রাজনৈতিক ঝাঁঝের থেকে বাঙালির আবেগকেই প্রাধান্য দিলেন আজ প্রধানমন্ত্রী
- The Conveyor
- Jul 18, 2025
- 2 min read

কলকাতা, ১৮ জুলাই, ২০২৫: 'জয় মা কালী' স্লোগান দিয়ে ভাষণ শুরু। শুভেচ্ছাও জানান বাংলাতে। আজ দুর্গাপুরে বেশ কিছু প্রকল্পের শিলান্যাস করতে এসে ভিন রাজ্য বাঙালি আক্রমণের প্রসঙ্গে উল্টে তৃণমূলকেই আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি বলেন, ”অনুপ্রবেশকারীদের হয়ে সরাসরি নেমে পড়েছে তৃণমূল। কান খুলে শুনে রাখুন, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সংবিধান অনুযায়ীই পদক্ষেপ করা হবে।” প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে কী ঘটছে? তৃণমূল কংগ্রেস, তাদের স্বার্থ রক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের পরিচয়কেও ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এর জন্য এখানে অনুপ্রবেশকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের জাল নথি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এর একটা পুরো ইকো সিস্টেম তৈরি করে ফেলা হয়েছে। এটা পশ্চিমবঙ্গ এবং গোটা দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপদ। এটা বাংলার সংস্কৃতির জন্য বিপদ। কিন্তু তুষ্টিকরণের রাজনীতির জন্য TMC সব সীমা পার করেছে।’
এ দিন দুর্গাপুরে বিজেপির সভার আগে বাংলার জন্য প্রায় ৫৪০০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলন্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ প্রকল্পগুলির শিলান্যাস করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্গাপুর ভারতের অন্যতম শ্রমশক্তির কেন্দ্র। ভারতের বিকাশে দুর্গাপুরের বড় ভূমিকা রয়েছে।’ তিনি জানান, বাংলায় পরিকাঠামো, জ্বালানি, পরিবহণ ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে একাধিক নতুন প্রকল্প শুরু হচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ সুফল পাবেন বাংলার মানুষ। মোট সাতটি প্রকল্পের শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। তার মধ্যে রয়েছে- সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন প্রকল্প। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার জন্য ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের অধীনে চালু হচ্ছে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রকল্প। এছাড়াও রয়েছে দুর্গাপুর-কলকাতা গ্যাস পাইপলাইন। প্রধানমন্ত্রী উর্জা গঙ্গা প্রকল্পের অধীনে দুর্গাপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত (১৩২ কিমি) গ্যাস পাইপলাইন বসানো হবে, যা হলদিয়া পর্যন্ত প্রসারিত হবে পরবর্তীতে। তৃতীয়ত, দুর্গাপুর ও রঘুনাথপুরে দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। দুর্গাপুর স্টিল থার্মাল পাওয়ার স্টেশন এবং দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের রঘুনাথপুর কেন্দ্র এই দুই জায়গায় পরিবেশবান্ধব দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বসানো হবে। রয়েছে রেল পরিকাঠামো উন্নয়ন। পুরুলিয়া থেকে কলকাতা পর্যন্ত রেললাইন দ্বিগুণ করার প্রকল্পের সূচনা হল। এতে জামশেদপুর, ধানবাদ, বোকারো-সহ একাধিক শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। দুর্গাপুরে আজ একটি রোড শো ও করেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, বাংলার ২৫-৩০ লক্ষ ঘরে পাইপলাইনে গ্যাস পৌঁছচ্ছে। আর এইসব প্রকল্প আরও বহু মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। দুর্গাপুরের সভা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও শান্তনু ঠাকুর, রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য প্রমুখ।
সরকারি অনুষ্ঠানের পরই রাজনৈতিক সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি৷ যদিও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেননি প্রধানমন্ত্রী৷ পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের স্বর্ণযুগের সঙ্গে আজকের শিল্প ‘বিধ্বস্ত’ পশ্চিমবঙ্গের তুলনা টানলেন বারবার। সিন্ডিকেটরাজের খোঁচা দিয়ে তুলোধনা করলেন তৃণমূলকে। সঙ্গে দিলেন আশ্বাস, ‘বিজেপি এলেই দেশের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ রাজ্য হবে পশ্চিমবঙ্গ।’ পরিযায়ী শ্রমিকদের কথাও উঠে আসে মোদীর মুখে। তিনি বলেন, ‘এক সময়ে বাংলা বাণিজ্যে দিশা দেখিয়েছিল। এখন ছোট কাজের জন্যেও বাংলার যুবকদের বাইরে যেতে হয়।’
মুর্শিদাবাদ, কসবা, শিক্ষকদের চাকরি যাওয়া সব বিষয় টেনে এদিন বক্তব্য রাখেন মোদী। মোদীর কথায়, ‘তৃণমূলকে সরাতেই হবে। তবেই আসল উন্নয়ন হবে পশ্চিমবঙ্গে।’ তবে তাঁর বক্তব্যে আক্রমণের ঝাঁঝের থেকে বাংলা ও বাঙালির আবেগকে ছোঁয়ার চেষ্টাই বেশি ছিল, দাবি রাজনৈতিক মহলের। বঙ্গ আবেগকে স্পর্শ করেই কি ২৬-এর ভোট বৈতরণী পার করতে চায় বিজেপি? মোদীর বেঁধে দেওয়া ‘টোন’ নিয়ে জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে।









Comments