top of page

পুরীতে ঐতিহাসিক রথযাত্রা উৎসবের মধ্যে ভক্তদের প্রবল ভিড়ের চাপে দুই ভক্তের মৃত্যু, আহত অনেক


১৬ জুলাই, ২০২৬: ওড়িশার পুরীতে ঐতিহাসিক রথযাত্রা উৎসবের মধ্যেই ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। ভক্তদের প্রবল ভিড়ের চাপে দুই ভক্তের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অন্তত ২০০ জন পুণ্যার্থী। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ওড়িশা পুলিশের তরফে সমাজমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভিড়ের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়া ৩৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করানো হয়েছে।




পুরীর বড়দণ্ডে (গ্র্যান্ড রোড) বৃহস্পতিবার রথদর্শনের অপেক্ষায় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। গত বছরের বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার প্রশাসনের তরফে ছিল পর্যাপ্ত ও বাড়তি সতর্কতা। তবুও বিপত্তি এড়ানো গেল না। ভিড়ে ঠেলাঠেলির কারণে দুপুরেই ৩৩ জন ভক্তের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর এসেছিল। তাঁদের তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করানোয় কোনও বিপদ ঘটেনি। কিন্তু বিকেল গড়াতেই বাড়ে আরও ভিড়। আর তাতেই তৈরি হয় পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি। মারাত্মক ভিড়ের কারণে শ্বাস নিতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি পুণ্যার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ডিহাইড্রেশন এবং ভিড়ের চাপেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য পুরীর জেলা হাসপাতাল-সহ একাধিক মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তি করানো হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে কয়েকজনকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে, তবে বাকিদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।



ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে পুরীতে মোট ২৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃহস্পতিবারও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। ভারী বৃষ্টির জেরে জল জমে যাওয়াকে প্রশাসনের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। টানা বৃষ্টির মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ পুরীর গ্র্যান্ড রোডে নেমে রথ টানেন, কীর্তন করেন এবং উৎসবে অংশ নেন।




নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এবার নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। উৎসব উপলক্ষে মোতায়েন করা হয় ১৯ জন আইপিএস আধিকারিক এবং প্রায় ১৩ হাজার পুলিশ কর্মী। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৫টি কোম্পানিও নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। প্রযুক্তির ব্যবহারেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্র্যান্ড রোড এবং সংলগ্ন এলাকায় ৪৭৩টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। দুটি অত্যাধুনিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার থেকে পুরো পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি এবং ড্রোন-জ্যামিং ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মৃত্যু এড়ানো গেলনা। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলেও প্রশাসনের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।


 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page