top of page

প্রয়াত মুকুল রায়


কলকাতা, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: প্রয়াত মুকুল রায়। বঙ্গ রাজনীতির 'চাণক্য' হিসেবে পরিচিত মুকুল রায় দীর্ঘদিন ধরে রোগে ভুগছিলেন। আজ ভোররাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে দলের সংগঠন গড়ে তোলার নেপথ্যে তাঁর অবদান ছিল অপরিসীম। যদিও রাজনীতিতে তাঁর পদার্পণ কংগ্রেসের হাত ধরে।

দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত ছিলেন মুকুল রায়। পরে বিজেপিতে গিয়ে তৃণমূলের অনেক তাবড় নেতাকে ভাঙিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর বেশ অবদান ছিল। মুকুল রায় ২০১২ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছিলেন। তার আগে তিনি দ্বিতীয় ইউপিএ মন্ত্রীসভায় তিনি জাহাজ প্রতিমন্ত্রীও হয়েছিলেন। ২০০৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। বিজেপিতে যোগদানের পরে তিনি দলের সর্বভারতীয় সহসভাপতি পদে ছিলেন। অবশ্য শেষে ফের তৃণমূলে ফিরেছিলেন তিনি। তবে বিধায়কপদ থেকে ইস্তফা দেননি। ফলে তৃণমূলে যোগ দিলেও মুকুল খাতায়কলমে বিজেপি বিধায়ক হয়েই থেকে গিয়েছিলেন। তাঁকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যানও করা হয়েছিল। তাঁর বিধায়কপদ খারিজের মামলা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। কলকাতা হাই কোর্ট খারিজের রায় দিলেও সেই সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

যুব কংগ্রেস থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সঙ্গী। ২০১৭ সালে তৃণমূলে সাসপেন্ডেড মুকুল রায় যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। ২০২১-এ ‘ঘরওয়াপসি’ও হয়েছিল। কিন্তু মুকুল আর কোনও দিনই স্বমহিমায় ফেরেননি। দীর্ঘ দিনই নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। ৬০০ দিন ধরে বাইপাসের ধারে এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুকুল। শুধু তৃণমূল নয়, বিজেপি,কংগ্রেস-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল মুকুলের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে। প্রয়াত বিধায়ককে ‘অভিজ্ঞ নেতা’ এবং ‘সহকর্মী’ বলে উল্লেখ করে মুকুল-পুত্রকে সমবেদনা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলে ফেরার পর আর সে ভাবে মুকুলকে সক্রিয় ভাবে দেখা যায়নি। বাদ সাধে তাঁর শারীরিক অবস্থা। নানা রোগ বাসা বাঁধে তাঁর শরীরে। এক সময় আর ঘর থেকে বার হওয়ার ক্ষমতা ছিল না মুকুলের। বার বার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হত। কোমাতেও চলে যান তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।

মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে মুকুলের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মুকুল রায়জির মৃত্যুতে আমি শোকাহত। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সমাজসেবামূলক উদ্যোগের জন্য তিনি স্মরণীয় থাকবেন।” শোকজ্ঞাপন করেছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেও।

সোমবার সন্ধ্যায় হালিশহরের শ্মশানে কাঠের চুল্লিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হল মুকুল রায়ের। বিধানসভা থেকে তাঁর দেহ নিয়ে আসা হয় কাঁচরাপাড়ায় তাঁর বাসভবন ‘যুগল ভবনে’। তার বাইরে বেশ কিছু ক্ষণ শায়িত ছিল রাজনীতিকের দেহ। ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরে সেখান থেকে মুকুলের দেহ নিয়ে যাওয়া হয় হালিশহরের শ্মশানে। সেখানেই সম্পন্ন হয় শেষকৃত্য। প্রায় আট কিলোমিটার রাস্তায় মুকুল রায়ের বাসভবন থেকে হালিশহর মহাশ্মশান পর্যন্ত একটি শোকমিছিল করা হয়। আশেপাশে ছিলেন অগুনতি মানুষ। পদযাত্রায় মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের সঙ্গে শ্মশান পর্যন্ত গেলেন অভিষেকও। মুকুলপুত্র শুভ্রাংশুর সঙ্গে আগাগোড়া থেকেছেন অভিষেক। শেষকৃত্যের সময়েও ছিলেন তিনি। সন্ধ্যা সওয়া ৭টা নাগাদ শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় মুকুলের।



 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page