top of page

বারুইপুরের ঘটনায় যুক্ত হলো গণধর্ষণের ধারা, গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত সহ ৩

কলকাতা, ৬ জুলাই, ২০২৬: বারুইপুরের ঘটনায় যুক্ত হলো গণধর্ষণের ধারা। পাশাপাশি সোমবার দুই ধৃতকে ১৪ দিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বারুইপুরের ঘটনায় একাধিক ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন দেওয়া হয়েছে। বারুইপুরে কিশোরীর দেহ উদ্ধারের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে গণধর্ষণের মামলা রুজু হল। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আনন্দ সর্দারকে বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। দু’জনকে সোমবার আদালতে হাজির করানো হয়। তাদের ১৪ দিনের হেফাজতে চায় পুলিশ। আদালত তা মঞ্জুর করেছে। মূল অভিযুক্তকে আগামীকাল আদালতে তোলা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। এরপর তদন্তের অগ্রগতিতে দিবাকর সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার আরও এক অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এই মামলায় পকসো ধারা যুক্ত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে শুনানি হতে পারে কি? সোমবার দুই অভিযুক্তের পক্ষে কোনও আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। সোমবার বারুইপুর আদালতে সরকারি আইনজীবী সওয়াল করে জানান, এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা। তদন্তের স্বার্থে এখনও গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করানো বাকি রয়েছে। পাশাপাশি, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিন ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে ইঙ্গিত, যৌন হেনস্থা ও মাথায় আঘাত করার পরে অচেতন নাবালিকাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সূত্রের খবর, নাবালিকার মাথায় ক্ষত রয়েছে। কোনও জায়গায় ঠুকে দেওয়ার ফলে বা ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করার ফলে ওই ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি যৌনাঙ্গেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে অ্যান্টিমোর্টেম ড্রাউনিং অর্থাৎ মাথায় আঘাতের পরে পুকুরে ফেলার সময়েও নাবালিকা বেঁচে ছিল। ময়নাতদন্তে ওই নাবালিকার পাকস্থলী ও ফুসফুসে জল মিলেছে। মাথার ক্ষত থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং জলে ডুবেই শেষ পর্যন্ত নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে। এই ঘটনা ঘিরে রবিবার দিনভর প্রতিবাদের আগুন জ্বলে এলাকায়। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে একজনকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলে উত্তেজিত জনতা। মৃতের নাম ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬)। এদিকে বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি। একটি ভাইরাল ভিডিওতে ধৃত প্রভাস মণ্ডলকে বলতে শোনা গিয়েছে, “মেয়েটি চিৎকার করছিল। ওর গলায় পা তুলে ধরে তারপর টেনে নিয়ে বাগানের মধ্যে চলে যায় আনন্দ ও তার তিন বন্ধু।” ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাসের বয়ান ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে।

যে পুকুর থেকে ১২ বছরের মেয়ের নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেই পুকুর থেকেই এক ব্যক্তির দেহ পাওয়া গেল সোমবার। এই ঘটনার সঙ্গে নাবালিকার গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।


মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘জঘন্যতম’ যে অপরাধ হয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ‘‘বাবা যা যা চেয়েছেন, সব করবে মুখ্যমন্ত্রী। আমি খুশি, ওঁরা আস্থা রেখেছেন।’’ কিশোরীর বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার তাঁকে ভবানীভবনে যেতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবারই শুভেন্দুর বারুইপুরে যাওয়ার কথা।



 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page