top of page

বারাণসীর ঐতিহ্যবাহী মণিকর্ণিকা ঘাটের সংস্কার নিয়ে চলছে রাজনৈতিক চাপানউতর


১৯ জানুয়ারি, ২০২৬: বারাণসীর ঐতিহ্যবাহী মণিকর্ণিকা ঘাটের সংস্কার নিয়ে চলছে রাজনৈতিক চাপানউতর। সংস্কারের সময় ঘাটের কাঠামো এবং রানি অহল্যাবাঈ হোলকারের শতাব্দী প্রাচীন মূর্তি ভাঙার অভিযোগ উঠেছে যোগী সরকারের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক ছবি। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে যোগী সরকার। উলটে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘এআই’ ছবি ব্যবহারের অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে রবিবার আপ সাংসদ সঞ্জয় সিংহ, বিহারের নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব-সহ আট জনের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এসিপি অতুল অঞ্জন ত্রিপাঠি বলেন, ‘তদন্তে মনিকর্ণিকা ঘাটের এআই দিয়ে তৈরি বিকৃত ভিডিও পোস্টের প্রমাণ মিলেছে। এআই ছবিও দেদার ছড়ানো হয়েছে।’ এফআইআর প্রসঙ্গে সঞ্জয় বলেন, ‘সর্বত্র এই নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরব হতেই আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে। তবে আমি এতে ভীত নই।’ তবে এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দির চত্বরে বেশ কয়েক বছর ধরেই সংস্কারের কাজ চলছে। সম্প্রতি মন্দিরের নিকটবর্তী মণিকর্ণিকা ঘাটে সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হয়। হিন্দু ধর্মে বারাণসীর ৮৪টি ঘাটের মধ্যে মণিকর্ণিকা অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র শ্মশানভূমি হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন শয়ে শয়ে দাহক্রিয়া চলে। তাই মণিকর্ণিকার আগুনকে কখনও নিভতে দেখা যায়নি বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সংস্কারের জন্য বুধবার মণিকর্ণিকা ঘাটের একাংশ ভেঙে ফেলে প্রশাসন। অভিযোগ, এই সময়ে মারাঠা সাম্রাজ্যের রাজমাতা অহল্যাবাঈ হোলকরের শতাব্দী প্রাচীন মূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এছাড়াও আগাম নোটিস দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাল সমাজ সমিতি এবং স্থানীয় মারাঠি সম্প্রদায়ের। বহু প্রাচীন মূর্তিও সংস্কারের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তাদের দাবি।

কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি এই নিয়ে সরব হয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কেবল নিজের নামফলক রাখার ঐতিহাসিক-আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য মুছে ফেলতে চাইছেন।’ সপা প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, ‘পবিত্র কাশীর এই অপমান মানুষ মেনে নেবেন না।’ যদিও শনিবারই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ‘কংগ্রেস মিথ্যে বলছে। এগুলো উন্নয়ন রোখার ষড়যন্ত্র।’ বারাণসী স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র হওয়ায় এই বিতর্ক অন্য মাত্রা পেয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য, ঐতিহ্যবাহী এই ঘাটে পর্যাপ্ত ছাউনি না-থাকায় ঝড়-জল-রোদে অসুবিধার মুখে পড়তেন মৃতের পরিবার-পরিজনেরা। তা ছাড়া স্থানীয়দের দীর্ঘ দিনের অভিযোগ, ধোঁয়া নির্গমনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় দেহ সৎকারের সময় আশপাশে দূষণের সৃষ্টি হয়। তাই এই ঘাটকে কেন্দ্র করে ৯০ হাজার স্কোয়ার ফুট এলাকা জুড়ে সৌন্দর্যায়নের কাজ করতে চায় সরকার। এই কাজে খরচ হবে ২০ কোটি টাকা। সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকল্পে (সিএসআর) এই অর্থ খরচ করছে পশ্চিমবঙ্গের একটি সংস্থা। সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। যদিও এই গোটা বিষয় নিয়ে বারাণসীর সাংসদ ও দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখনও নীরব।


 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page