মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য কমিশনারের নিয়োগ কমিটি থেকে দেশের প্রধান বিচারপতি বাদ কেন, সংসদে প্রশ্ন রাহুলের
- The Conveyor
- Dec 9, 2025
- 2 min read

৯ ডিসেম্বর, ২০২৫: এসআইআর নিয়ে আলোচনা চলাকালীন মঙ্গলবার লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ করার কমিটি থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সিলেকশন বিধি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি। লোকসভায় এ দিন দেশের নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা প্যানেল থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতির অপসারণের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন বিরোধী দলনেতা।
কেন্দ্রের সামনে তিনটি প্রশ্ন তুলে নির্বাচনী সংস্কারের কথা বলেন রাহুল। তাঁর প্রশ্ন, কেন মোদী সরকার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য কমিশনারের নিয়োগের কমিটি থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে (সিজেআই) বাদ দিল? দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য কমিশনারের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কেন্দ্রের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কেন সিজেআই-কে নির্বাচন প্যানেল থেকে সরিয়ে দেওয়া হল? আমরা কি তাঁকে বিশ্বাস করি না?’’ রাহুলের দ্বিতীয় প্রশ্নও মোদী জমানায় আনা এক আইনকে কেন্দ্র করে। কংগ্রেস নেতা সেই আইনের কথা উল্লেখ করে বলেন, কোনও নির্বাচন কমিশনারকে তাঁদের সরকারি ক্ষমতাবলে গৃহীত পদক্ষেপের জন্য কেন শাস্তি দেওয়া যাবে না? ২০২৩ সালের ওই আইনের ১৬ নম্বর ধারায় নির্বাচন কমিশনারদের নেওয়া সিদ্ধান্তকে ‘সুরক্ষা’ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, ভোটকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ নিয়ে আইনের কথাও উল্লেখ করেন রাহুল। তাঁর প্রশ্ন, কেন আইনে কমিশনকে ৪৫ দিন পর সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করার অনুমতি দেয়? এর প্রয়োজনীয়তা কী?
এ দিন লোকসভার বিরোধী দলনেতা আসলে ২০২৩ সালের আইনের কথা উল্লেখ করছিলেন, যেখানে একটি বড় পরিবর্তন করা হয়। ভারতের নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনার বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) কে সরিয়ে তিন সদস্যের নির্বাচন প্যানেলে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছিল। এই প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা। এই প্যানেলই রাষ্ট্রপতির কাছে নিয়োগের জন্য নাম সুপারিশ করে। রাহুলের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজেপির, প্রধানমন্ত্রীও বিজেপির। ফলে বিরোধী দলনেতার মতকে গুরুত্বই দেওয়া হয় না প্যানেলে বলে অভিযোগ রাহুলের।
এসআইআর সংস্কারের কাজে কমিশনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে কংগ্রেস। লোকসভায় আলোচনায় মঙ্গলবার কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তিওয়ারি দাবি করেন, এসআইআর করার জন্য কমিশনের কোনও আইনি অধিকার নেই। এ ছাড়াও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের বাছাইয়ের জন্য বর্তমানে তিন সদস্যের যে প্যানেল রয়েছে, তাতে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা এবং দেশের প্রধান বিচারপতিকেও যুক্ত করার প্রস্তাব দেন মণীশ।









Comments