রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, আগামীকাল সাংস্কৃতিক মহোৎসবের রূপ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হবে শপথগ্রহণ
- The Conveyor
- May 8
- 3 min read
Updated: May 9

কলকাতা, ৮ মে, ২০২৬: আগামী পাঁচ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলেন শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেই লোকভবনে পৌছলেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যপাল আর.এন রবির কাছে সরকার গঠনের আবেদন জানান তিনি। সঙ্গে রয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও সাংসদ সুকান্ত মজুমদার সহ অন্যান্যরা। রাজ্যের আপামর জনসাধারণ বেছেই নিয়েছিলেন তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। বাকি ছিল শুধু বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের বেছে নেওয়া। সেটাই আজ সম্পন্ন হল। আগামীকাল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তিনি শপথ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। নিজের বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে দলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রশংসা করেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সরকারে আমিত্ব থাকবে না বলে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘আমি নয়, আমরা...নীতিতে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার কাজ করবে।’ এ ক্ষেত্রে তাঁর মন্ত্র হবে ‘চরৈবেতি’।
শুক্রবার বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বৈঠক করে শুভেন্দুকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। এ দিন বিজেপি-র পরিষদীয় দলের বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় কোনও নামের প্রস্তাবও আসেনি৷ জয়ী বিধায়কদের দ্বিতীয় কোনও নামের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য সময়ও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অমিত শাহ। শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর তাঁর হাতে পদ্মফুল তুলে দিয়েও সংবর্ধনা জানান অমিত শাহ। বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পরে প্রথম ভাষণে শুভেন্দু মঞ্চে দাঁড়িয়ে একে একে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। তাঁর আশ্বাস, বাংলার মানুষের স্বপ্নপূরণ করার কাজ করবে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যা যা গ্যারান্টি দিয়েছেন, সব পূরণ করার কাজ করবে বিজেপি সরকার, আশ্বাস ভাবী মুখ্যমন্ত্রীর। নির্বাচনের আগে যে সংঙ্কল্প পত্র এনেছিল বিজেপি, সেটা সময়ে সময়ে পূরণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন বক্তব্যের মাঝেই নরেন্দ্র মোদীকে সম্মান জানাতে সব বিধায়কদের উঠে দাঁড়িয়ে টানা ১ মিনিট হাততালি দিতে বলেন তিনি। কথা কম কাজ বেশি করবে বিজেপি সরকার, জানান তিনি।
হোয়াটস অ্যাপ তথা ফেসবুক- এ একটি লিস্ট ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে- উপ- মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পাল। স্পিকার হচ্ছেন রাহুল সিনহা এবং ডেপুটি স্পিকার হচ্ছেন তাপস রায়। অর্থমন্ত্রী হচ্ছেন ডঃ স্বপন দাশগুপ্ত। শিক্ষামন্ত্রী হচ্ছেন ডঃ শংকর ঘোষ। বেহালা পাচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রী। ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ সামলাবেন এই মন্ত্রক। আইনমন্ত্রক সামলাবেন কৌস্তভ বাগচী। হাউসিং তথা আরবান ডেভেলপমেন্ট ও মিউনিসিপ্যাল- এর মন্ত্রী হচ্ছেন রূপা গাঙ্গুলি। এছাড়াও আরও অন্যান্য মন্ত্রকের দায়িত্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন নেতাদের।


শনিবার সকালে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণ করবেন শুভেন্দু। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী, রাজধানীর কয়েকটি রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে এসপ্ল্যানেড র্যাম্প, কেপি রোড, হসপিটাল রোড, লাভার্স লেন, ক্যাসুরিনা অ্যাভিনিউ, কুইনস্ওয়ে। শনিবার ভোর ৪টে থেকে রাত ৮টে পর্যন্ত মালবাহী গাড়ির যাতায়াত বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত ছাড় রয়েছে। যেমন এলপিজি সিলিন্ডারবাহী মালগাড়ি, সিএনজি, পেট্রোলিয়াম, তেল, লুব্রিক্যান্ট, অক্সিজেন, শাক-সব্জি, ওষুধপত্র, মাছ, ফল, দুধ ভর্তি গাড়ির ছাড়পত্র থাকবে। শনিবার শহরের কয়েকটি জায়গায় গাড়ি পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা থাকছে। যেমন, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের পার্শ্বস্থ রাস্তা, যেমন, এজেসি বোস রোডের কিছু অংশ থেকে হেস্টিংস ক্রসিং, ক্যাথিড্রাল রোড, খিদিরপুর রোড, হসপিটাল রোড, কুইনস্ওয়ে, লাভার্স লেন ইত্যাদি রাস্তার ধারে গাড়ি রাখা যাবে না।
এর পাশাপাশি শুভক্ষণ দেখেই অনুষ্ঠানের সূচি ঠিক করা হয়েছে। তবে এবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নিছকই কোনও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং একে এক সাংস্কৃতিক মহোৎসবের রূপ দিতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিনও বেছে নেওয়া হয়েছে পঁচিশে বৈশাখ, কবিগুরুর জন্মজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নেকে। সেখানে থাকবে বাংলার শিল্প-কৃষ্টি সংস্কৃতির ছাপ। কবিগুরুকে সম্মান জানিয়েই শুরু হবে শপথগ্রহণ। খাবারে থাকবে বাঙালি ডিশ। সঙ্গে ঝালমুড়ি ও বর্ধমানের সীতাভোগ, মিহিদানা। সূত্রের খবর, শপথের মঞ্চে প্রতিশ্রুতি মতো প্রধানমন্ত্রীকে সীতাভোগ খাওয়াতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।









Comments