শিলিগুড়ি সফরে সীমান্ত নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিলেন অমিত শাহ

কলকাতা, ১৮ জুলাই, ২০২৬: উত্তরবঙ্গ সফরে এসে সীমান্ত নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা। রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলি নিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন তিনি। শনিবার সকাল থেকে ঠাসা কর্মসূচি ছিল অমিত শাহের। উত্তরকন্যার পাশে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখেছেন তিনি।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে শিলিগুড়ি করিডর, যেটি সীমান্ত ক্ষেত্রে চিকেনস নেক নামেও পরিচিত। এত দিন চিকেনস নেকের অদূরে অবস্থিত চিন সীমান্ত ছিল নজরদারির মূল কেন্দ্র। কিন্তু সম্প্রতি তাতে যোগ হয়েছে বাংলাদেশ এবং ভুটান সীমান্তও। বাদ রাখা হয়নি নেপালকেও। সেই কারণেই শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে অবস্থিত এলাকাটি প্রতিরক্ষার দিক থেকে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশেষ অংশ।
শনিবার সকালে তিনি ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শন করেন। কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন জামুড়িয়া ভিটা ও সন্ন্যাসীকাঁটার মতো এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি শিলিগুড়ির জুম্মাগছ বর্ডার আউটপোস্টে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বিএসএফের বেশ কিছু উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসও করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে উত্তরকন্যায় আয়োজিত বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উত্তরবঙ্গের আট জেলার বিজেপির জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রের খবর, এই বৈঠকে চিকেনস নেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। চিন, বাংলাদেশ, ভুটান এবং নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এই করিডরের সুরক্ষায় আধুনিক নজরদারির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তরকন্যায় যে বৈঠক করেছেন, তাতে আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল সীমান্তে নজরদারি এবং সুরক্ষা। আলোচনা হয়েছে গুন্ডাদমন আইন, জন্ম-মৃত্যুর নথি ডিজিটাইজেশন, অবৈধ ভোটার এবং আধার কার্ড বিষয় নিয়েও। প্রসঙ্গত নকল পরিচয়পত্র বানিয়ে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের উদাহরণ দেখা গিয়েছে প্রচুর। তাই ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোকে যুক্ত করেছে যে ‘শিলিগুড়ি করিডর’, তা সুরক্ষিত রাখতে বেশ কিছু পদক্ষেপ করতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে এই সফর যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা প্রশাসনিক মহলের তৎপরতাতেই স্পষ্ট।
এদিকে সূত্রের খবর, সমতলের অংশটুকু কেটে নিয়ে এ বার পূর্ণাঙ্গ জেলা হতে চলেছে শিলিগুড়ি। জলপাইগুড়ি জেলার ডাবগ্রাম ও ফুলবাড়ির দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং উত্তর দিনাজপুর জেলার একাংশ জুড়ে নেওয়া হবে নয়া শিলিগুড়ি জেলায়। ইতিমধ্যেই দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের তরফে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত শিলিগুড়ি জেলার মৌজা ম্যাপ এবং ভোটার তালিকা তৈরির কাজ চলছে। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরে শিলিগুড়িকে পৃথক জেলার স্বীকৃতি দিতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। মূলত ‘চিকেনস নেক’–কে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর জন্য এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। সেনা, বিএসএফ, সিআরপি, এসএসবির শীর্ষ কর্তাদের দপ্তর তৈরির কাজ আগেই শেষ হয়েছে। বাগডোগরা-শিবমন্দিরকে পৃথক পুর এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদকে গ্রামাঞ্চলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। শিলিগুড়ি শহরের ভিতরে তৈরি মহকুমা পরিষদ ভবনটিকেই জেলাশাসকের দপ্তরে রূপান্তর করা হবে বলে প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে।









Comments