শুনানির সময়সীমা বাড়াতে চেয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি, কিছু শর্তের বিনিময়ে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গণ্য
- The Conveyor
- Feb 7
- 2 min read

কলকাতা, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: আজ অর্থাৎ সাত ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা এসআইআর শুনানি পর্বের। কিন্তু এই শুনানির সময়সীমা বাড়াতে চেয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানি বাড়ানোর কথা চিঠিতে জানিয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশন।
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “সাত-আট জন নির্বাচনী আধিকারিকের থেকে জানতে পারলাম এখনও বেশ কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেই কারণেই কিছুক্ষণ আগে নির্বাচন কমিশনের কাছে আরও সাতদিনের সময় চাওয়া হয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি শুনানির শেষ দিন ছিল। এবার তা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।”
রাজ্যে ১৫ থেকে ২০টি বিধানসভার শুনানি আজকের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয়। সেই কারণেই শুনানির সময়সীমা বাড়াতে চেয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল৷ শুনানি + ফর্ম ৬, ৭, ৮ + আপলোড ও নিষ্পত্তি সব কিছুর জন্য ১৪ তারিখ পর্যন্ত সময় চাইল কমিশন। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আরও ৭ দিন পিছিয়ে যাবে বলে কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে। শুধুমাত্র যে বিধানসভা গুলিতে শুনানি সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জেলা শাসকদের তরফে এসেছে সেই বিধানসভা গুলিতেই যাতে শুনানি সময়সীমা বাড়ানো হয় তা নিয়েও চিঠিতে আবেদন জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
আগেই রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলার ডিইও-রা (উত্তর কলকাতা, মালদহ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা) থেকে শুনানির জন্য দিন বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মেটিয়াবুরুজ, মগরাহাট, পশ্চিম, কসবা, ক্যানিং পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, মহেশতলা এবং ভাঙড়ের শুনানি এখনও শেষ হয়নি। এদিন সিইও জানালেন, ৯৫ শতাংশ জায়গায় শুনানি শেষ হয়ে গিয়েছে। কাজ বাকি রয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনায় একটি বিধানসভা (নোয়াপাড়া), দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৭ টি এলাকা, কলকাতা উত্তরের একটি এলাকা, কলকাতা দক্ষিণের একটি (বন্দর), হাওড়ায় ১ টি, কার্শিয়ং একটি।
পাশাপাশি শুনানি যেখানে শেষ হয়েছে সেখানে তথ্য আপলোড হয়নি। সব মিলিয়ে আপলোড বাকি আছে প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি। ডিসপোজাল হয়েছে মাত্র ৩০-৩৫ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে সিইও দফতরে সময় বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন ডিইও-রা। সেই আর্জিকেই নয়াদিল্লিতে পাঠিয়েছেন সিইও। তাতে এবার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ মিললে শুনানির শেষ তারিখ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন আবার ছিল চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন। সেই তারিখ আরও পিছিয়ে যাবে।
এদিকে এসআইআর-র শেষলগ্নে এসে নির্বাচন কমিশন জানাল কমিশনের নির্ধারিত ১১ নথির পাশাপাশি গণ্য হবে 'ডোমিসাইল সার্টিফিকেট' বা ‘পারমানেন্ট রেসিডেন্স সার্টিফিকেট’। এসআইআর পর্বের শুনানির শেষ লগ্নে এসে এমনই বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে শনিবার এক বার্তায় বলা হয়েছে, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা পারমানেন্ট রেসিডেন্স সার্টিফিকেট কমিশনের নির্ধারিত ১১ নথির মধ্যে ধার্য হলেও, এক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক ও মহকুমা শাসকের সই সম্বলিত সার্টিফিকেটই একমাত্র গৃহীত হবে। সার্টিফিকেটে অন্য কারোর স্বাক্ষর থাকলে তা গৃহীত হবে না। প্রসঙ্গত, এসআইআর-এর সংশোধন পর্বে নির্বাচন কমিশনের নয়া এই নিয়ম, ভোটারদের কাছে স্বস্তির বার্তা এনে দিয়েছে।













Comments