচ্ছে। এর জন্য রাজ্যের কাছে ৩০ দিনের সময় রয়েছে। সেক্ষেত্রে, যেহেতু বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই থাকছে, তাই চাকরিহারা শিক্ষকশিক্ষিকাদের বেতন দিতে আইনগত সমস্যা নেই বলে দাবি নবান্নের একাংশের।
তবে চাকরিহারাদের একাংশ অবশ্য বেতনই চাইছেন না। তাঁদের বক্তব্য, সরকার কোনও সংশোধনী ছাড়া বেতন দিলে পরবর্তী কালে তা আবার ফেরত দিতে হতে পারে।
এদিকে একটি নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “মাইনে ১ তারিখ হয়ে গিয়েছে। রায় বেরিয়েছে ৪ তারিখ। মাইনে সবাই পায় নিজের যোগ্যতা। এর মধ্যে আমরা রিভিউ পিটিশনে যাচ্ছি। তাই মাইনে না দেওয়ার প্রশ্ন উঠছে কেন?”
এরইমধ্যে চাকরি বাতিল প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে ‘মন্তব্য’ করায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালত অবমাননার নোটিস পাঠালেন এক আইনজীবী। মুখ্যমন্ত্রীকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন দিল্লির আইনজীবী সিদ্ধার্থ দত্ত। তাঁর হুঁশিয়ারি, মুখ্যমন্ত্রী যদি নিজের মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা না চান, তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীকে আদালত অবমাননার যে নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাতে নেতাজি ইন্ডোরের সভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতার কিছু অংশ তুলে দেওয়া হয়েছে। নোটিসে লেখা হয়েছে, গত ৭ এপ্রিলের ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘কারও চাকরি কাড়ার এই অধিকার কারও নেই। আমাদের প্ল্যান— এ রেডি, বি রেডি, সি রেডি, ডি রেডি আর ই রেডি। এখন দেখার এই গোটা ইস্যুতে কোন জল কোনদিকে গড়ায়।









Comments