ফের খবরে জোড়াফুল: ২১ জুলাই ন্যায়বিচার হয়নি- মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি কাকলির, তৃণমূল কার্যালয় দখল নব্য তৃণমূলীদের
- The Conveyor
- Jul 3
- 2 min read

কলকাতা, ৩ জুলাই, ২০২৬: তৃণমূলের ২১ জুলাই নিয়েও চিঠি গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। চিঠি পাঠালেন সদ্য তৃণমূল থেকে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ৩৩ বছর আগের ঘটনা নিয়ে বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন তিনি। ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেসের কর্মসূচিতে গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্তদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে আড়াল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ কাকলির। সেই সঙ্গে তাঁর এ-ও অভিযোগ, ওই বর্বরোচিত ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্ত।
শুভেন্দুকে লেখা চিঠিতে মোট ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিন পাতার চিঠিতে কাকলি সরাসরি তৃণমূলকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে কাকলি নির্দিষ্ট কতগুলি দাবি জানিয়েছেন। প্রথমত, নতুন করে তদন্ত শুরু হোক। দ্বিতীয়ত, জ্যোতি বসুর সরকারের আমলে চিহ্নিত দোষী ব্যক্তি, পুলিশ আধিকারিক ও আমলাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ধারায় চার্জশিট গঠন করুক সরকার। তৃতীয়ত, মমতার জমানায় যে ২১ জুলাই কমিশন গঠন করা হয়েছিল, তার রিপোর্ট সর্বসমক্ষে আনা হোক। চতুর্থত, দোষী হয়েও যাঁরা পুরস্কৃত হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে হবে। পঞ্চমত, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক কোনও সংস্থার সাহায্য নিয়ে এই তদন্ত সম্পন্ন করুক রাজ্য সরকার।
২০১১ সালে মমতা ক্ষমতায় আসার পরে একাধিক কমিশন তৈরি করেছিলেন মমতা। তার মধ্যে অন্যতম ছিল ২১ জুলাই কমিশন। যার মাথায় ছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু ১৯৯৩ সালে বাম সরকারের আমলে যেমন গুলিতে নিহত ১৩ জন যুব কংগ্রেসকর্মীর পরিবার বিচার পায়নি, তেমনই ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে তৃণমূল সরকারও নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। মামলাটি পুনরায় খোলা হয়নি বা কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ৩৩ বছর পরেও নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। তাই ওই মামলার পুনরায় তদন্ত ও রিপোর্ট প্রকাশের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি তুলেছেন তৃণমূলের ‘বিক্ষুব্ধ’ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ক্ষমতায় আসার পরেও মামলা ‘রিওপেন’ বা কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। বরং কমিশনের সুপারিশে নাম থাকা মণীশ গুপ্তকে প্রথমে ভোটে দাঁড় করিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী এবং পরে রাজ্যসভার সাংসদ করা হয়। পাশাপাশি, লালবাজার ও রাইটার্স বিল্ডিং থেকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি নিখোঁজ হওয়ার পরে, তা উদ্ধারে বা যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের।
এদিকে শুক্রবার মেট্রোপলিটন দলীয় কার্যালয় ‘দখল’ করেন ঋতব্রতেরা। ভবনের বাইরের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা। সঙ্গে করে চাবি নিয়ে চলে যান। শুক্রবার ঋতব্রত শিবিরের আখরুজ্জামান বলেন, ‘‘আমরাই তৃণমূল। এটা আমাদের কার্যালয়। এই কার্যালয়ের সঙ্গে তৃণমূলের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে।’’ এ-ও জানান, তাঁরা মালিকের সঙ্গে কথা বলেছেন। ভাড়া-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। খবর পেয়েই ওই কার্যালয়ে পৌঁছে যান কুণাল। ঘটনাচক্রে, এই পার্টি অফিসটি কুণালের বিধানসভা এলাকার মধ্যেই পড়ে। কুণাল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘দখলদারির সংস্কৃতি চলছে। সরকার এবং পুলিশের প্রত্যক্ষ মদতে একজন বহিষ্কৃত বিজেপির বি টিম হয়ে নেমেছে।’’ মেট্রোপলিটনের পার্টি অফিস জুড়ে মমতার ছবি, কাটআউট রয়েছে। ঋতব্রতেরা যদিও সেই সব ছবিতে হাত দেননি। তাঁরা স্পষ্ট জানান, মমতাকে পরামর্শদাতা হিসাবে চান। বুঝিয়ে দেন, মমতাকে সামনে রেখেই এগোতে চান তাঁরা।
কুণালেরা পৌঁছোনোর কিছু ক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও। কার্যালয় ‘দখল’ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কুণালকে কথা বলতে দেখা যায়। তবে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিক কুণালদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁরা কখনই তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকতে পারবেন না। তালা খুলে যদি ঢুকতে চান, তাতে পুলিশের কোনও আপত্তি নেই। কুণাল জানান, কী হয়েছে পুরো বিষয়টি বোঝার পরেই দলীয় নেতৃত্বকে জানাবেন তিনি।









Comments